Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সাত স্বামী নিয়ে ‘ঘর’! কাটোয়ায় সুদেষ্ণা রায়কে খুঁজতে হিমশিম

সাত স্বামী নিয়ে ‘ঘর’! কাটোয়ায় সুদেষ্ণা রায়কে খুঁজতে হিমশিম
  • ১০ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, কাটোয়া: কে এই সুদেষ্ণা রায়? প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার ‘সাত খুন মাফ’ ছবির মতো তাঁরও সাতজন স্বামী! এমন একজন মহিলাকে খুঁজতে হিমশিম অবস্থা জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের। 
Advertisement
সুদেষ্ণা আসলে একজন উপভোক্তা। বাংলা আবাস যোজনার তালিকায় তাঁর নাম এসেছে পাঁচবার। প্রতিটি ক্ষেত্রেই স্বামীর নাম আলাদা। অথচ, ‘রহস্যময়ী’ সুদেষ্ণার কোনও হদিশই নেই! কাটোয়ার জগদানন্দপুর অঞ্চলে আবাস যোজনার তালিকা ধরে সার্ভে হতেই শুক্রবার এমনই চাঞ্চল্যকর কাণ্ড ধরা পড়ে। ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে গোটা জেলায়।  
স্থানীয় পঞ্চায়েতের দাবি, নাম বিভ্রাটেই এমন ত্রুটি হয়েছে। উপভোক্তাদের আইডি নম্বর আলাদা। যোগ্য উপভোক্তাকেই বাড়ি দেওয়া হবে। কাটোয়া-২ বিডিও আসিফ আনসারী বলেন, ‘২০১৮ সালের তালিকা তৈরি করা হয়েছে৷ এখন সেই তালিকা ধরে সার্ভে করে দেখা হচ্ছে। কারা যোগ্য প্রাপক, সেটা সরেজমিনে দেখা হচ্ছে। কিন্তু একজন মহিলার নাম কীভাবে তালিকায় পাঁচবার তা আমাদের অবাক করেছে। আমরা তদন্ত করে দেখছি।’ 
জগদানন্দপুর অঞ্চলে ৪৭১ জন উপভোক্তার নাম এসেছে আবাস তালিকায়। সেই তালিকা অনুযায়ী প্রতিদিন সার্ভে হচ্ছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, জনৈকা সুদেষ্ণা রায় নামে এক মহিলার নামে পাঁচবার আলাদা গ্রামে আলাদা আলাদা স্বামীর নাম দিয়ে আবাস তালিকায় নাম এসেছে। আদতে ওইসব গ্রামে ওই নামে কোনও মহিলাই নেই। এমনকী, ওই মহিলার যে সব স্বামীর নাম দেওয়া হয়েছে, সেখানে দেখা গিয়েছে কেউ তিরিশ বছর আগে মারা গিয়েছেন। কেউ আবার কেউ সাতবছর আগে মারা গিয়েছেন। কেউ কেউ আবার বেঁচে রয়েছেন। কিন্তু তাঁদের স্ত্রীর নাম আলাদা। গ্রামের বাসিন্দারা হতবাক হয়ে গিয়েছেন। তবে, পাঁচটি আলাদা আইডি নম্বর রয়েছে। তারমধ্যে জগদানন্দপুর অঞ্চলের আমডাঙা গ্রামে তিনটি ও পাশের মুস্থলী গ্রামে দু’টি আইডির হদিশ পাওয়া গিয়েছে। 
স্বামীদের নাম ধরে প্রত্যেকটা বাড়িতে গিয়ে আরও অবাক হওয়ার মত তথ্য বেরিয়ে এসেছে। আমডাঙা গ্রামে সুদেষ্ণা রায় নামে ওই উপভোক্তার স্বামী হিসেবে দেখানো হয়েছে গুরুপদ মাঝিকে। অথচ, গুরুপদ মাঝির স্ত্রী বৃদ্ধা পরি মাঝি। তিনি বলেন, ‘আমার স্বামী বহু আগেই মারা গিয়েছে। আমাদের বাড়িতে সরকারি লোকজন এসে সুদেষ্ণা রায় নামে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। কিন্তু ওই নামে কোনও মহিলা আমাদের গ্রামে নেই। আবার মাঝিপাড়ায় সুদেষ্ণা রায়ের স্বামী হিসেবে দেখানো হয়েছে বিশ্বনাথ দাসকে। তিনি তাঁর স্ত্রীকে দেখিয়ে বলেন, আমার স্ত্রীর নাম সারু দাস। এরপর মুস্থলী গ্রামে ওই মহিলার স্বামী হিসেবে দেখানো হয়েছে নারায়ন মাঝিকে। তাঁর বাড়ি যেতেই ছেলে শক্তি মাঝি বলেন, আমার বাবা অনেক আগেই মারা গিয়েছেন। আর ওই নামে কোনও মহিলাকে চিনি না। ওই গ্রামেই সুদেষ্ণার আর একজনকে স্বামী হিসেবে দেখিয়ে আবাস তালিকায় নাম এসেছে। তাঁর নাম শক্তিপদ খাঁ। এদিন তাঁর বাড়ি যেতেই তাঁর ছেলে ক্ষুদিরাম খাঁ বলেন, আমার বাবা অনেক আগেই মারা গিয়েছেন৷ আর মায়ের নাম সুদেষ্ণা রায় নয়। আমি সামান্য তাঁতশ্রমিক। মাটির ভাঙা ঘরেই থাকি। বাড়ি পাব বলে নাম নিয়ে গেল। তারপরেও কেন অন্যের নামের সঙ্গে আমার বাবার নাম ব্যবহার করা হল বুঝতে পারছি না।  
কাটোয়া ২ ব্লকের পূর্ত কর্মাধক্ষ্য গৌতম ঘোষাল বলেন, ২০১৮ সালে আমরা জবকার্ড ধরে তালিকা তৈরি করেছিলাম। যাঁদের স্বামী দেখানো হয়েছে তালিকায়। তাঁদের প্রত্যেকের জবকার্ড নম্বর ধরে যাচাই করলেই বোঝা যাবে। এটা আসলে ডেটা এন্ট্রি করতে গিয়ে নাম বিভ্রাট হয়েছে৷ আসলে সরকারি কর্মীদের গাফিলতিতেই এমনটা ঘটেছে। পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূল সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়ও বলেন, ত্রুটি হয়েছে। সেই ত্রুটি সংশোধনের জন্যই তো বাড়ি বাড়ি সার্ভে করে দেখা হচ্ছে। কাটোয়ার বিজেপি নেত্রী সীমা ভট্টাচার্য বলেন, তৃণমূল এইসব ভুতুড়ে নাম ঢুকিয়ে টাকা গায়েব করার পরিকল্পনা করেছিল।   
সম্পর্কিত সংবাদ