Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

সাত বছর ধরে আট রাজ্যে বিমা জালিয়াতি, চক্র ফাঁস উত্তরপ্রদেশে

সাত বছর ধরে আট রাজ্যে বিমা জালিয়াতি, চক্র ফাঁস উত্তরপ্রদেশে
  • ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সম্ভল (উত্তরপ্রদেশ): পুলিস পোস্টের সামনে দিয়ে ধীর গতিতে যাচ্ছে একটি কালো এসইউভি। এত আস্তে গাড়ি চলছে কেন? দেখেই সন্দেহ হয় উত্তরপ্রদেশের সম্ভলের রাজপুরা এলাকায় টহলরত পুলিসকর্মীদের। গাড়িটিকে দাঁড় করান তাঁরা। জেরার মুখে গাড়িচালকের আচরণ সন্দেহ আরও বাড়িয়ে দেয়। শুরু হয় তল্লাশি। গাড়ি থেকে উদ্ধার হয় কয়েক লক্ষ টাকা, ১৯টি ডেবিট কার্ড। কিন্তু তখনও যেন পুলিসকর্মীদের বিস্মিত হওয়া বাকি ছিল! গাড়িতে থাকা দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের পর জেরা করতেই বিরাট বিমা কেলেঙ্কারির সন্ধান পেল উত্তরপ্রদেশ পুলিস। ওই দুই ব্যক্তি সাত বছর ধরে আটটি রাজ্যে এই কারবার চালিয়েছে। গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তিদের বিমা করতে বলতেন দুই অভিযুক্ত। তারপর সেই ব্যক্তি মারা গেলে আত্মীয় সেজে বিমার টাকা আত্মসাত্ করতেন তাঁরা। এই কেলেঙ্কারির সঙ্গে গ্রাম পঞ্চায়েত কর্মী, আশা কর্মী, বিমা সংস্থার এজেন্ট ও বিভিন্ন স্তরের সরকারি আধিকারিকরা জড়িত। বাকিদের সন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে। কয়েকশো কোটি টাকার প্রতারণা হয়েছে বলে সন্দেহ করছে পুলিস।
Advertisement
পুলিস জানিয়েছে, বারাণসীর বাসিন্দা ওঙ্কারেশ্বর মিশ্র ও আমরোহার অমিত কুমার দিল্লির দু’টি সংস্থায় কাজ করতেন। ওই সংস্থা দু’টি বিভিন্ন বিমা সংস্থার হয়ে ‘ভেরিফিকেশন’-এর কাজ করত। কোনও ব্যক্তির মৃত্যুর পর পরিজনরা বিমার জন্য আবেদন করলে, সেগুলি পরীক্ষা করতেন ওঙ্কারেশ্বর ও অমিত। সেই সুযোগেই তাঁরা বেআইনি কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়েন বলে জানিয়েছেন সম্ভলের পুলিস সুপার কে কে বিষ্ণোই। উত্তরপ্রদেশ ছাড়াও উত্তরাখণ্ড, বিহার, মধ্যপ্রদেশ, ঝাড়খণ্ড, অসম ও দিল্লিতে প্রতারণার জাল ছড়িয়ে রয়েছে।
পুলিস সূত্রে খবর, অভিযুক্তরা ক্যান্সার বা অন্য কোনও জটিল রোগে আক্রান্ত বা খুব বৃদ্ধ ব্যক্তিদের ‘টার্গেট’ করতেন। ওই অসুস্থ ব্যক্তি বা তাঁদের পরিজনদের বুঝিয়ে বিমার ‘পলিসি’ কিনতে বাধ্য করা হত। অসুস্থ বা বৃদ্ধ ব্যক্তিরা মারা গেলে কিছু টাকা পরিজনদের দিয়ে বাকি টাকা নিয়ে নিতেন অভিযুক্তরা। শুধু তাই নয়, মৃত ব্যক্তিদের নামেও বিমা করতেন অভিযুক্তরা। কয়েক বছর পর সেই টাকাও তুলে নেওয়া হত। এক্ষেত্রে গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানদের সাহায্যে মৃত্যুর ভুয়ো শংসাপত্র তৈরি করিয়ে নিতেন দুই অভিযুক্ত। পাশাপাশি কোনও এলাকায় কারা গুরুতর অসুস্থ, তার খোঁজ পাওয়ার জন্য আশা কর্মীদের নিয়মিত টাকা দিতেন দুই অভিযুক্ত। এখনও পর্যন্ত দশটি বিমা সংস্থা এই কেলেঙ্কারির শিকার হয়েছে বলে নোটিস দিয়েছে। অন্তত ১ হাজার ৬০০টি সন্দেজনক বিমার পলিসির কথা উল্লেখ করেছে তারা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিমা করার এক বছরের মধ্যেই সেই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ