Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সিসিইউ-তে অনুমোদিত ২০টি বেড চালু না করায় বিতর্কে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল

সিসিইউ-তে অনুমোদিত ২০টি বেড চালু না করায় বিতর্কে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল
  • ১৭ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: অনুমোদন ছিল ২৪ বেডের। সেখানে মাত্র চারটি বেড নিয়ে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চালু হয়েছে হাইব্রিড সিসিইউ। এক বছর আগে উদ্বোধন হয়েছে। কিন্তু  আজও বাকি ২০টি বেড চালু করার ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের কোনও উদ্যোগ নেই। হাসপাতালে ১০ বেডের পুরনো সিসিইউ ওয়ার্ড এসেছে  হাইব্রিড সিসিইউতে। এখানে মোট ১৪টি বেড রয়েছে। এই হিসেবে হাইব্রিড সিসিইউয়ের অনুমোদিত ২৪টি বেডের মধ্যে চারটি বেড চালু হয়েছে। এখানেই প্রশ্ন, বাকি ২০টি বেড কেন চালু করা গেল না। যেখানে সিসিইউতে বেডের চাহিদা দিনদিন বেড়ে চলেছে। হাসপাতালে ভর্তি সঙ্কটজনক  রোগীদের সিসিইউ এ রেফার করলেও সময়মতো বেড মেলে না। অভিযোগ, শহরের বিভিন্ন নার্সিংহোমের রোগীরা আবেদন করার সঙ্গে সঙ্গেই সিসিইউ বেড পেয়ে যাচ্ছেন।
Advertisement
এই অভিযোগ থেকে হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মীদের একাংশের ধারণা,  নার্সিংহোমের সঙ্গে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের একটি অংশের যোগসাজশেই এসব হচ্ছে। সেকারণেই অনুমোদন থাকা সত্ত্বেও সিসিইউতে ২৪টি বেড চালু করা হয়নি। তাহলে পুরোন বেড মিলিয়ে ৩৪ বেডের সিসিইউ হতো। অভিযোগ, কিছু  নার্সিংহোমের স্বার্থ রক্ষার জন্যই বাকি ২০টি বেড চালু করার উদ্যোগ নেই। 
অভিযোগ, নার্সিংহোমে সিসিইউয়ের খরচ বহন করতে না পেরে শেষে সর্বর্স্বান্ত হয়ে  রোগীকে   উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সিসিইউতে এনে ভর্তি করা হচ্ছে। পাশাপাশি নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ যখন বুঝতে পারছে রোগী বাঁচবে না, রেখে দিলে সমস্যা হতে পারে তখন সেই রোগীকে  মেডিক্যালে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের এক চিকিৎসক বলেন, এখানে ভর্তি থাকা সঙ্কটজনক রোগীর সিসিইউ বেডের প্রয়োজন হলে সময়মতো তা পাওয়া যায় না। আবেদন করে দীর্ঘ অপেক্ষায় থাকতে হয়। অনেকে সিসিইউতে বেড না পেয়ে জেনারেল বেডে মারা যান। অথচ নার্সিংহোম থেকে আসা রোগীদের সেই অপেক্ষা করতে হয় না।  মেডিক্যাল হাসপাতালের সিসিইউতে নার্সিংহোম থেকে আসা রোগীর সংখ্যাই বেশি থাকে। নার্সিংহোম থেকে শেষ অবস্থায় এখানে রোগী আসার ফলে এখানকার সিসিইউ পরিষেবার সাফল্যের হার মার খাচ্ছে মৃতের সংখ্যা বেশি হওয়ার জন্য। এই দিকটি কর্তৃপক্ষের দেখা উচিত। 
উত্তরবঙ্গ মেডিক্যার কলেজ হাসপাতালের অ্যাডিশনাল সুপার নন্দন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, সিসিইউ বেডের যে চাহিদা রয়েছে তাতে এখানে অন্তত ৩৪টি বেড থাকা প্রয়োজন। এনিয়ে ভাবনাচিন্তা চলছে। হাসপাতাল সুপার সঞ্জয় মল্লিক বলেন, ২৪টি বেডের অনুমোদন হলেও সিসিইউয়ের জন্য  ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মী অনুমোদনের অভাব রয়েছে। সে কারণেই সব বেড  একসঙ্গে চালানো সম্ভব হয়নি।
সম্পর্কিত সংবাদ