Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সংস্কারের দাবি জানাচ্ছেন কেতুগ্রামের মৎস্যজীবীরা, ভেঙে পড়েছে মৎস্যজীবীদের জন্য তৈরি আবাসন ভবন, নিষ্ক্রিয় সমবায় সমিতি

সংস্কারের দাবি জানাচ্ছেন কেতুগ্রামের মৎস্যজীবীরা, ভেঙে পড়েছে মৎস্যজীবীদের জন্য তৈরি আবাসন ভবন, নিষ্ক্রিয় সমবায় সমিতি
  • ২১ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, কাটোয়া: কেতুগ্রামে ভাগীরথী নদী ও খাল বিলে মাছ ধরা মৎস্যজীবীদের জন্য একসময় মৎস্যজীবী আবাসন প্রকল্প গড়ে তুলেছিল রাজ্য সরকার। মৎস্যজীবীদের ওই প্রকল্পের আওতায় এনে বেশ কয়েকজনের পাকা বাড়িও গড়ে দেওয়া হয়েছিল। তাঁদের জন্য তৈরি শাঁখাই মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির ভবনের বেহাল অবস্থা। ভেঙে পড়ছে ভবনটি। ছাদ চুঁয়ে জল পড়ে। পনেরো বছর ধরে সমবায় সমিতি কার্যত নিষ্ক্রিয়। সেটি চালু করার দাবি জানিয়েছেন মৎস্যজীবীরা। 
Advertisement
সীতাহাটি পঞ্চায়েতের সদস্য তথা মৎসজীবী সমবায় সমিতির এক প্রাক্তন কর্তা  সমীর বর্মন বলেন, আমরা বহুবার প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছি। আমাদের আশ্বস্তও করা হয়েছে। সমবায় সমিতি ভবন যেকোনও সময় ভেঙে পড়বে। অথচ ওই ভবনেই মৎস্যজীবীরা বসে জাল বুনতেন। আশা করি, প্রশাসন মৎস্যজীবীদের প্রতি সদয় হবে। 
কেতুগ্রাম-২ ব্লকের সীতাহাটি পঞ্চায়েতের শাঁখাই গ্রামে ২০০১ সালে শাঁখাই মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি তৈরি করা হয়। সরকারি উদ্যোগেই তৈরি করা হয়েছিল। ওই সমবায়ে ২৯৩ জন সদস্য ছিলেন। সীতাহাটি পঞ্চায়েত এলাকায় নলিয়াপুর, শাঁখাই, উদ্ধারণপুর এলাকায় প্রচুর মৎস্যজীবী পরিবার রয়েছে। তাঁরা ভাগীরথী নদী, অজয় নদ, খাল বিলে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। জানা গিয়েছে, শাঁখাই এলাকায় ২০০৩ সালে মৎস্যজীবী আবাসন প্রকল্পে ২৩টি মৎস্যজীবী পরিবারকে পাকা ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়। নলিয়াপুরে ২০০৪ সালে ঘর দেওয়া হয়৷ 
সমবায় সমিতির মিলন কেন্দ্রে জাল সহ বিভিন্ন সামগ্রী বিতরণ করা হত‌ো। শুধু তাই নয়, মৎস্যজীবীদের নানা প্রশিক্ষণ শিবিরও করা হতো সেখানে। সেই ভবন এখন বেহাল হয়ে পড়েছে। ছাদের চাঙড় খসে পড়ছে। ছাদ চুঁইয়ে জল পড়ছে। ঘরের প্লাস্টার খসে পড়ছে। দরজা, জানালা নেই। সব ভেঙে গিয়েছে। নোংরা অবস্থায় রয়েছে ওই মিলন কেন্দ্র। সাফাইয়ের কোনও বালাই নেই। মৎস্যজীবীদের আশঙ্কা যেকোনও সময় হয়তো ভেঙে পড়তে পারে ওই ভবন। 
মৎস্যজীবীদের একাংশের দাবি, নতুন করে সমবায় সমিতিটি পুনরুজ্জীবিত করা হোক। অথবা সমবায় সমিতির ভবনটি সংস্কার করে বিকল্প কাজে লাগানো হোক। তাঁরা আরও জানান, প্রায় ১৫ বছর আগে থেকেই এই সমবায় সমিতি নিষ্ক্রিয় হতে শুরু করে। অফিসের কাজকর্ম বন্ধ হয়ে যায়। ঘরটি তালাবন্ধ অবস্থায় পড়ে থাকে। তারপর ধীরে ধীরে দরজা জানালা ভেঙে চলে গিয়েছে। গেট ভেঙে গিয়েছে। এখন কেউ সাইকেল মোটর সাইকেল রাখেন। কেউ মাঝেমধ্যে অন্য কাজে ব্যবহার করেন। ভেঙে গিয়েছে সমবায়। সমিতির জন্য আর কোনও অনুদান আসে না। স্থানীয়রা চাইছেন, এই ভবনের সংস্কার করে মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির পুনরুজ্জীবন ঘটানো হোক।-নিজস্ব চিত্র
সম্পর্কিত সংবাদ