Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বিক্ষিপ্ত অশান্তি ছাড়া নির্বিঘ্নে এসএসসি, প্যানেল নভেম্বরে, স্মার্টফোন হাতে পরীক্ষার্থীরা, প্রশ্ন একটু কঠিন

কলকাতার আশুতোষ কলেজের বাইরে টিপটিপ বৃষ্টিতে দাঁড়িয়ে এক পরীক্ষার্থী বললেন, ‘প্রশ্ন একটু কঠিন হয়েছে। নবম-দশমের তুলনায় কঠিন।’

বিক্ষিপ্ত অশান্তি ছাড়া নির্বিঘ্নে  এসএসসি, প্যানেল নভেম্বরে, স্মার্টফোন হাতে পরীক্ষার্থীরা, প্রশ্ন একটু কঠিন
  • ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি: কলকাতার আশুতোষ কলেজের বাইরে টিপটিপ বৃষ্টিতে দাঁড়িয়ে এক পরীক্ষার্থী বললেন, ‘প্রশ্ন একটু কঠিন হয়েছে। নবম-দশমের তুলনায় কঠিন।’ রবিবার গোটা রাজ্যে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া নির্বিঘ্নেই কাটল একাদশ-দ্বাদশের এসএসসি পরীক্ষা। এদিন বিকাশ ভবনে সাংবাদিক বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু জানিয়েছেন, ‘নভেম্বরে ইন্টারভিউ প্যানেল প্রকাশিত হবে।’ কমিশনের চেয়ারম্যান সিদ্ধার্থ মজুমদার বলেন, ‘নবম-দশম ও একাদশ-দ্বাদশের মডেল আনসার কি আপলোড করা হবে যথাক্রমে ১৬ সেপ্টেম্বর ও ২০ সেপ্টেম্বর।’ এদিকে রাজ্যের একাধিক পরীক্ষা কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে স্মার্টফোন নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠল। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাও ছড়াল। 

Advertisement

উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ কুমুদিনী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে এক পরীক্ষার্থী মোবাইল ব্যবহার করছিল বলে অভিযোগ ওঠে। তাকে আটক করা হয়েছে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য। একই ঘটনা ঘটেছে নদীয়ার তেহট্টতে। স্মার্টফোন নিয়ে পরীক্ষা দেওয়ার অভিযোগে পুলিশ এক পরীক্ষার্থীকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতের নাম প্রবীর বিশ্বাস। রবিববার তেহট্ট থানার বেতাই উচ্চ বিদ্যালয়ের ওই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। পুলিশ ওই পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে একটি স্মার্টফোন ও ব্লুটুথ হেডফোন উদ্ধার করে। এদিকে, হাবড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের বদলে হাবড়া চৈতন্য কলেজে ঢুকে পড়েছিলেন এক পরীক্ষার্থী। ১১টা ৪০ নাগাদ কর্তব্যরত এক ট্রাফিক পুলিশ এই পরীক্ষার্থীকে সঠিক কেন্দ্রে নিয়ে যান। পরীক্ষা শেষে উত্তেজনা ছড়ায় মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুরে। জঙ্গিপুর হাইস্কুলের অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখান পরীক্ষার্থীরা। সিল কাটা প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ পরীক্ষার্থীদের। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে রঘুনাথগঞ্জ থানার পুলিশ। মহিষাদল রাজ কলেজে সোনা বাঁধানো পলা ও শাঁখা খোলার নির্দেশিকা ঘিরে উত্তেজনা ছড়াল। কুমকুম পুরকাইত নামে সুতাহাটার এক পরীক্ষার্থী ওই পরীক্ষাকেন্দ্রে আসেন। চেকিংয়ের দায়িত্বে থাকা এজেন্সির কর্মীরা তাঁকে সোনার সব গয়না খুলে আসতে বলেন। ওই পরীক্ষার্থী বলেন, ‘আমি একজন সধবা নারী। আমি শাঁখা, পলা খুলব কেন?’ এরপর ওই পরীক্ষার্থী সোনার চেন ও আংটি খুলে পরীক্ষা দিতে যান। তবে, শাঁখা, পলা খুলতে রাজি হননি। পানিহাটিতে এক পরীক্ষার্থীর পরিচয়পত্র নিয়ে সমস্যা দেখা দেয়। কমিশনের তরফে এদিন জানানো হয়েছে, আনসার কি প্রকাশের পর পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে মতামত নেওয়া হবে। পাঁচদিন সময় দেওয়া হবে। তারপর নম্বর বিভাজনসহ কারা প্যানেল ও ইন্টারভিউ দেবেন তা ওয়েবসাইটে দেওয়া হবে। প্যানেলের মেয়াদ প্যানেলের প্রকাশের পর থেকে দেড় বছর। এদিন বিকাশ ভবনে সাংবাদিক সম্মেলন থেকে জানানো হয়েছে, নবম-দশম শ্রেণিতে ভিন রাজ্য থেকে পরীক্ষা দিয়েছেন ৩১ হাজার ৩৬২ জন। একাদশ-দ্বাদশে পরীক্ষা দিয়েছে ১৩ হাজার ৫১৭ জন। একাদশ-দ্বাদশে আবেদন করেছিল ২ লক্ষ ৪৬ হাজার ৫৪৩ জন। তার মধ্যে ৩১২০ জন বিশেষ ভাবে সক্ষম‌ ও দৃষ্টিহীন ৬৫৩ জন। পরীক্ষায় বসেছেন ২ লক্ষ ২৯ হাজার ৪৯৭ জন‌। সব মিলিয়ে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৫ লক্ষ ৬৬ হাজার। ভিন রাজ্যের পরীক্ষার্থীদের প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বাইরের রাজ্য থেকে যাঁরা পরীক্ষা দিতে এসেছেন তাঁদের মধ্যে একটি বড় অংশ উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের বাসিন্দা। ডবল ইঞ্জিন সরকারের সাফল্য ও ব্যর্থতার খতিয়ান আসলে কত, এই তথ্য থেকে তার হিসেব আপনারা পরিষ্কার পাবেন। তার কারণ এই সমস্ত রাজ্যে কোনও চাকরি নেই। বেকারত্বই বৃদ্ধি পেয়েছে। এদিকে, পরীক্ষা দিতে এসে প্রতিবাদী যোগ্য শিক্ষকরা ফের রাজ্য সরকারকে কটাক্ষ করলেন। এই বিষয়ে ব্রাত্যবাবু বলেন, ‘যাঁরা প্রতিবাদী ছিলেন তাঁদের শুভেচ্ছা। একটু সময় লাগল, কিন্তু তাঁরা পরীক্ষা দিয়েছেন।’

সম্পর্কিত সংবাদ