নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: পঞ্চায়েতের নিজস্ব আয় বৃদ্ধি করতে এবার ‘স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর’ (এসওপি) আনল পঞ্চায়েত দপ্তর। সেখানে কর সংগ্রহের উপর বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কীভাবে করদাতাদের থেকে ট্যাক্স আদায় করতে হবে, কত তারিখের মধ্যে সেই টাকা সংগ্রহ করা দরকার ইত্যাদি বিষয়ে জানানো হয়েছে। যেমন বলা হয়েছে, গ্রামবাসীদের কর জমা দেওয়ার দিনক্ষণ ঠিক হয়ে গেলে তার তিন সপ্তাহের মধ্যে টাকা জমা দিতে হবে। প্রয়োজনে অফলাইনে টাকা জমা নেওয়ার ব্যবস্থা করবে সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েত। যাঁরা নির্ধারিত সময়ের পরও ট্যাক্স জমা দেবেন না, তাঁদের তালিকা তৈরি করতে হবে পঞ্চায়েতগুলিকে। সেই তালিকা প্রকাশের ১৫ দিন বাদেও যদি কেউ টাকা না মেটায়, তখন পঞ্চায়েত নিজেদের মধ্যে বৈঠক করে টাকা আদায়ের উপায় বার করবে। পঞ্চায়েতের আয় বাড়ানোর জন্য বিধায়কদেরও যুক্ত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কর সংগ্রহের জন্য পঞ্চায়েত এলাকায় একাধিক ক্যাম্প করতে হবে। এছাড়াও রয়েছে নানা পরামর্শ।
কেন এই পদক্ষেপ? জেলায় জেলায় পঞ্চায়েত দপ্তরের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, ষোড়শ অর্থ কমিশনের মাধ্যমে ২০২৮-২৯ থেকে ২০৩০-৩১ সাল পর্যন্ত ২৫২১ কোটি টাকা দেবে কেন্দ্র। এটি আদতে ‘পারফরম্যান্স গ্রান্ট’। তবে এই টাকা পেতে গেলে প্রধান একটি শর্ত হল, প্রত্যেক পঞ্চায়েতকে নিজস্ব আয় বেশ ভালোরকম বাড়াতে হবে। বর্তমানে একটি বাড়ি পিছু বছরে ২৩৩ টাকা করে আয় হয় পঞ্চায়েতের। সেটাই ১২০০ টাকায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে পঞ্চায়েতগুলিকে। যেমন, যেসব রাস্তা, সেতু বা ফেরি থেকে টোল নেওয়া যেতে পারে, সেগুলির তালিকা তৈরি করবে সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েত। পঞ্চায়েত এলাকায় টাকার বিনিময়ে বিজ্ঞাপন বা হোর্ডিং দিতে পারে এমন বেসরকারি সংস্থা বা ব্যক্তিকে খুঁজতে পারে পঞ্চায়েত। পর্যটন, হোমস্টে জাতীয় উদ্যোগ নিয়েও আয় বাড়ানো যেতে পারে। এর পাশাপাশি, পঞ্চায়েতের আয় দিয়ে গ্রামোন্নয়নে কী কী কাজ করা হবে বা হচ্ছে, তা প্রচারের উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। পঞ্চায়েতের নিজস্ব স্থাবর সম্পত্তি যেমন হোটেল, কমিউনিটি হল, ফেরিঘাট, ল্যাবরেটরি প্রভৃতি লিজ দিয়ে আয় অনেকটা বাড়তে পারে বলে মনে করছেন আধিকারিকরা।