গণেশ মজুমদার, কালনা: কালনার ঐতিহ্যবাহী সরস্বতী পুজো ঘিরে মেতে উঠেছে শহর ও গ্রাম। শহরে এবার শতাধিক পুজো হচ্ছে। জনজোয়ারে শহরের সঙ্গে সমানে পাল্লা দিল শহরতলির গ্রামীণ পুজোগুলি। এবার শহরের নামী পুজো মণ্ডপে চতুর্থীর দিন থেকে ভিড় উপচে পড়ে। তেমনই শহর সংলগ্ন হাটকালনা পঞ্চায়েতের তালবোনা, ধাত্রীগ্রামের পুজোগুলিতেও দর্শনার্থীদের ভিড় উপচে পড়ে। শহরকে টেক্কা দিতে গ্রামীণ পুজোগুলির মণ্ডপ ও থিমের আকর্ষণ বাড়ছে। দর্শকরাও ঝুঁকছে গ্রামীণ বলয়ে। কালনা বড়মিত্রপাড়ার বিধান স্মৃতিসঙ্ঘ প্রাচীন ক্লাবগুলির মধ্যে অন্যতম। বিগ বাজেটের এই পুজোমণ্ডপে কাপড় ও থার্মোকল, ফোম দিয়ে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হল তুলে ধরা হয়েছে। সুদৃশ্য মণ্ডপ সকলের মন জয় করেছে। মণ্ডপে জনজোয়ার আছড়ে পড়ছে। প্রতিমাও দর্শনার্থীদের মন জয় করেছে।
Advertisement
কালনা পুরনো বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ত্রিধারার পুজো এবার তৃতীয় বর্ষ। কাপড়, ফোম, থার্মোকল দিয়ে পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের আদলে মণ্ডপ ও আলোর রোশনাই দর্শনার্থী টানছে। ব্যাপক ভিড় সামাল দিতে বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষী রাখতে হয়েছে। সোমবার লম্বা লাইন দিয়ে দর্শকরা মণ্ডপ ও প্রতিমা দেখেন। জাপট দীপালি সঙ্ঘ অর্ধ শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাব। কাপড় ও থার্মোকল দিয়ে বৃন্দাবনের প্রেম মন্দিরের আদলে মণ্ডপ গড়েছে তারা। আর্টের প্রতিমা দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করছে। গ্রামীণ বলয়ে হাটকালনা পঞ্চায়েতের সপ্তর্ষি সঙ্ঘ প্রতি বছরই দর্শকদের জন্য নতুনত্ব হাজির করে। বিগত বছরে কাচমহল, বুর্জ খলিফা টাওয়ার, টুইন টাওয়ার করে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল। এবার তারা কুলো, বাঁশের হস্তশিল্প দিয়ে ‘প্রান্তজনের আত্মকথা’ মণ্ডপের থিম তৈরি করে সেরাদের দৌড়ে এগিয়ে। সঙ্গে প্রতিমায় চমক ও আলোর রোশনাই রয়েছে। পার্শ্ববর্তী নিউ প্রান্তিক ক্লাব এবার গ্রামীণ বলয়ে চমক দিয়েছে। প্লাস্টিক, ফোম, কাগজ দিয়ে তৈরি মণ্ডপ ‘ফুলপরীর দেশে’ দেখতে ভিড় জমান দর্শনার্থীরা। লিচুতলার হ্যাপি ক্লাব এবার প্রতিমায় চমক দিয়েছে। কয়েকশো বোতাম দিয়ে প্রতিমা তৈরি করা হয়েছে। যা দেখতে ভিড় উপচে পড়ছে। ধাত্রীগ্রামের ফুটবল ময়দানের পাশে অস্কার ক্লাবের এবারের থিম ‘তারকেশ্বর যাত্রা’। বিভিন্ন দৃশ্যের মধ্যে দিয়ে তা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।



