Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ষষ্ঠ শ্রেণির তিন ছাত্রীর শ্লীলতাহানি, শিক্ষক সহ ২ পড়ুয়ার বিরুদ্ধে মামলা

ষষ্ঠ শ্রেণির তিন ছাত্রীর শ্লীলতাহানি, শিক্ষক সহ ২ পড়ুয়ার বিরুদ্ধে মামলা
  • ২৩ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: ষষ্ঠ শ্রেণির তিন ছাত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠল এক শিক্ষক ও দুই পড়ুয়ার বিরুদ্ধে। অভিযুক্তদের নামে পকসো ধারায় এফআইআরও দায়ের করেছে পুলিস। ঘটনাটি পাঁশকুড়া থানার ডালপাড়া জুনিয়র হাইস্কুলের। বৃহস্পতিবার ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই তোলপাড় কেশাপাট গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত লালপাড়া এলাকা। পাঁশকুড়া থানার আই঩সি সমীর দে বলেন, অভিযোগ দায়ের হয়েছে। আমরা নাবালিকাদের মেডিক্যাল টেস্ট করানোর পর হোমে পাঠানোর ব্যবস্থা করব।
Advertisement
গত ১৩ নভেম্বর ওই স্কুলে অভিভাবকরা জোট বেঁধে চড়াও হন। স্কুলের এক সহ-শিক্ষককে বেধড়ক মারধর করেন তাঁরা। লাগোয়া প্রাইমারি স্কুল থেকে শিক্ষকরা এসে হামলার হাত থেকে ওই শিক্ষককে বাঁচান। ঘটনায় স্কুলের টিচার ইন-চার্জ পলাশ সাহু একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। তবে, অভিভাবকদের হামলার পিছনে স্কুলের মধ্যে ছাত্রীরা শ্লীলতাহানির অভিযোগ ছিল। তা নিয়েই উত্তেজনা ছড়িয়েছিল। বাড়ি থেকে ছুরি এনে ভয় দেখিয়ে এক পড়ুয়া ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীর সঙ্গে অভব্য আচরণ করেছিল বলে অভিযোগ। সেই অভিযোগ নিয়ে অভিভাবকরা এবার থানার দ্বারস্থ হলেন। স্কুলের দুই অভিভাবক বলেন, ওই স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণির তিন-চার ছাত্রী ধারাবাহিকভাবে হেনস্তার শিকার হয়েছে। সপ্তম ও ষষ্ঠ শ্রেণির দুই পড়ুয়া নানাভাবে ওই ছাত্রীদের সঙ্গে অভব্য আচরণ করত। ছাত্রীরা বিষয়টি স্কুলের সহ-শিক্ষকের নজরে আনলে তিনি স্টাফ রুমে ডেকে ইউনিফর্ম সরিয়ে সেই জায়গা দেখাতে বলতেন। ছাত্রীদের সঙ্গে অভব্য আচরণও করেন। শুধু তাই নয়, স্কুল ইউনিফর্ম বিলির সময় স্টাফরুমে ছাত্রীদের এক এক করে ডেকে সেখানেই ইউনিফর্ম বদল করতে বলতেন। এসব নিয়ে বাড়িতে বললে বের করে দেওয়ার ভয় দেখানো হতো। 
জানা গিয়েছে, গত ১১ নভেম্বর স্কুলে একটি ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, সপ্তম শ্রেণির এক পড়ুয়া ছুরি বের করে ভয় দেখিয়ে এক ছাত্রীর সঙ্গে অভব্য আচরণ করে। ওই ঘটনার সময় অন্যান্য ছাত্রীরা ওই ছাত্রকে ধাক্কাধাক্কি করে। তাতে স্কুলে উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি হয়। ছাত্রীরা বাড়িতে গিয়ে গোটা ঘটনার কথা জানায়। শুধু তাই নয়, ধারাবাহিকভাবে স্কুলে চার ছাত্রী হেনস্তার শিকার হচ্ছে বলেও জানায়। এরপরই অভিভাবকরা স্কুলে চড়াও হন। ১২ নভেম্বর অভিযুক্ত দুই পড়ুয়াকে নিয়ে স্কুলে মিটিং হয়। সেখানে স্কুলের টিআইসি দু’জনকে ভর্ৎসনা করেন। অভিভাবকরা মারধরও করেন। বিষয়টি অবর বিদ্যালয় পরিদর্শকের নজরেও যায়। ১৩ নভেম্বর স্কুলের টিআইসি অফিসিয়াল কাজে এসআই অফিসে গিয়েছিলেন। ওই সময় স্কুলে সহ শিক্ষক ছিলেন। অভিভাবকরা আচমকা চড়াও হয়ে তাঁকে ঘিরে ধরে ব্যাপক মারধর করেন। এনিয়ে স্কুলের টিচার ইন-চার্জ এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন ধরেননি। স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য সুশান্ত মান্না বলেন, স্কুলে ছাত্রীদের সঙ্গে অভব্য আচরণের অভিযোগ নিয়ে ১৩ তারিখ একটা ঝামেলা হয়। তারপর অভিভাবকরা পকসো ধারায় মামলা করেছেন বলে শুনেছি। আইন আইনের পথে চলবে। 
সম্পর্কিত সংবাদ