কৌশিক ঘোষ, কলকাতা: রাজ্য সরকারের অনুদানে চলা বৃত্তিমূলক কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির প্রায় ১০ হাজার শিক্ষক-প্রশিক্ষকের শিক্ষাগত যোগ্যতা, বয়সের সার্টিফিকেট প্রভৃতি যাচাই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। বামফ্রন্ট সরকারের আমলে নিযুক্তদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ঠিকঠাক আছে কি না সেটা খতিয়ে দেখতেই এই উদ্যোগ। যোগ্যতা যাচাই করার পর এঁদের বেতন বৃদ্ধির ব্যাপারে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে। প্রথমে সকলের সার্টিফিকেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠনের মাধ্যমে অনলাইনে নির্দিষ্ট পোর্টালে আপলোড করতে হবে। তারপর অরিজিনাল সার্টিফিকেটের ফিজিকাল ভেরিফিকেশন করাতে হবে নির্দিষ্ট কেন্দ্রে হাজির হয়ে। কোন কেন্দ্রে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের যেতে হবে তা নির্দিষ্ট করে দিয়েছে কারিগরি শিক্ষাদপ্তর। বিভিন্ন পলিটেকনিক কলেজে ২০ নভেম্বর থেকে ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া চলবে।
এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে ক্লাস এইট পাশ শিক্ষার্থীদের জন্য স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্স এবং বৃত্তিমূলক উচ্চ মাধমিক (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি) পড়ানো হয়। রাজ্যে এই ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রায় ২,৭০০। চুক্তিতে নিযুক্ত শিক্ষক-প্রশিক্ষকদের মাধ্যমে এখানে পাঠদান করা হয়। এই শিক্ষক-প্রশিক্ষকরা বেতন বৃদ্ধির দাবি জানাচ্ছেন অনেকবছর যাবৎ। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারীরাও বহুবছর ধরে মাসে মাত্র ৮-১০ হাজার টাকা বেতনে কাজ করছেন! ইঞ্জিনিয়ারিং ও কৃষিবিজ্ঞানে ডিগ্রিধারীরাও এরকম কম বেতনে কাজ করেন সেখানে। শিক্ষাক্ষেত্রে চুক্তিতে নিযুক্ত বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের বেতন বেড়েছে বিজেপি সরকার আসার পর। কিন্তু সেখানে বঞ্চিত বৃত্তিমূলক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি। শিক্ষক সংগঠনগুলির প্রতিনিধি এবং কারিগরি শিক্ষাদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শিক্ষক-প্রশিক্ষকদের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনেক খামতি ছিল। তা যাচাই করার পর বেতন বৃদ্ধির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সেই প্রক্রিয়াই এবার শুরু হতে চলেছে। মনে করছে সংগঠনগুলি।
বাম জমানায় ২০০৪-০৫ নাগাদ বৃত্তিমূলক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে শিক্ষক-প্রশিক্ষক নিয়োগ করা হয়। সরাসরি নিয়োগে শিক্ষাগত যোগ্যতাও নির্দিষ্ট করে দিয়েছিল সরকার। স্বল্প মেয়াদের বৃত্তিমূলক কোর্স করানোর জন্য যেসব প্রশিক্ষক নেওয়া হয় তাঁদের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছিল: উচ্চ মাধ্যমিক পাশ, সঙ্গে এনসিভিটি স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান থেকে কারিগরি শিক্ষার কোর্স উত্তীর্ণ। অন্যদিকে, উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে পড়ানোর ক্ষেত্রে শিক্ষকদের যোগ্যতামান ছিল: অনার্সসহ স্নাতক অথবা পিজি ডিগ্রি। কিন্তু তখন এমন অনেক প্রশিক্ষক নিয়োগ করা শুধুমাত্র মাধ্যমিক উত্তীর্ণ এবং অস্বীকৃত কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে ট্রেনিংপ্রাপ্ত। শিক্ষক পদে নেওয়া হয় ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিপ্লোমাধারীদেরও। বিশেষ সূত্রের খবর, আড়াই-তিন হাজার শিক্ষক-প্রশিক্ষকের শিক্ষাগত যোগ্যতায় খামতি রয়েছে। তাঁদের যোগ্যতামান যাচাই করা হবে নতুনভাবে। যাঁদের উপযুক্ত শিক্ষাগত যোগ্যতা নেই, তাঁদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ এখন নবান্নের হাতে।



