Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রাজ্যের সরকার স্কুলগুলিতে পড়াশোনার মানোন্নয়নে জোর, পড়ুয়াদের মেধা ও ব্যবহার দেখে দেওয়া হবে রেটিং

রাজ্যের সরকার স্কুলগুলিতে পড়াশোনার মানোন্নয়নে জোর, পড়ুয়াদের মেধা ও ব্যবহার দেখে দেওয়া হবে রেটিং
  • ১৯ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির মতো এবার সরকার নিয়ন্ত্রত স্কুলগুলিতে প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ুয়াদের রেটিং দেওয়া হবে। শুধু পড়াশোনার মান নয়, দেখা হবে পড়ুয়ারা কতটা মুক্তমনা হয়ে উঠেছে বা কতটা শৃঙ্খলাপরায়ণভাবে চলছে। এছাড়া সে অন্যের প্রতিটি কতটা শ্রদ্ধাশীল, তার মধ্যে সততা বোধ রয়েছে কি না এই বিষয়গুলিও দেখা হবে। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রতিমাসে পড়ুয়াদের মূল্যায়ন করা হবে। শিক্ষাদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ছাত্রছাত্রীদের কোনও বিষয়ে শেখার প্রতি কতটা আগ্রহ রয়েছে, তার লেখার ক্ষমতা কেমন রয়েছে এসব কিছুই গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।

Advertisement

প্রাথমিক ও জুনিয়র হাইস্কুলগুলিতে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। শহরের স্কুলগুলিতে পড়ুয়ার সংখ্যা অনেক আগেই কমেছিল। এখন গ্রামের স্কুলগুলিতেও একই ছবি দেখা যাচ্ছে। গ্রামের অভিভাবকরাও ছেলেমেয়েদের শহরের বেসরকারি স্কুলে ভর্তি করছে। এই সব কারণের জন্য‌ প্রাথমিক স্কুলগুলির শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য শিক্ষাদপ্তর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক আয়েশা রানি এ বলেন, শিক্ষার মান উন্নয়ন ও ড্রপআউট কমাতে প্রতিটি সার্কেলের এসআইদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে।  স্কুল শিক্ষক বাপ্পাদিত্য বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আগে প্রথম শ্রেণির পড়ুয়াদের দিকে তেমন নজর দেওয়া হতো না। এখন তাদেরকেও রেটিংয়ের আওতায় আনা হবে। প্রথম থেকে চতুর্থ শ্রেণির পড়ুয়াদের প্রতিটি বিষয় খুঁটিয়ে দেখা হবে। তারা কেমন বাক্য গঠন করতে পারছে বা পাঠ্য পুস্তকের বিষয়গুলি তারা কতটা বুঝতে পারছে তার উপর নম্বর পাবে।
শিক্ষাদপ্তর সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, স্কুলগুলিকে প্রথাগত প্রথার বিরুদ্ধে বেরিয়ে আসতে বলা হয়েছে। ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে ইকো, মিউজিক, ডিজিটাল, ক্যুইজ ক্লাব তৈরি করার জন্য বলা হয়েছে। শিশু সংসদ তৈরি করার পরামর্শ দেওয়া হয়ছে। ছাত্রছাত্রীদের লেখার মান উন্নত করার জন্য ‘ওয়াল ম্যাগাজিন’এ জোর দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে বিভিন্ন ধরনের সেমিনার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এক আধিকারিক বলেন, এতদিন দেখা যেত চতুর্থ শ্রেণি পাশ করার পরও অনেকে বাক্য গঠন করতে পারত না। অনেকে নিজের ঠিকানা লিখতেও হোঁচট খেত। প্রথম শ্রেণি থেকে তাদের উপর নজর দেওয়া হতো না। এবার শিক্ষক-শিক্ষিকারা তা করতে বাধ্য হবেন। কারণ অধিকাংশ ছাত্রছাত্রীর রেটিং খারাপ হলে তাদেরকেও প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে। পড়ুয়াদের পাঠ্য পুস্তকের বাইরেও বাইরের জগৎ সম্পর্কে ধারণা থাকা দরকার। তার জন্য স্কুলে বিভিন্ন ধরনের সেমিনার করার জন্য বলা হয়েছে। একজন ছাত্র বা ছাত্রীর মধ্যে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা কতটা তৈরি হয়েছে সেটাও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ