নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: বাংলায় চাকরির সন্ধানে অযোধ্যা থেকে মালদহে হাজির ‘রামজি’! আশা করছেন, স্কুল সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চাকরি পাবেন দিদির রাজ্যে। তিনি উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যা জেলার পাশে গোন্ডা গ্রামের বাসিন্দা রামজি মিশ্রা। রবিবার মালদহের উইমেন্স কলেজে সিট পড়েছিল রামজির। হিন্দি মাধ্যম স্কুলের শিক্ষক পদে যোগ্যতাঅর্জন পরীক্ষায় বসতে এদিন তিনি মালদহে এসেছিলেন। পরীক্ষাও দেন। এছাড়াও ঝাড়খণ্ড, বিহার সহ একাধিক রাজ্য থেকে প্রচুর ‘পরিযায়ী’ পরীক্ষার্থী এদিন মালদহের বিভিন্ন এলাকায় এসএসসি পরীক্ষা দিতে আসেন। রামজির মতোই ঝাড়খণ্ড থেকে অরুণ প্যাটেল, বিহার থেকে অমিত ঝা এসেছিলেন। অনেকের দাবি, তাঁদের রাজ্যে চাকরির শূন্যপদের সংখ্যা অনেকটা কমে যাওয়ায় বাংলার দিকে নজর ঘুরিয়েছেন। কয়েকজন জানিয়েছেন, শুধুমাত্র বিভিন্ন রাজ্যের পরীক্ষা কীভাবে হচ্ছে, সেই প্যাটার্ন বুঝতেই বাংলায় এসেছেন। সবমিলিয়ে মালদহ শহরের একাধিক পরীক্ষাকেন্দ্রে পরিযায়ী পরীক্ষার্থীদের সংখ্যা ছিল চোখে পড়ার মতো। পরীক্ষা শেষে কেন্দ্রগুলিতে ব্যবস্থাপনা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন পরীক্ষার্থীরা। মালদহ জেলায় এদিন পরীক্ষা ঘিরে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। যদিও, গঙ্গারামপুরে ফোন নিয়ে ঢোকায় একজনের পরীক্ষা বাতিল হয়।
জেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিদর্শক বাণীব্রত দাস বলেন আমরা আজ সারাদিন কন্ট্রোলরুমে বসে পরীক্ষা কেন্দ্রগুলির উপর নজর রেখেছিলাম। কোথাও কোনও সমস্যা হয়নি। সব কেন্দ্রেই পরীক্ষা শান্তিপূর্ণভাবে হয়েছে।
এবার এসএসসি পরীক্ষায় মালদহ জেলার ৪৪টি কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ২০ হাজার ৫০৬ জন। যদিও পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত ছিলেন ১৯ হাজার ১১৪ জন। সকাল থেকেই প্রত্যেকটি পরীক্ষা কেন্দ্রে পরীক্ষক এবং পুলিশের নজরদারি ছিল চোখে পড়ার মতো। কোথাও যাতে কোনও সমস্যা না হয়, তার জন্য সরকারি অতিরিক্ত বাস চালানো হয়েছে। নির্দিষ্ট সময় প্রত্যেকটি পরীক্ষাকেন্দ্রে পরীক্ষা শুরু হয়েছিল। সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী প্রত্যেক পরীক্ষার্থীকে সঠিকভাবে পরীক্ষা করার পরে কেন্দ্রে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হয়। পরীক্ষকরাও সর্বদা কেন্দ্রগুলিতে নজর রেখেছিলেন।
দক্ষিণ দিনাজপুর জেলাতেও সমস্যা হয়নি পরীক্ষা ঘিরে। জেলায় মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ৮ হাজার ৫৯৯ জন। তাঁদের মধ্যে পরীক্ষা দিয়েছেন ৭ হাজার ৮৮২। গঙ্গারামপুরের নিরঞ্জন ঘোষ স্মৃতি বিদ্যাপীঠে এক পরীক্ষার্থীকে মোবাইল সহ আটক করা হয়। তাঁর পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। বংশীহারির একটি স্কুলে এক পরীক্ষার্থী অসুস্থ হলে চিকিত্সার পর সেখানেই পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়।
উত্তর দিনাজপুর জেলায় এদিন প্রায় আট হাজার জন পরীক্ষা দিয়েছেন।