Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সংস্কারের টাকা পড়ে, বেহাল নীলমণি ব্রহ্মচারী স্কুলের হেরিটেজ ভবন

সংস্কারের টাকা পড়ে, বেহাল নীলমণি ব্রহ্মচারী স্কুলের হেরিটেজ ভবন
  • ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, কাটোয়া: ১৪ বছর আগে পূর্বস্থলীর নীলমণি ব্রহ্মচারী ইনস্টিটিউশনের প্রাচীন ভবনটি হেরিটেজ বিল্ডিংয়ের স্বীকৃতি পেয়েছে। সেই ঐতিহ্যবাহী ভবনটি সংস্কার না হওয়ায় স্কুলের গৌরব নষ্ট হতে বসেছে। এনিয়ে স্কুলের প্রাক্তন ছাত্রদের একাংশ ক্ষুব্ধ। বরাদ্দ হওয়া ৩০লক্ষ টাকা প্রশাসনের কাছে চলেও এলেও সংস্কার হচ্ছে না। ব্রিটিশ আমলে প্রতিষ্ঠিত এই স্কুল বিল্ডিংটি পূর্বস্থলীর ঐতিহ্য,  তা রক্ষায় দাবিতে সরব হয়েছেন অনেকে। পূর্বস্থলী উত্তরের বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায় বলেন, আমি নিজেও ওই স্কুলের প্রাক্তনী। তাই ওই স্কুলের হেরিটেজ ভবন সংস্কারের জন্য টাকা বরাদ্দ করেছি। জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে বেহাল ভবন সংস্কার করা হবে। জানা গিয়েছে, হেরিটেজ তকমা পাওয়া স্কুলের কাছে গৌরবের বিষয়। ১৮৮৭সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক স্তরে পড়ানোর স্বীকৃতি পায় এই স্কুলটি। তখন নাম ছিল ভিক্টোরিয়া ইনস্টিটিউশন। ১৯৩০সালে কালাজ্বরের ওষুধ আবিষ্কারক উপেন্দ্রনাথ ব্রহ্মচারীর পিতা নীলমণি ব্রহ্মচারীর নামে ওই স্কুলের নামকরণ হয়। বর্তমানে ওই স্কুলের বয়স প্রায় ১৭৬ বছর। দীর্ঘদিন হেরিটেজ তকমা পাওয়া ওই ঐতিহ্যবাহী ভবন  সংস্কার না হওয়ায় ধুঁকছে। ওই ভবনেই একসময় স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আনাগোনা ছিল। স্কুলের বেহাল ভবন  থেকে বড় বড় চাঙড় খসে পড়ছে। শুধু তাই নয়, বর্ষায় ওই ভবনের অবস্থা আরও বেহাল হয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ঐতিহ্যবাহী স্কুল ভবনটি সংস্কার করা হোক। তাতে অন্তত এলাকায় এই ঐতিহাসিক স্কুলের গৌরব অক্ষুন্ন থাকবে। স্কুলের হেরিটেজ ভবন সংস্কারের জন্য বিধায়কের উন্নয়ন তহবিল থেকে ২০২২-’২৩ ও ২০২৩-’২৪ বর্ষে দু’দফায় ১৫ লক্ষ টাকা করে মোট ৩০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। তারমধ্যে ব্লকে ১৫লক্ষ টাকা চলেও এসেছে। তারপরও কেন সংস্কার করা যাচ্ছে না তা নিয়ে প্রাক্তনীরা ক্ষোভে ফুঁসছেন। ওই টাকা খরচ না করা হলে বিধায়ককে তখন অন্য খাতে টাকা খরচ করতে হবে। বর্তমানে হেরিটেজ ভবনটি যে কোনও সময় ভেঙে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রধান শিক্ষক উত্তম বসাক বলেন, স্কুলের হেরিটেজ ভবন অবিলম্বে সংস্কার করা দরকার। আগে ওই পুরনো ভবনেই ক্লাস হতো। কিন্তু সেটা বহুদিন ধরেই বন্ধ হয়ে রয়েছে। ব্লক প্রশাসন থেকে আমরা জেনেছি হেরিটেজ ভবন সংস্কারের কাজ করতে হলে হেরিটেজ কমিশনের অনুমতি নিতে হবে। জেলা প্রশাসন বিষয়টি দেখছে। তবে যত দ্রুত সম্ভব হেরিটেজ ভবন সংস্কারের কাজ শুরু হোক।
Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ