নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: তালিকায় নাম ছিল না। বাড়ি পাওয়ার জন্য ‘সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী’তে ফোন করেছিলেন বহু পরিবার। সেই তালিকা নবান্ন থেকে জেলায় পাঠানো হয়। তা খতিয়ে দেখেন আধিকারিকরা। সুপার চেকিং হওয়ার পর ৬২৬৬টি পরিবার ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পে টাকা পেতে চলেছে। জেলাশাসক আয়েশা রানি এ বলেন, আবেদন করা পরিবারগুলির তালিকা খতিয়ে দেখার পর তা চূড়ান্ত করা হয়েছে।
Advertisement
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আবাস যোজনা প্রকল্পে ২০১৮ সালে তালিকা তৈরি হয়। বহু দুঃস্থ পরিবার তালিকা থেকে বাদ চলে যায়। ঝুঁকি নিয়ে তারা মাটির বাড়িতে বাস করছিলেন। পরে তারা সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীতে ফোন করে নিজেদের অসহায় অবস্থার কথা জানান। তারপরই রাজ্য সরকার তাদের বাড়ি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জেলায় সব মিলিয়ে ১ লক্ষ ৩০হাজার ৯৫৯টি পরিবার এই প্রকল্পে টাকা পেতে চলেছে। চলতি মাসেই পরিবারগুলির অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকবে। ডিভিসির ছাড়া জলে জামালপুর, রায়না-২ এলাকার বহু মাটির বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেই পরিবারগুলিকেও সরকার ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পে টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এরকম ৯৩১টি পরিবার টাকা পেতে চলেছে। অতিরিক্ত জেলাশাসক (জেলাপরিষদ) শুভলক্ষ্মী বসু বলেন, তালিকা যাচাই করে বহু অযোগ্য নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। যারা যোগ্য শুধু তাদের নাম তালিকায় রয়েছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আবাস যোজনার তালিকা যাচাই করতে জেলা প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা ময়দানে নামেন। খোদ জেলাশাসক এবং পুলিস সুপারও বিভিন্ন এলাকায় যান। প্রকল্পের টাকা পেতে অনেকেই গোয়ালঘর বা রান্নাঘরে ডেরা বেঁধেছিলেন। কিন্তু, আধিকারিকরা সতর্ক থাকায় তাদের ইচ্ছে পূরণ হয়নি। সুপার চেকিংয়ে ছলচাতুরি ধরা পড়ে যায়। তবে জেলার বাসিন্দাদের দাবি, এখনও বহু পরিবার মাটির বাড়িতে বসবাস করছে। তাদের নাম তালিকায় ছিল না। বাড়ি পাওয়ার জন্য তারা বিভিন্ন জায়গায় ছোটাছুটি করছে। এক আধিকারিক বলেন, পুরনো তালিকা যাচাই করা হয়েছে। নতুন করে তালিকা তৈরি হয়নি। পরে আবার তালিকা হতে পারে। পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সভাধিপতি শামাপ্রসন্ন লোহার বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার আবাস যোজনার টাকা আটকে রেখে রাজ্যের বাসিন্দাদের বঞ্চনা করছে। দিল্লি থেকে টাকা পাঠানো হলে এতদিন ঝুঁকি নিয়ে ওই পরিবারগুলিকে বসবাস করতে হতো না। রাজ্য সরকার নিজেদের তহবিল থেকে টাকা দিয়ে লক্ষাধিক পরিবারকে মাথা গোঁজার পাকা আস্তানা করে দিচ্ছে। আগামী দিনে অন্যান্য পরিবারগুলিও পাকাবাড়ি পাবে। রাজ্যের বাসিন্দাদের পাশে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রয়েছেন। আর এক আধিকারিক বলেন, তালিকা নাম থাকা পরিবারগুলির অ্যাকাউন্ট যাচাই করা হবে। ট্যাব কেলেঙ্কারি থেকে শিক্ষা নিয়ে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।



