ভিক্টর বাগ, কলকাতা: সাতের দশকের শুরুর কথা। সিডনির কয়েকজন প্রবাসী বাঙালি মিলে ঠিক করলেন, নিজেদের একটি সংগঠন করবেন। জন্ম হল বেঙ্গলি অ্যাসোসিয়েশন অব নিউ সাউথওয়েলসের। সে বছরই সংগঠনের উদ্যোগে সিডনিতে সূচনা হল মাতৃ আরাধনার। মাত্র ১৪টি পরিবারের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ১৯৭৪ সালে যে পুজো শুরু করেছিল, আজ তা মহীরূহে পরিণত হয়েছে। উদ্যোক্তাদের দাবি, পৃথিবীর দক্ষিণ গোলার্ধে এটাই সবচেয়ে পুরনো পুজো।
পঞ্চাশ বছরে আড়ে-বহরে বেড়েছে এই পুজো। সংগঠনের অন্যতম সদস্য বাসব রায় জানালেন, বর্তমানে এই পুজোর সঙ্গে ভারতীয় ও বাংলাদেশি মিলিয়ে প্রায় ৪০০ পরিবার যুক্ত। সারা বছর নানা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকেন তাঁরা। তবে এসবের মধ্যে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ অবশ্যই দুর্গাপুজো। ২০২২ সাল পর্যন্ত প্রবাসের অন্য পুজোগুলির মতো এখানেও সপ্তাহান্তে (শনি ও রবিবার) পুজোর চল ছিল। ২০২৩ সাল থেকে বাংলার মতোই তিথি মেনে ষষ্ঠী থেকে এখানে পুজো শুরু হয়ে যায়। চলে পাঁচদিন ধরে। বাসববাবুর কথায়, এখানকার পুজোর তুলনা চলতে পারে উত্তর কলকাতার বাগবাজারের সঙ্গে। বনেদিয়ানা ও সংস্কৃতির মেলবন্ধনে এ পুজো আজ অনন্য। প্রতি তিন বছর অন্তর প্রতিমা বদল করা হয়। পঞ্চাশ বছরের পুজোও হবে নতুন প্রতিমায়।
এই পুজোর মূল আকর্ষণ ‘আনন্দমেলা’। পঞ্চমীর রাতেই পুজো মণ্ডপের সামনে নানাবিধ খাবারের স্টল দেন প্রবাসী বাঙালিরা। নিজের নিজের বাড়িতে রান্না করা খাবার নিয়ে স্টলগুলিতে পসরা সাজিয়ে বসেন। পঞ্চমীর রাতে প্রায় দু’-আড়াই হাজার মানুষ মণ্ডপে আসেন। স্থানীয়দের অংশগ্রহণে জমজমাট হয়ে ওঠে এখানকার অনুষ্ঠান। এই পুজোয় বাঙালিদের পাশাপাশি জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে বহু মানুষ অংশগ্রহণ করেন। আর পুজোর পাঁচদিন? সে এক এলাহি ব্যবস্থা। সকাল-বিকাল সব সময় আনন্দ অনুষ্ঠান লেগেই থাকে। প্রতিদিন প্রায় দেড় হাজার মানুষের জন্য অন্নভোগের ব্যবস্থা করা হয়। অন্নভোগের সেই অনুষ্ঠানে পুজো মণ্ডপ চত্বর বাস্তবিক অর্থেই ‘গ্লোবাল ভিলেজ’ হয়ে ওঠে।