এসআইআরে কার কলকাঠি? বিতর্ক, সময়সীমা পেরতেই শুধু মুর্শিদাবাদে হঠাৎ ‘বিচারাধীন’ ১১ লক্ষ!
  • ৩১ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এসআইআর পর্বে পশ্চিমবঙ্গে ভোটার বাদের ‘সুপরিকল্পিত প্লট’ কি রচিত হয়েছিল বহু আগেই? একের পর এক উঠে আসা চাঞ্চল্যকর তথ্যে সেই প্রশ্নই বারবার মাথাচাড়া দিচ্ছে। সবচেয়ে বড়ো প্রশ্ন, রাজ্যে ১৬ লক্ষ ভোটারকে বিচারকরা ক্লিনচিট দেওয়ার পরও কীভাবে তাঁদের নামে আপত্তি জমা পড়ল? কে করল? কার নির্দেশে? এর কোনো সদুত্তর এখনও দিতে পারেনি নির্বাচন কমিশন। বিষয়টি নিয়ে কিছুই জানেন না বলে দাবি করেছেন এসআইআরের দায়িত্বে থাকা বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত। এর মধ্যেই এবার উঠে এসেছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা গিয়েছে, ভোটারদের জমা দেওয়া ইনিউমারেশন ফর্ম ও নথি খতিয়ে দেখার দায়িত্ব ছিল ইআরওদের। তার অনুমোদন বা বিয়োজনের দায়িত্বও ছিল তাঁদের। সেই সিদ্ধান্ত ইআরওরা আইন মেনে সমস্ত নথি সহ ‘ইসিআইনেটে’ আপলোড করার পরও শুধুমাত্র মুর্শিদাবাদে ১১ লক্ষ ১ হাজার ১৪৫ জন ভোটারের নাম চলে গিয়েছিল ‘বিচারাধীন’ তালিকায়। কিন্তু কোন জাদুমন্ত্রে, কার কলকাঠিতে এই বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় থাকার পরিবর্তে ‘বিচারাধীন’ হয়ে গেল, স্বাভাবিকভাবে তা নিয়ে কোনো উত্তর নেই জ্ঞানেশ কুমারদের। 

Advertisement

ইনিউমারেশন পর্বে ভোটারদের যাবতীয় নথি খতিয়ে দেখে (প্রয়োজনে শুনানির পর) তা কমিশনের বিতর্কিত পোর্টাল ‘ইসিআইনেটে’ আপলোডের দায়িত্ব ছিল ইআরও এবং এইআরওদের উপর। সেই সময়সীমা ছিল গত ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। সূত্রের খবর, ২১ তারিখ রাত ১০টার মধ্যে যাবতীয় ভোটারের নথি আপলোডের কাজ শেষ করে ফেলেছিলেন দায়িত্বে থাকা ইআরওরা। এই জেলার মোট ২২টি কেন্দ্রের ১৮ লক্ষ ৮৪ হাজার ৭৭২ জন ভোটারকে শুনানিতে ডাকা হয়েছিল। তার মধ্যে নথি খতিয়ে দেখে ১৮ লক্ষ ৩০ হাজার ৪৫ ভোটারের নাম চূড়ান্ত তালিকায় প্রকাশের জন্য অনুমোদন দিয়েছিলেন ইআরওরা। মাত্র ৪১ হাজার ২১৪ জনের নথি অপর্যাপ্ত বা তাঁদের ‘অযোগ্য’ বলে গণ্য করা হয় (ইনএলিজিবল)। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর দেখা যায়, এই জেলায়  মোট ১১ লক্ষ ১ হাজার ১৪৫ জন ভোটারের নাম রাখা হয়েছে ‘বিচারাধীন’ তালিকায়। কীভাবে এমনটা হয়েছিল, তা নিয়ে তাজ্জব খোদ ইআরওরাই। অনেকেরই বক্তব্য, যা হয়েছে ইআরওনেটের মাধ্যমে, যা ‘ইসিআইনেট’ ওয়েবসাইটেরই একটি অংশ। সবটাই লুকিয়ে আছে তার অন্দরে। আরও জানা গিয়েছে, ১৪ ফেব্রুয়ারি ছিল শুনানির শেষ দিন। ওই দিনের মধ্যেই যাবতীয় নথি ওয়েবসাইটে আপলোড  হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অভিযোগ, ১৪ ফেব্রুয়ারি হঠাৎই ওয়েবসাইট কাজ করা বন্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে ইআরও এবং এইআরওরা আর লগ ইন করে ভোটারের কোনো নথি আপলোড করতে পারেননি। পরবর্তীতে যা হয়েছে, সবটাই করেছেন মাইক্রো অবজার্ভার এবং রোল অবজার্ভারা। আর বিশেষ পর্যবেক্ষক হিসাবে মাথায় ছিলেন আইএএস অফিসার তথা বর্তমানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রধান উপদেষ্টা সুব্রত গুপ্ত। তিনি অবশ্য দাবি করেছেন, বিচারকরা ক্লিনচিট দেওয়ার পরও ১৬ লক্ষ ভোটারের নাম সিইও দপ্তর ট্রাইবুনালে পাঠিয়েছিলেন কি না, সে ব্যাপারে তাঁর কাছে কোনো তথ্য নেই। যা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন তুলেছেন, যদি বিষয়টি নিয়ে সুব্রত গুপ্ত কিছু না জেনে থাকেন, তাহলে দায় কার? নির্বাচনি স্বচ্ছতা আর গণতন্ত্র বাঁচাতে তাহলে কি সুপ্রিম কোর্ট হস্তক্ষেপ করবে?