Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সাসপেন্ড উঠল মেদিনীপুর মেডিক্যালে প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনায় সাত পিজিটির

সাসপেন্ড উঠল মেদিনীপুর মেডিক্যালে প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনায় সাত পিজিটির
  • ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনায় সাতজন পিজিটি চিকিৎসক পড়ুয়াকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে সোমবার স্বাস্থ্য বিভাগের তরফে সেই সাতজন পিজিটি পড়ুয়ার উপর থেকে সাসপেনশন প্রত্যাহার করা হল। আর এতেই খুশি চিকিৎসক পড়ুয়ারা। জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনার পর পিজিটি চিকিৎসক পড়ুয়া সহ মোট ১২ জনকে সাসপেন্ড করা হয়। সাসপেন্ড হওয়ার পরই তাঁরা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে আবেদন করেন। এনিয়ে বেশ কয়েক দফায় বৈঠকও হয়। জেলার স্বাস্থ্য দপ্তরের সিএমওএইচ সৌম্যশঙ্কর ষড়ঙ্গী বলেন, সাতজনের উপর থেকে সাসপেনশন তুলে নেওয়া হয়েছে। তাঁরা আগেই আবেদন জানিয়েছিলেন। গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখে তাঁদের সাসপেনশন তুলে নেওয়া হল। এই পদক্ষেপে খুশি চিকিৎসক পড়ুয়ারা। 
Advertisement
উল্লেখ্য, গত জানুয়ারি মাসের ১০ জানুয়ারি মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে এক প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনার পর থেকেই চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ উঠতে শুরু করেছিল। প্রথম পর্যায়ে স্বাস্থ্য দপ্তরের বিশেষ প্রতিনিধি দল আসে। তাঁরা পর্যবেক্ষণ করে চলে গিয়েছিলেন। একইসঙ্গে তাঁদের রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে অসুস্থ হয়ে পড়া তিন প্রসূতিকে গ্রিন করিডর করে কলকাতা পিজি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁদের মধ্যে একজন প্রসূতির অবস্থা খুবই সঙ্কটজনক ছিল। এরপর রাজ্যের তরফে সিআইডি তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। সিআইডি তদন্তে নেমে দ্রুত প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দেয়। এরপর সেই রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে রাজ্য সরকার হাসপাতালের এমএসভিপি, আরএমও পদমর্যাদার চিকিৎসক  সহ মোট ১২ জন চিকিৎসককে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নেয়। তার মধ্যে ৭ জন জুনিয়র ও পিজিটি পড়ুয়া ছিল। সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছিলেন, ১৩ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তদন্ত কমিটি ও সিআইডি-র তদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী,  প্রসূতিদের অস্ত্রোপচারের দিন চিকিৎসকদের গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল। এই ঘটনার পর চিকিৎসক পড়ুয়াদের একাংশ মেডিক্যাল কলেজে অবস্থান বিক্ষোভে বসেন। এরফলে আংশিক কর্মবিরতি দেখা দেয়। চিকিৎসক পড়ুয়াদের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেন স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকরা। শেষে অবস্থান বিক্ষোভ তুলে নেন চিকিৎসক পড়ুয়ারা। স্বাস্থ্য দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, চিকিৎসক পড়ুয়াদের সাসপেন্ড করার আগে কোনও ধরনের শো-কজ করা হয়নি। সাসপেন্ড হওয়া একজন মামলাও করেছেন। তবে বাকি চিকিৎসকদের সাসপেনশন নিয়ে আলোচনা চলছে। সেই সাসপেনশন উঠে যেতে পারে। 
এক চিকিৎসক পড়ুয়া বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকায় খুশি। ওঁকে প্রণাম ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি। চিকিৎসক পড়ুয়াদের ভবিষ্যত নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল। একইসঙ্গে ঘটনার পর থেকে সকলেই খুবই মানসিক অবসাদে ছিলাম।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ