সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: বিষ্ণুপুর স্টেশনের ট্যাক্সি স্ট্যান্ড থেকে চারমাস ধরে নিখোঁজ ছেলেকে খুঁজে পেলেন ঝাড়গ্রামের মনসারাম মাহাত। সোমবার বিষ্ণুপুরে এসে তাঁরা ছেলেকে ফিরিয়ে নিয়ে যান। এই চারমাস ধরে মনসারামের ছেলে ললিত মাহাতকে ট্যাক্সি চালকরা চাঁদা তুলে নিয়মিত খাইয়েছেন। তাকে আশ্রয় দিয়েছেন। ললিতকে বাড়িতে ফিরিয়ে দিতে পেরে তাঁরাও খুশি। বাড়ি যাওয়ার আগে ললিতের চুলদাড়ি কেটে সাফসুতরো করে দেন একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কর্মীরা। ঝাড়গ্রামের হাতিবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা মনসারাম মাহাত বলেন, আমার ছেলে চারমাস আগে পাশের গ্রামে যাবে বলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হয়। চারদিকে খোঁজাখুঁজি করে সন্ধান না পাওয়ায় ঝাড়গ্রাম থানায় ডায়েরি করা হয়। ভালো মানুষটা হঠাৎ নিখোঁজ হওয়ায় আমার স্ত্রী, বউমা, নাতি ও নাতনি ভীষণ কান্নাকাটি করছিল। স্থানীয় একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কর্মীর মাধ্যমে খবর পেয়ে বিষ্ণুপুরে আসি এবং ছেলেকে নিয়ে যাই।
Advertisement
বিষ্ণুপুর স্টেশনের ট্যাক্সি ইউনিয়নের সম্পাদক অভিষেক চৌধুরী বলেন, প্রায় চারমাস আগে মাঝবয়সি এক ব্যক্তি ট্যাক্সি স্ট্যান্ডে ঘোরাঘুরি করছিলেন। নাম পরিচয় কিছুই বলতে পারছিলেন না। আমরা তাঁকে খাবার দিয়েছিলাম। সেই থেকে আমাদের এখানেই রয়ে গিয়েছে। ইউনিয়নের চালার নীচেই তিনি থাকছিলেন। আমরা চাঁদা করে খাবার কিনে দিতাম। পরে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কর্মীদের বিষয়টি বলা হয়। ওই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কর্মী মুজিবর কাজি বলেন, ললিতবাবু অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় ছিলেন। পরিবারের লোকেরা যাতে চিনতে পারেন সেজন্য আমরা ওঁর চুলদাড়ি কেটে দিই। তারপর আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া পেজে আপলোড করি। ঝাড়গ্রামের এক স্বেচ্ছাসেবী কর্মীর তা নজরে আসে। তাঁরা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। পরে পরিবারের লোকেদের সঙ্গে যোগাযোগ হয়। এদিন ললিতবাবুকে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়।



