Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সাত বছর আগের স্মৃতি উস্কে দিল কাশীপুর থানায় হামলা

সাত বছর আগের স্মৃতি উস্কে দিল কাশীপুর থানায় হামলা
  • ৪ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, পুরুলিয়া: কাশীপুরে থানাতে ঢুকে মারধরের অভিযোগ আগেই উঠেছিল। এবারও আক্রান্ত হল পুলিস। এমন অভিযোগ ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সেই সঙ্গে প্রায় সাত বছর আগের ঘটনা ফের চর্চায় চলে এসেছে। কেননা, দু’টি ঘটনাতে অভিযুক্তদের তালিকায় একাধিক জনের মিল রয়েছে। আগের ঘটনার উপযুক্ত তদন্ত হলে পুলিসকে আক্রান্ত হতে হতো না বলে মনে করেছেন অনেকেই। 
Advertisement
২০১৭ সালের ঘটনা। সেসময় থানাতে আক্রান্তদের মধ্যে একজন এখন শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন। শুধু যোগ দেওয়াই নয়, ঘাসফুলের টিকিটে ভোটে জিতে এখন কাশীপুর পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য হয়েছেন তিনি। তাঁর নাম রাজীব মণ্ডল। কালীপুজোর রাতে থানার ভেতরে খোদ পুলিস আক্রান্ত হওয়ার খবর চাউর হতেই পুরানো সেই স্মৃতি খুঁড়লেন রাজীববাবু। তিনি বলেন, ‘সে সময় বজরং দল করতাম। কাশীপুরের একজন প্রাথমিক শিক্ষক বজরং দলের সদস্য হওয়ায় তাঁকে স্কুলের মধ্যে ঢুকেই ব্যাপক মারধর করেছিলেন থানায় পুলিসকে মারধরের ঘটনায় অভিযুক্তদের মধ্যে একজন। তৃণমূলের ওই প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বজরং দলের পক্ষ থেকে কাশীপুর থানায় ডেপুটেশন দিতে গিয়েছিলাম। সে সময় সন্ধ্যা হয়ে গিয়েছিল। থানা চত্বরের ভেতরেই বাইরের গেট লাগিয়ে দিয়ে থানা চত্বরে সমস্ত লাইট বন্ধ করে দেওয়া হয়। থানার তৎকালীন ওসি এবং কাশীপুরের সিআই উপস্থিত ছিলেন। লাইট বন্ধ হওয়ার কিছু পরেই পুলিসের লাঠি নিয়েই আমাদের বেধড়ক পেটানো হয়। থানাতে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছিল। কিন্তু শাসকদলের চাপে তৎকালীন পুলিসকর্তারা এফআইআর হিসেবে তা গ্রহণ করা হয়নি। রাজীববাবু আরও বলেন, থানার ভেতরে মারধরের ওই ঘটনার প্রতিবাদে পরের দিন সকালে লারা মোড়ে পথ অবরোধ করা হয়। ওই অবরোধ তুলে নেওয়ার পর অভিযুক্তদের কয়েকজনের প্ররোচনাতে  ঝামেলা হয়। ওই ঝামেলার পর আমাদের তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। ৭ দিন করে জেল খাটার পর জামিনে মুক্ত হই। ২০১৯ সালেও লোকসভা ভোটের আগে স্থানীয় তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যে ব্যাপক মারপিট হয়। দু’পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে একাধিক কেস করে। ওই মামলাও চলছে। ২০২১ সালের পর অবশ্য বিভিন্ন দিক থেকে চাপ বাড়তে থাকায় শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়ি। পরে তৃণমূলের পক্ষ থেকে আমাকে পঞ্চায়েত সমিতির টিকিট দেওয়া হয়। ভোটে জয়ী হই। ওই মারধরের ঘটনায় অভিযুক্তদের একাধিক জনের সঙ্গে দলীয় কর্মসূচিতে দেখা হয়েছে। অন্যান্য বিষয়ে কথা হলেও ওই দিনের ঘটনার বিষয়ে কোনও কথা হয়নি। তবে পুলিসকে মারধরের ঘটনায় অভিযুক্তরা থানাকে নিজেদের ঘরই মনে করেন। তা না হলে থানাতে বারবার এ ধরনের ঘটনা ঘটাতে পারত না। এ বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের পুরুলিয়া জেলা সভাপতি সৌমেন বেলথরিয়া বলেন, পুলিসকে মারধের অভিযোগ একেবারেই ভিত্তিহীন। তবে থানার কালীপুজোর কমিটিতে থাকা কয়েকজনের মধ্যে বচসা হয়েছিল। সেই বচসাকেই বিজেপি সহ বিরোধীরা অন্যভাবে দেখানোর চেষ্টা করছে। তাছাড়া বালিকে কেন্দ্র করে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, সেটাও একদম ভিত্তিহীন অভিযোগ। বিজেপির অপপ্রচার। ২০১৭ সালের ঘটনার বিষয়ে সৌমেনবাবু বলেন, অনেক দিনের পুরনো বিষয়। সঠিক মনে নেই। তবে বজরং দলের সঙ্গে যে ঝামেলা হয়েছিল তা তো থানার মধ্যে হয়নি বলেই মনে পড়ছে। বাইরে ওই সময় কোনও একটা ঝামেলা হয়েছিল।
সম্পর্কিত সংবাদ