নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: চোরবাগান সর্বজনীনের পুজোমণ্ডপে গতকালের বিপর্যয়ের কারণ কী? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে ব্যস্ত লালবাজার। সেইসঙ্গে নেওয়া হচ্ছে নানা পদক্ষেপ।
লালবাজারের নজরে ভিড় নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থার ভূমিকা। অভিযোগ, চোরবাগানে ভিড় নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষীদের কোনও প্রশিক্ষণ ছিল না। এমনকী, ভিড় নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থার অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতা যাচাই করা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। এই বিষয়টি সামনে আসার পর তড়িঘড়ি পদক্ষেপ করেছে লালবাজার। বিভিন্ন পুজো মণ্ডপে নিযুক্ত বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মীদের প্রশিক্ষণ, অভিজ্ঞতা এবং যোগ্যতা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভিড় সামাল দেওয়ারো মতো পর্যাপ্ত দক্ষতা ও প্রস্তুতি তাঁদের রয়েছে কি না, তা যাচাই করার উপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।
তদন্তের স্বার্থে চোরবাগানের ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে লালবাজার। পাশাপাশি ওই এলাকায় জারি করা হয়েছে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা (আগে যা ছিল আইপিসির ১৪৪ ধারা)। অর্থাৎ পাঁচ বা তার বেশি মানুষের জমায়েতের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে প্রশাসন।
প্রাথমিক তদন্তে কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে পুলিশ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতদের তালিকায় রয়েছেন পুজো কমিটির সম্পাদক ও সহ-সভাপতি, পাশাপাশি একটি বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থার দুই আধিকারিক-সহ আরও কয়েকজন।
অন্যদিকে, চোরবাগানের ঘটনায় রাস্তার উপর স্টল বসানো নিয়েও উঠছে গুরুতর প্রশ্ন। অভিযোগ, প্রায় ২৫ ফুট চওড়া রাস্তার ১৫ ফুটই দখল করে রেখেছিল স্টল। ফলে বেরোনোর জন্য অবশিষ্ট ছিল মাত্র ১০ ফুট রাস্তা। এতটা গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা কীভাবে স্টল বসানোর জন্য দখল করা হল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। একই সঙ্গে, বিষয়টি নজরে আসার পর পুলিশ কেন সংশ্লিষ্ট পুজো কমিটিকে স্টল সরিয়ে রাস্তা ফাঁকা রাখার নির্দেশ দিল না, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে বিতর্ক।
চোরবাগানের এই ঘটনা পুজো মণ্ডপে ভিড় নিয়ন্ত্রণ, বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষীদের প্রশিক্ষণ এবং পুলিশের নজরদারি এই তিনটি বিষয়েই নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। উৎসবের মরশুমে বড় পুজো মণ্ডপগুলিতে নিরাপত্তা ও জরুরি নির্গমনের ব্যবস্থা কতটা কার্যকর, তা নিশ্চিত করাই এখন প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।



