নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: মদ্যপানের প্রতিবাদ করায় রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার এক কর্তব্যরত কর্মীকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে একদল মদ্যপ যুবকের বিরুদ্ধে। মদের বোতল দিয়ে মেরে ওই কর্মীর মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। শনিবার রাতে ঘটনাটি ঘটে হাওড়ার লিলুয়ার চকপাড়া এলাকায়। রবিবার তিন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গুরুতর আহত অবস্থায় কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী নামের ওই কর্মী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার রাতে লোডশেডিংয়ের খবর পেয়ে লিলুয়া চকপাড়া এলাকায় যান ডব্লুবিইসিডিসিএলের ভট্টনগর অফিসের তিনজন কর্মী। সেখানে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সমস্যা মিটিয়ে গাড়ি নিয়ে একটি গলির ভিতর দিয়ে ফিরছিলেন তাঁরা। সেই সময় রাস্তায় বসে কয়েকজন যুবককে মদ খেতে দেখেন বিদ্যুৎ কর্মীরা। গাড়ি এগনোর রাস্তা না থাকায় ওই যুবকদের সরতে বলেন তাঁরা। অভিযোগ, সরতে বলায় অভিযুক্তরা বিদ্যুৎ সংস্থার কর্মীদের উপর চড়াও হয় ও অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। প্রকাশ্যে মদ্যপানের প্রতিবাদ করেন বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী। এরপর তাঁকে গাড়ি থেকে টেনে বের করে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। মদের বোতল দিয়ে তাঁর মাথায় ও চোখের পাশে মেরে রক্তাক্ত করে দেওয়া হয়। প্রতিবাদ করতে গেলে মারধর করা হয় বিশ্বজিৎবাবুর সঙ্গে থাকা বাকি দু’জনকেও। এরপর চম্পট দেয় অভিযুক্তরা। খবর পেয়ে সেখানে যায় লিলুয়া থানার পুলিশ। গুরুতর জখম অবস্থায় বিশ্বজিৎবাবুকে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি। তাঁর চোট গুরুতর বলে জানা গিয়েছে।
শনিবার রাত থেকেই অভিযুক্তদের খোঁজ শুরু করে পুলিশ। রবিবার তাদের মধ্যে আমন সিং, কৌশিক কাওয়াত ও অভিষেক রায় নামের তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের হেপাজতে নিয়ে বাকিদের খোঁজ চালাচ্ছে পুলিশ। চকপাড়া এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, ‘সন্ধ্যার পর মাঝেমধ্যেই রাস্তায় আলো থাকে না। যেখানে সেখানে মদের ঠেক বসে। বাইরে থেকে যুবকরা এসে মদ্যপান ও অন্যান্য নেশা করছে।’ হাওড়া সিটি পুলিশের এক কর্তা বলেন, ‘তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।’