নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিগত ২৫ বছরে নির্বাচন ও তার পরবর্তী রাজনৈতিক হিংসায় নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে বড়ো পদক্ষেপ নিচ্ছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। নবান্ন সূত্রে খবর, এই সব পরিবারের একজন করে যোগ্য সদস্যকে সরকারি চাকরি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য। এবিষয়ে আইন দপ্তরের ছাড়পত্রও পাওয়া গিয়েছে। শীঘ্রই সরকারি বিজ্ঞপ্তি ও বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা হবে।
রাজ্যের এই পদক্ষেপের জেরে ২০০১ সাল থেকে রাজনৈতিক কারণে কোনো ব্যক্তির মৃত্যু হয়ে থাকলে, তাঁর পরিবারের একজনকে চতুর্থ শ্রেণির কর্মী হিসাবে রাজ্য সরকার চাকরি দেবে বলেই জানা গিয়েছে। এই সময়কালে ছ’টি বিধানসভা এবং পাঁচটি লোকসভা নির্বাচন ছাড়াও একাধিক পুরসভা-পঞ্চায়েত ভোটকে কেন্দ্র করে হিংসার সাক্ষী থেকেছে রাজ্যবাসী। তবে বামফ্রন্ট ও তৃণমূল—উভয় জমানায় রাজনৈতিক হিংসার বলি হয়েছেন, এমন সমস্ত পরিবারের পাশেই দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বর্তমান সরকার। আগেই বিধানসভা সহ একাধিক মঞ্চ থেকে রাজনৈতিক হিংসায় মৃতদের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবারও বারুইপুরে ভোট-পরবর্তী হিংসা নিয়ে সুর সপ্তমে তোলেন তিনি। বলেন, ‘যাঁরা ভোট-পরবর্তী হিংসার শিকার হয়ে এখনও কোনো অভিযোগ দায়ের করেননি, তাঁরা এখনই করুন। পুলিশমন্ত্রী হিসাবে এই অপরাধীদের জেলে পাঠানো আমার দায়িত্ব।’
এরাজ্যে নির্বাচনি হিংসার ইতিহাস দীর্ঘ। গড়বেতা-কেশপুর হোক বা নন্দীগ্রাম-নেতাই—রক্তক্ষয়ী রাজনৈতিক সংঘর্ষের স্মৃতি আজও ফিকে হয়নি। ২০০১ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক সংঘর্ষ তো বটেই, ২০০৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনেও প্রায় ৮০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ২০০৮-এর পঞ্চায়েত নির্বাচনে প্রাণ গিয়েছিল ৪৫ জনের। ২০১১ সালে বামেরা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরও অব্যাহত থেকেছে রাজনৈতিক হানাহানি। ২০১৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে মৃত্যু হয় ৩১ জনের। ২০১৯’এর লোকসভা ভোটেও রাজ্যের একাধিক এলাকায় রাজনৈতিক সংঘর্ষ ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছিল। আবার ২০২২ সালে বীরভূমের বগটুইয়ে এক তৃণমূল নেতার হত্যার পর একাধিক বাড়িতে আগুন লাগানোর ঘটনায় অন্তত আটজনের মৃত্যু হয়। ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী হিংসা এবং ২০২৩-এর পঞ্চায়েত নির্বাচনে ৩৫ জনের মৃত্যু বড় ইস্যু ছিল বিরোধীদের কাছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, নিহতদের পরিবারের একজন সদস্যকে হোমগার্ডের চাকরি দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারও। তবে তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে বাছাই করে মৃত তৃণমূল কর্মীদের পরিবারের সদস্যদের চাকরি দেওয়ার অভিযোগ তুলেছিল তৎকালীন বিরোধীরা। বর্তমান সরকার অবশ্য সেই বিতর্কে যেতে চায়নি। তাই বাম আমল থেকে সদ্য প্রাক্তন তৃণমূল জমানা পর্যন্ত রাজনৈতিক হিংসার বলি হওয়া মাত্রই চাকরির সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।



