সংবাদদাতা, কান্দি: পড়াশোনার খরচ জোগাড়ে দেবী সরস্বতীর উপরই ভরসা কান্দির পড়ুয়াদের। তাঁদের হাতে তৈরি বাগদেবী পূজিত হবে বিভিন্ন গ্রামের মণ্ডপে। কেউ বিএ প্রথমবর্ষের ছাত্র। কেউ আবার অষ্টমশ্রেণিতে পড়াশোনা করে। এবছর এঁদের হাতে তৈরি হচ্ছে অন্তত গোটা তিরিশেক সরস্বতী প্রতিমা। যেগুলি কান্দি মহকুমার বিভিন্ন গ্রামের মণ্ডপে পূজিত হবে। নেহাত শখ নয়, প্রতিমা তৈরির লাভের অর্থ দিয়েই তাঁরা নিজের পড়াশোনার খরচ চালায়।
Advertisement
কান্দির অর্ণব পালের ছোট থেকেই ছবি আঁকা ও প্রতিমা গড়ার সখ রয়েছে। এবছর একটি ছোট আকারের দুর্গাও বানিয়ে নজর কাড়ে এলাকায়। এবার তাঁদের হাতে তৈরি হচ্ছে ১৯টি সরস্বতী প্রতিমা। যার মধ্যে দু’টি বড় প্রতিমা রয়েছে। কান্দির রাজা বীরেন্দ্রচন্দ্র কলেজের প্রথমবর্ষের ছাত্র অর্ণবের হাতে তৈরি প্রতিমা পূজিত হবে স্থানীয় গোপীনাথপুর, জেমো, মনোহরপুর ছাড়াও কান্দি শহরের বিভিন্ন মণ্ডপে। অর্ণব জানান, পড়াশোনার ফাঁকে যখনই সময় পেয়ে থাকি প্রতিমা তৈরি করি। সবাই আমাকে সাহস দেয়। সেই সাহসে ভর করেই এবছর ১৯টি প্রতিমা তৈরি করছি। প্রতিমা তৈরি করে যে আয় হবে তা অবশ্যই পড়াশোনার জন্য খরচ করব। এদিকে কান্দি শহরের ডোমপাড়া এলাকার রাহুল বিত্তারও কান্দি রাজ কলেজের বিএ প্রথমবর্ষের ছাত্র। এবছর তিনিও অন্তত ১০টি প্রতিমা তৈরি করছেন বলে জানিয়েছেন। তাঁর প্রতিমাগুলি পাড়ার দু’টি মণ্ডপ ছাড়াও কাছাকাছি গ্রামের মণ্ডপেও পূজিত হবে। রাহুল জানায়, কয়েকবছর ধরেই তিনি প্রতিমা তৈরি করছেন। পড়াশোনার ফাঁকে প্রতিমা তৈরি করে থাকি। এদিকে ভরতপুর থানার মাসলাই গ্রামের অষ্টমশ্রেণির পড়ুয়া সুরেশ দে’র হাতেও এবছর তিনটি সরস্বতী প্রতিমা তৈরি হচ্ছে। যদিও প্রতিমাগুলি গ্রামের বিভিন্ন মণ্ডপে পূজিত হবে। এর মধ্যে একটি প্রতিমা নিজেদের ক্লাবের পুজোয় যাবে। সুরেশ জানায়, গ্রামে যখন মৃৎশিল্পীরা আসেন। তখন তাঁদের সাহায্য করার সময় প্রতিমা তৈরির কাজ শিখেছি। এরপর এবছর থেকে নিজেই প্রতিমা তৈরি করছি। সবাই আমাকে সাহস দিয়ে থাকে। প্রতিমা তৈরি করে যে আয় হবে তা পরিবারকে দেওয়ার সঙ্গে পড়াশোনায় খরচ করব বলে মনে করেছি।



