নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: মুর্শিদাবাদ জেলায় গতবারের থেকে এবার মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ল। এ বছরও জেলায় ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীদের সংখ্যা বেশি। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, গতবারের তুলনায় এবছর বাড়তি ১৬ হাজার পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় বসবে। এ বছর মোট ৯৪ হাজার ৪৪৮ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দেবে। গত বছর ৭৮ হাজার ৩১৯ জন পরীক্ষার্থী মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসেছিল। এবছর ছাত্রদের থেকে ছাত্রীদের সংখ্যা বেশি। জেলায় ৪১ হাজার ৬৯৫ জন ছাত্র পরীক্ষা দেবে। অপরদিকে ৫২ হাজার ৭৫৩ জন ছাত্রী পরীক্ষায় বসবে। ১০ ফেব্রুয়ারি প্রথম ভাষার বিষয় দিয়ে লিখিত পরীক্ষা শুরু হবে। পরীক্ষা শেষ হবে ২২ ফেব্রুয়ারি। ওইদিন ঐচ্ছিক বিষয়ের পরীক্ষা দেবে পরীক্ষার্থীরা।
মুর্শিদাবাদের অতিরিক্ত জেলাশাসক (সাধারণ) দীননারায়ণ ঘোষ বলেন, পর্ষদের নির্দেশ মতো আমরা পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করছি। প্রতিটি পরীক্ষাকেন্দ্রের ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে আগেভাগে জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা পরীক্ষা কেন্দ্রগুলি পরিদর্শন করবে। সেখানে আলো, জল, শৌচাগার এবং পড়ুয়াদের বসার সুব্যবস্থা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।
এবার, পরীক্ষা কেন্দ্রে ভাঙচুরের ব্যাপারে কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে মধ্যশিক্ষা পর্ষদের আধিকারিকরা বৈঠক সারে। মঙ্গলবারও রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে জেলা প্রশাসন ও পুলিসকর্তাদের ভার্চুয়াল বৈঠক হয়। কড়া পুলিসি পাহারায় যাতে প্রতিটি কেন্দ্রে পরীক্ষা নেওয়া হয় সেজন্য সমস্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করার আর্জি জানিয়েছে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। বৈঠক সূত্রে জানা গিয়েছে, যে সমস্ত বিদ্যালয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষা হবে, সেখানে পরীক্ষার প্রথম দিন পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগে, জিও ট্যাগ করে ছবি তুলতে হবে। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর একই ভাবে ছবি তুলতে হবে। যদি কোথাও ভাঙচুর হয়, তাহলে সেই ছবির মাধ্যমে বোঝা যাবে। যে বিদ্যালয়ে ভাঙচুর হবে, সেই ভাঙচুরের একটি অভিযোগ এবং রিপোর্ট সহ মধ্যশিক্ষা পর্ষদকে জমা করতে হবে। যদি অংশগ্রহণকারী স্কুলের পরীক্ষার্থীদের ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে ওই বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীদের ফলাফল আটকে দেওয়া হবে। প্রমাণের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট জায়গার ক্ষতিপূরণ না পাওয়া পর্যন্ত বোর্ড ওই বিদ্যালয়ের রেজাল্ট দেবে না।
প্রতিটি থানায় মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি বহরমপুর ট্রেজারি অফিসে বহরমপুর থানা ও থানা সংলগ্ন পরীক্ষাকেন্দ্রগুলির প্রশ্নপত্র রাখা হবে। সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা নেওয়ার জন্য আগেভাগে প্রস্তুতি সারছে জেলা প্রশাসন।
জেলা পুলিসের এক আধিকারিক বলেন, মঙ্গলবারই মাধ্যমিক নিয়ে আমরা প্রতিটি থানার সঙ্গে বৈঠক সেরেছি। প্রতিটি পরীক্ষাকেন্দ্রে সশস্ত্র পাহারা থাকবে। এসকর্ট করে প্রতিটি পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রশ্নপত্র পৌঁছে যাবে। রাস্তায় যানজট যাতে না হয়, সেজন্য বাড়তি ট্রাফিক পুলিস থাকবে। রাস্তায় যান নিয়ন্ত্রণ ও স্কুলের বাইরে শুধুমাত্র সিভিক ভলান্টিয়ার ব্যবহার করা হবে।