Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সোশ্যাল মিডিয়া দেখে দেদার অ্যান্টিবায়োটিক সেবন, উদ্বেগ

সোশ্যাল মিডিয়া দেখে দেদার অ্যান্টিবায়োটিক সেবন, উদ্বেগ
  • ২০ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, ডোমকল : শীতের শুরুতেই বইছে হিমেল হাওয়া। দিনের বেলা উষ্ণতা চড়লেও রাত গভীর হলেই পারদ-পতন। আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনাতেই বাড়ছে জ্বর-সর্দি-কাশি, পেটের রোগ। স্বভাবতই হাসপাতালের পাশাপাশি ওষুধের দোকানগুলিতে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিভিন্ন অ্যান্টিবায়োটিক, ওআরএসের ব্যাপক বিক্রি। অল্প জ্বর-সর্দিতেই চিকিৎসকের পরামর্শ না নিয়ে মুড়ি মুড়কির মত অ্যান্টিবায়োটিক কিনে খাচ্ছেন রোগীরা। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন পোস্টের দৌলতে জ্বর কিংবা পেটে ব্যথায় ব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিকে নাম খুব সহজেই জানা যায়। সেটা জেনেই ওষুধের দোকানে লাইন। হাল্কা জ্বর, সর্দি, কাশি হলেই গোছা-গোছা অ্যান্টিবায়োটিক কিনে খাচ্ছেন অনেকেই। এভাবে সোশ্যাল মিডিয়াকে ‘ডাক্তার’ বানিয়ে নিজের চিকিৎসা নিজে করলে সমূহ বিপদ। এমনই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন জেলার চিকিৎসকরা।
Advertisement
সপ্তাহ খানেক হল তাপমাত্রা অনেকটাই পড়েছে। রাত নামলেই বাড়ছে হিমেল হাওয়া। দিনের বেলা অবশ্য সূর্যের তেজ থাকছে প্রখর। তাতে ঘাম ঝরছে সবার। দিনে ও রাতে তাপমাত্রার এই আমুল পরিবর্তনে জ্বর-সর্দি-কাশির মত অসুখে ভুগছেন। এই অবস্থায় একটি বড় অংশের রোগী হাসপাতালমুখী না হয়ে ভিড় করছেন ওষুধ দোকানগুলিতে। সেখান থেকে মুড়িমুড়কির মতো বিভিন্ন অ্যান্টিবায়োটিক, প্যারাসিটামল কিনে খাচ্ছেন তাঁরা। এতে তাৎক্ষনিকভাবে জ্বর কিছুটা কমলেও ভবিষ্যতে তা শরীরে আরও মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে বলেই আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকরা। চিকিৎসকদের দাবি, ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ আটকানোর জন্য অ্যান্টিবায়োটিক শক্তিশালী ওষুধ। তবে ভুল কিংবা অতিমাত্রায় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার আরও মারাত্মক। এক্ষেত্রে শরীরে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট তৈরি হয়ে যেতে পারে। ফলে, পরবর্তীতে আর অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করে না শরীরে। এছাড়াও ভুল মাত্রায় অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করলে শরীরে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও দেখা দিতে পারে। 
ইসলামপুর গ্রামীণ হাসপাতালের চিকিৎসক সানোয়ার রহমান বলেন, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই এভাবে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া কখনই উচিত নয়। এতে শরীরে মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। তাছাড়াও শরীরে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট তৈরি হয়ে গেলে ভবিষ্যতে আর অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করবে না। 
এক্ষেত্রে সব থেকে উদ্বেগের বিষয় ডোমকল মহকুমার অধিকাংশ দোকানেই স্থায়ী ফার্মাসিস্ট নেই। বেশিরভাগ ওষুধের দোকানে ওষুধ দেয় দোকানের মালিকই। চিকিৎসকদের একাংশের বক্তব্য, ওষুধ দোকানগুলিতে প্রশাসনের নজরদারি আরও বাড়ানো উচিত। চিকিৎসকের পরামর্শ এবং প্রেসক্রিপশন ছাড়া কোনওভাবেই শিডিউল এইচ মানের ড্রাগ গ্রাহকদের  দিতে পারে না দোকানিরা
সম্পর্কিত সংবাদ