নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক ও কলকাতা: আর্থিক প্রতারণা মামলার আরও চাপে বিজেপির রাজ্য সম্পাদক নবারুণ নায়েক। সস্ত্রীক পুলিসি হেফাজতের পাশাপাশি দলীয় পদও খোয়ালেন তিনি। সবমিলিয়ে নবারুণ কাণ্ডে জেলা রাজনীতিতে এখন অনেকটাই ব্যাকফুটে গেরুয়া শিবির।
Advertisement
ভুয়ো টেন্ডারের নামে এক কোটি ৬০ লক্ষ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে নবারুণের বিরুদ্ধে। প্রতারণা মামলায় নাম জড়ায় তাঁর স্ত্রী তনুশ্রী রায়েরও। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পুলিস দু’জনকে গ্রেপ্তার করে। বুধবার তমলুক সিজেএম আদালতে তোলা হয় সস্ত্রীক নবারুণকে। দু’জনেই প্রতারণার সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করে পুলিস ১০ দিনের হেফাজতে নিতে চেয়েছিল পুলিস। সওয়াল জবাবে সরকার পক্ষের আইনজীবী সফিউল আলি খান আদালতে বলেন, প্রতারণার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের ক্ষেত্রে দুই অভিযুক্তের কম করে ১০ দিনের পুলিসি হেফাজতের প্রয়োজন। এর বিরোধিতা করে ধৃতদের আইনজীবী তাপসকুমার সামন্ত জামিনের আবেদন করেন। দু’পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারক অভীককুমার চট্টোপাধ্যায় দম্পতিকে ছ’দিনের পুলিসি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। এদিকে, নবারুণ কাণ্ডে বেশ সরগরম জেলা রাজনীতি। সুযোগ বুঝে বিজেপিকে একহাত নিয়েছে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলি। গেরুয়া শিবিরের অন্দরেও বাড়ছে ক্ষোভ। বাধ্য হয়েই এদিন নবারুণকে রাজ্য সম্পাদকের পদ থেকে সরিয়ে দেয় বিজেপির শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি। যা শুনে নিচুতলার নেতা-কর্মীরা বলছেন, অনেক আগেই এই কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত ছিল রাজ্য নেতৃত্বের। আগামী ৩ ডিসেম্বর ফের নবারুণ ও তাঁর স্ত্রীকে আদালতে পেশ করা হবে।
আদালত ও পুলিস সূত্রে খবর, প্রায় ৬০ কোটি টাকা মূল্যের কম্বল সাপ্লাইয়ের টেন্ডার পাইয়ে দেওয়ার নামে সস্ত্রীক নবারুণ কলকাতার এক ঠিকাদারের থেকে এক কোটি ৬০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয় বলে অভিযোগ। অসমের বিজেপি সরকারের নথি জাল করে ভুয়ো টেন্ডার কপি দেওয়া হয়। সেই কপিও এদিন কোর্টে পেশ করা হয়। গত ১০ অক্টোবর এনিয়ে এফআইআর দায়ের হওয়ার পর তমলুক থানার পুলিস তিনবার ওই দম্পতিকে জেরা করেছে। মঙ্গলবার চতুর্থবার জেরা চলাকালীন দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিজেপি নেতা টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন বলে পুলিস জানিয়েছে। যদিও কোর্টে নিয়ে যাওয়ার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নীরবই ছিলেন বিজেপি নেতা।
নবারুণ ধরা পড়তেই মুখ খুলতে শুরু করেছেন বিজেপি নেতারা জেলার বিজেপি নেতারা। অতীতে তাঁর নানা কীর্তি সামানে আনছেন তাঁরা। জেলা সভাপতি থাকাকালীন পার্টির পদ দেওয়ার নাম করে ওই নেতা অনেকের থেকে টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ। রেলে চাকরি দেওয়ার নাম করেও শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকে একজনের থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগে দলের অন্দরে হইচই পড়ে গিয়েছিল। পরে দলের এক নেতার হস্তক্ষেপে টাকা ফেরত দেন বলে দাবি করেছেন বিজেপির প্রাক্তন জেলা সভাপতি তপন কর। তিনি বলেন, ‘আমি জেলা সভাপতি থাকাকালীন নবারুণকে গুরুত্ব দিতাম না। কিন্তু, তমলুক কোর্টের এক আইনজীবী দলে নেতা হওয়ার পর তাঁর হাত ধরে নবারুণের দাপট বাড়ে। জেলা সভাপতি থাকাকালীন পদ দেওয়ার নাম করে অনেকের থেকে টাকাও নিয়েছেন।’
কলকাতার হাইল্যান্ড পার্ক এলাকার বাসিন্দা, পেশায় ঠিকাদার বিশ্বজিৎ দত্ত আর্থিক প্রতারণা নিয়ে সস্ত্রীক নবারুণের বিরুদ্ধে এফআইআর করেন। ওই ঠিকাদার তাঁর এক বন্ধুর মাধ্যমে অসমের বোরোল্যান্ডে মোটা অঙ্কের টাকার কম্বল সাপ্লাইয়ের খবর পেয়েছিলেন। নবারুণ ওই টেন্ডার প্রক্রিয়ার দায়িত্বে রয়েছেন বলেও বন্ধুর কাছ থেকে শুনছিলেন বিশ্বজিৎবাবু।
গত ২৮ আগস্ট গুয়াহাটির হোটেলে নবারুণের স্ত্রী তনুশ্রীর উপস্থিতিতে ওই টেন্ডার নিয়ে আলোচনা হয়। টেন্ডার প্রক্রিয়ার কপি তুলে দেওয়া হয়। কমিশন বাবদ নবারুণের এজেন্ট কলকাতায় ওই ঠিকাদার সংস্থার অফিসে গিয়ে নগদ এক কোটি ৬০ লক্ষ টাকা নিয়েছেন বলে ওই ঠিকাদারের দাবি। পরে তিনি জানতে পারেন ওই সরকারি নথি ভুয়ো।
আদালত ও পুলিস সূত্রে খবর, প্রায় ৬০ কোটি টাকা মূল্যের কম্বল সাপ্লাইয়ের টেন্ডার পাইয়ে দেওয়ার নামে সস্ত্রীক নবারুণ কলকাতার এক ঠিকাদারের থেকে এক কোটি ৬০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয় বলে অভিযোগ। অসমের বিজেপি সরকারের নথি জাল করে ভুয়ো টেন্ডার কপি দেওয়া হয়। সেই কপিও এদিন কোর্টে পেশ করা হয়। গত ১০ অক্টোবর এনিয়ে এফআইআর দায়ের হওয়ার পর তমলুক থানার পুলিস তিনবার ওই দম্পতিকে জেরা করেছে। মঙ্গলবার চতুর্থবার জেরা চলাকালীন দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিজেপি নেতা টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন বলে পুলিস জানিয়েছে। যদিও কোর্টে নিয়ে যাওয়ার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নীরবই ছিলেন বিজেপি নেতা।
নবারুণ ধরা পড়তেই মুখ খুলতে শুরু করেছেন বিজেপি নেতারা জেলার বিজেপি নেতারা। অতীতে তাঁর নানা কীর্তি সামানে আনছেন তাঁরা। জেলা সভাপতি থাকাকালীন পার্টির পদ দেওয়ার নাম করে ওই নেতা অনেকের থেকে টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ। রেলে চাকরি দেওয়ার নাম করেও শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকে একজনের থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগে দলের অন্দরে হইচই পড়ে গিয়েছিল। পরে দলের এক নেতার হস্তক্ষেপে টাকা ফেরত দেন বলে দাবি করেছেন বিজেপির প্রাক্তন জেলা সভাপতি তপন কর। তিনি বলেন, ‘আমি জেলা সভাপতি থাকাকালীন নবারুণকে গুরুত্ব দিতাম না। কিন্তু, তমলুক কোর্টের এক আইনজীবী দলে নেতা হওয়ার পর তাঁর হাত ধরে নবারুণের দাপট বাড়ে। জেলা সভাপতি থাকাকালীন পদ দেওয়ার নাম করে অনেকের থেকে টাকাও নিয়েছেন।’
কলকাতার হাইল্যান্ড পার্ক এলাকার বাসিন্দা, পেশায় ঠিকাদার বিশ্বজিৎ দত্ত আর্থিক প্রতারণা নিয়ে সস্ত্রীক নবারুণের বিরুদ্ধে এফআইআর করেন। ওই ঠিকাদার তাঁর এক বন্ধুর মাধ্যমে অসমের বোরোল্যান্ডে মোটা অঙ্কের টাকার কম্বল সাপ্লাইয়ের খবর পেয়েছিলেন। নবারুণ ওই টেন্ডার প্রক্রিয়ার দায়িত্বে রয়েছেন বলেও বন্ধুর কাছ থেকে শুনছিলেন বিশ্বজিৎবাবু।
গত ২৮ আগস্ট গুয়াহাটির হোটেলে নবারুণের স্ত্রী তনুশ্রীর উপস্থিতিতে ওই টেন্ডার নিয়ে আলোচনা হয়। টেন্ডার প্রক্রিয়ার কপি তুলে দেওয়া হয়। কমিশন বাবদ নবারুণের এজেন্ট কলকাতায় ওই ঠিকাদার সংস্থার অফিসে গিয়ে নগদ এক কোটি ৬০ লক্ষ টাকা নিয়েছেন বলে ওই ঠিকাদারের দাবি। পরে তিনি জানতে পারেন ওই সরকারি নথি ভুয়ো।



