নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নতুন কীর্তি! এসআইআরের নতুন ম্যাজিক। রাজস্থানে এসআইআরের পর চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় ‘মৃত’ দেখিয়ে বাদ দেওয়া হয়েছিল ৮ লক্ষ ৭৫ হাজার নাম। কিন্তু সেরাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় দেখা যাচ্ছে, এর মধ্যে প্রায় ২ লক্ষ ভোটারকে জীবিত অবস্থায় মেরে ফেলেছে নির্বাচন কমিশন। কারণ, তাঁরা আসলে দিব্যি বেঁচেবর্তে রয়েছেন। ‘দ্য রিপোর্টার্স কালেকটিভ’ এই তদন্ত করেছে বিগত কিছু মাস ধরে। যাবতীয় পরিসংখ্যান নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছিল তারা। এব্যাপারে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়ে নথিপত্র প্রমাণ হিসাবে পাঠালেও কোনো জবাব আসেনি। জ্ঞানেশ কুমার কিংবা নির্বাচন কমিশন পুরোপুরি নীরব। এসআইআরের এই বেনিয়ম ফাঁস হতেই তোলপাড় শুরু হয়েছে দেশজুড়ে। সরব বিরোধীরা। কংগ্রেস বলেছে, আর কত খেলা দেখাবে নির্বাচন কমিশন? দলের এমপি জয়রাম রমেশ বলেছেন, ‘দিনের পর দিন নির্বাচন কমিশনের নিষ্ঠুরতা প্রকট হচ্ছে। জীবিত মানুষকে পর্যন্ত মেরে ফেলতে পারে যে প্রতিষ্ঠানের কর্তা, তিনি নিছক অযোগ্য এমন নয়, আসলে অপরাধ আর অনৈতিকতার বিষাক্ত যোগফল।’
২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত সময়সীমায় এসআইআর হয়েছে রাজস্থানে। প্রায় ৩৩ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। সবথেকে উল্লেখযোগ্য হল, এসআইআর চলাকালীন রাজ্য নির্বাচন কমিশনের ভোটার রিভিউও হয়েছে রাজস্থানে। তবে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কোনো গাইডলাইন বা হস্তক্ষেপ ছাড়াই। সেটা স্বাভাবিক। কারণ, পঞ্চায়েত অথবা পুরসভা ভোট পরিচালনা করে থাকে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সেখানে কোনো ভূমিকা নেই। অতএব তাঁর অতি সক্রিয়তা কিংবা বিস্ময়কর সব নতুন নিয়ম-কানুনও নেই। এর অর্থ একটাই—রাজস্থানে পঞ্চায়েত নির্বাচনের জন্য রাজ্য নির্বাচন কমিশন যে ভোটার রিভিউ করেছে, সেটি ছিল স্বাধীন। দিল্লির কমিশনের কাছে পরাধীন নয়। আর তার ফলেই দুই তালিকার পার্থক্য সামনে চলে এসেছে অদ্ভুত এক পরিসংখ্যান নিয়ে। দেখা যাচ্ছে, ২০২৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রাজস্থানে সমাপ্ত হয়েছে এসআইআর। ঠিক চারদিন পর শেষ হয় রাজ্য কমিশনের পৃথক পঞ্চায়েত ভোটার তালিকা রিভিশন। জাতীয় নির্বাচন কমিশনের তালিকায় যে ১ লক্ষ ৮২ হাজারের বেশি ভোটার মৃত, তাঁরাই আবার রাজ্য নির্বাচন কমিশনের তালিকায় জলজ্যান্ত হয়ে বিরাজ করছেন। পঞ্চায়েত নির্বাচনে ভোটার তালিকায় তাদের নাম তুলতে বাধ্য হয়েছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। সেই ভোট গত অক্টোবর মাসে শুরু হয়েছে। শেষ ১৬ নভেম্বর। সেই পর্বেই সামনে এসেছে ‘মৃত’ ভোটারদের বেঁচে ওঠার ঘটনা।
স্বাভাবিকভাবেই এই বিস্ফোরক অভিযোগকে কেন্দ্র করে প্রবল আলোড়ন রাজনৈতিক মহলে। এসআইআরের জেরে ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে ১৩ কোটির বেশি মানুষের নাম বাদ গিয়েছে ভোটার তালিকা থেকে। প্রশ্ন উঠছে, সেখানে ‘মৃত’ চিহ্নিত করে যাদের নাম মুছে দেওয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে প্রকৃতপক্ষে কতজন জীবিত? কংগ্রেসের শামা মহম্মদের সওয়াল, নরেন্দ্র মোদি এবং অমিত শাহের নির্দেশে জ্ঞানেশ কুমারের এই ভোটার ধ্বংস অভিযান বন্ধ হবে কবে?



