Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সারের কালোবাজারি রুখতে মাঠে গিয়ে চাষিদের সঙ্গে আধিকারিকদের কথা বলার নির্দেশ রাজ্যের

সারের কালোবাজারি রুখতে মাঠে গিয়ে চাষিদের সঙ্গে আধিকারিকদের কথা বলার নির্দেশ রাজ্যের
  • ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: সারের কালোবাজারি বন্ধ করতে কড়া পদক্ষেপ নিল রাজ্য‌ সরকার। সার ন্যায্যমূল্যে বিক্রি হচ্ছে কি না, তা জানতে আধিকারিকরা মাঠে গিয়ে চাষিদের সঙ্গে কথা বলবেন। এতদিন তাঁরা সার ব্যবসায়ীদের গোডাউনগুলিতে গিয়ে ‘স্টক’ দেখতেন। খাতায় কলমে হিসেব না মিললে শোকজ করা হতো। এবার থেকে শুধু সেটা করেই আধিকারিকরা থেমে থাকবেন না, তাঁরা চাষিদের সঙ্গে মাঠে কথা বলার পাশাপাশি নিজেদের ফোন নম্বর দিয়ে আসবেন। 
Advertisement
কৃষিদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, বোরো চাষের মরশুমে সারের দাম বৃদ্ধির খবর ‘বর্তমান’ পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার পর কৃষিদপ্তর নড়েচড়ে বসে। শুক্রবার আধিকারিকরা পূর্ব বর্ধমানের ভাতার, গলসি, খণ্ডঘোষ সহ বিভিন্ন ব্লকের গোডাউনগুলি পরিদর্শন করেন। কৃষিদপ্তরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি ওঙ্কার সিং মীনা বলেন, প্রতিটি জেলাতেই যথেষ্ট পরিমাণ সার মজুত রয়েছে। দোকানগুলিতে আরও বেশি করে নজরদারি চালানোর জন্য বলা হয়েছে। তাঁরা সরাসরি চাষিদের সঙ্গে কথা বলবেন। তাঁদের অভিযোগ থাকলে খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেবেন। সারের রসিদ দেওয়া বাধ্যতামূলক।
চাষিরা বলেন, আলু চাষের মরশুমে কৃষিদপ্তরের কড়া নজরদারি থাকায়  ডিলাররা সারের কালোবাজারি সেভাবে করতে পারেননি। মরশুমে শুরু থেকেই আধিকারিকরা ব্যবস্থা নিয়েছিলেন। কয়েকজন বিক্রেতাকে শোকজ করা হয়েছিল। তাতে চাষিরা স্বস্তি পেয়েছিলেন। কিন্তু, বোরো চাষের মরশুমে এক শ্রেণির সার ব্যবসায়ী ফের ফায়দা তুলছে। চাষিদের অভিযোগ, মেমারি, ভাতার এলাকার কিছু ব্যবসায়ী এমআরপির থেকে অনেক বেশি দামে সার বিক্রি করছেন। কেউ যাতে অভিযোগ করতে না পারেন, তারজন্য তাঁরা রসিদ দিচ্ছেন না। এক চাষি বলেন, সারের সঙ্গে ‘ট্যাগ’ নিতে বাধ্য করা হচ্ছে। কেউ তা না নিলে আরও বেশি সারের দাম নেওয়া হচ্ছিল। তবে শুক্রবার থেকে কৃষিদপ্তরের আধিকারিকরা ময়দানে নামায় পরিস্থিতি ঘুরতে শুরু করেছে। ভাতারের এক চাষি বলেন, আধিকারিকরা ময়দানে থাকলে সারের দাম বাড়ানোর সুযোগ থাকবে না। দাম বেশি নিলেও চাষিদের কিছু করার থাকে না। প্রতিবাদ করলে বিক্রেতারা সার দেয় না। রসিদ চাইলে ফিরিয়ে দেয়। আবার অনেক সময় রসিদ দিলেও তাতে সঠিক দাম লেখা হয় না। 
কৃষিদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, সারের দাম সঠিক নেওয়া হচ্ছে কি না, তা জানতে চাষিদের ফোন করা হবে। চাষিরা নিজেদের পরিচয় গোপন রেখেও অভিযোগ জানাতে পারেন। কৃষিদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিটি জেলায় সব ধরনের সার পর্যাপ্ত পরিমাণ মজুত রয়েছে। ডিএপি বা ইউরিয়া সার এই সময় বেশি দরকার হয়। এই দুই ধরনেরর সারেরও অভাব নেই। তারপরও যারা দাম বেশি নিচ্ছে, তাদের চিহ্নিত করে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। 
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ