সংবাদদাতা, লালবাগ: সরস্বতী পুজোকে সামনে রেখে মুর্শিদাবাদ থানার কুর্মিটোলা হাইস্কুলের তরফে বিজ্ঞান প্রদর্শনী ও খাদ্য মেলার আয়োজন করা হয়। দু’দিনের এই কর্মসূচির প্রথমদিন অর্থাৎ সোমবার স্কুলের হলঘরে বিজ্ঞান প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। বিজ্ঞান প্রদর্শনীতে স্কুলের পড়ুয়ারা বর্তমান সময়ের বিভিন্ন সমস্যা ও তার সমাধানের উপায় মডেলের মাধ্যমে তুলে ধরে। এদিন ফিতে কেটে ও প্রদীপ জ্বালিয়ে বিজ্ঞান প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন রাজ্য পুলিসের অন্যতম কর্তা সৈয়দ মহম্মদ হুসেন মির্জা। উপস্থিত ছিলেন জেলা সর্বশিক্ষা মিশন আধিকারিক এষা ঘোষ, বিদ্যালয় পরিচালন কমিটির সভাপতি সমরেশ দাস, রাজ্য মহিলা ভলিবল দলের প্রাক্তন অধিনায়ক সাবা মির্জা প্রমুখ।
Advertisement
স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন বিজ্ঞানের পাশাপাশি হাতের কাজের প্রদর্শনীও হয়। সপ্তম থেকে দশম শ্রেণির পড়ুয়ারা বিজ্ঞান প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছিল। অপর দিকে পঞ্চম ও ষষ্ঠ শ্রেণির পড়ুয়াদের হাতের তৈরি জিনিসের প্রদর্শনী হয়। বিজ্ঞান প্রদর্শনীতে মডেলের মাধ্যমে পলিউশন ফ্রি পাওয়ার, সোলার সিস্টেম, প্লাস্টিক দূষণ, ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট সহ বর্তমান সময়ের পরিবেশের বিভিন্ন সমস্যা ও সমাধানের উপর আলোকপাত করা হয়। মুর্শিদাবাদ থানার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিজ্ঞান মনস্ক মানুষজন প্রদর্শনীতে এসেছিলেন। সকলেই ছাত্রছাত্রীদের মডেলের ভূয়সী প্রশংসা করেন। বিজ্ঞান প্রদর্শনীর পাশাপাশি স্কুলের মাঠে নৃত্যানুষ্ঠান, নাটক, আবৃত্তি, গান প্রভৃতি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মঙ্গলবার খাদ্য মেলার আয়োজন করা হবে। খাদ্য মেলায় ৩০টি স্টল থাকবে। স্টলগুলিতে শীতের পিঠেপুলি, পায়েস, বিরিয়ানি, পকোড়া, রকমারি মিষ্টি থেকে চা কফিও থাকবে। পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়ারা স্টলগুলির দায়িত্বে থাকবে। স্টলেই রান্না করে টাটকা খাবার খাদ্যরসিক ক্রেতাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। খাবারের প্রতিটি আইটেমের মূল্য বাজারের তুলনায় অনেকটাই কম রাখা হবে বলে দাবি করা হয়েছে। প্রধান শিক্ষক নরেশচন্দ্র হালদার বলেন, পড়াশোনার প্রতি আকর্ষণ বৃদ্ধি করে স্কুলছুট কমানোর জন্য দু’দিনের এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। খাদ্য মেলায় অংশগ্রহণের জন্য বহু পড়ুয়া আবেদন জানিয়েছিল। বাধ্য হয়ে বাছাই করে নিতে হয়েছে। বর্তমানে বেকারত্ব একটি বড় সমস্যা। তাই পড়াশোনার পাশাপাশি খাবারের বিভিন্ন আইটেম তৈরির কাজকে পেশা হিসেবে নিতে পারবে। এই বিষয়ে মার্কেটিংটা যাতে আধুনিকভাবে করতে পারে সেই বিষয়েও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া বাজারে বিক্রি হওয়া বাসি ও টাটকা খাবার যাচাইয়েরও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।



