সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর: সীমান্ত কৃষ্ণগঞ্জ ব্লকে সারের কালোবাজারি আটকাতে একাধিক ব্যবস্থা নিচ্ছে ব্লক প্রশাসন। এ নিয়ে বৃহস্পতিবার বিডিও অফিসে একটি মিটিং হয়। জানা গিয়েছে, বিশেষত যে সমস্ত জায়গায় আলুর চাহিদা বেশি সেখানে ‘দশ ছাব্বিশ ছাব্বিশ’ সার বেশি চলে। তবে কৃষ্ণগঞ্জ ব্লকে পেঁয়াজের চাষ ভালো হয়। সেই চাষের জমিতে ‘দশ ছাব্বিশ ছাব্বিশ’ সার বেশি প্রয়োগ হচ্ছে। এই সারের জোগান কম। তুলনায় চাহিদা বেশি হওয়ায় কিছু ব্যবসায়ী এই সারের দাম বেশি নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই সারের ৫০ কেজির প্যাকেটের দাম ১৪৭০ টাকা। কিন্ত সেই সার ১৮৯০ থেকে ১৯২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। চাষিরা পড়েছেন সমস্যায়। এই অভিযোগ ব্লক প্রশাসনের কাছে আসতেই কালোবাজারি আটকাতে বৃ্হস্পতিবার সকল স্তরের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি মিটিং হয়। এই মিটিংয়ে আলোচনার মধ্যে দিয়ে ব্লক প্রশাসন একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রথমত, সমস্ত ডিলারদের এমআরপি দিয়ে বোর্ড ঝোলাতে হবে। চাষের জমিতে ইউরিয়া, পটাশ, ফসফরাস ব্যবহার করতে হবে। আঠাশ আঠাশ, পনেরো পনেরো সার ব্যবহার করতে হবে। জানা গিয়েছে, এ সম্বলিত একটি লিফলেট তৈরি করে তা ব্লকে সচেতনতার উদ্দেশ্যে মাইকিং করে প্রচার করা হবে। তাতে চাষিদের সার, জমি চাষ নিয়ে অনেক ধোঁয়াশা কেটে যাবে বলে কৃষি কর্তাদের আশা। নদীয়া এগ্রি ডিলার অ্যাসোসিয়েশন কৃষ্ণগঞ্জ ব্লকের ৭০ জন সার ব্যবসায়ী এদিন উপস্থিত ছিলেন। ব্যবসায়ীরা জানান, সার প্রস্তুতকারী কোম্পানির সেলিং পয়েন্ট পর্যন্ত সার পৌঁছে দেওয়ার কথা থাকলেও তা করছে না। ফলে দূর থেকে ওই সার আনতে গিয়ে গাড়ি খরচ বেশি পড়ে যাচ্ছে। কখনও এর জন্য সারের দাম কেউ বেশি নিয়ে নিচ্ছে। এ নিয়ে নদীয়া এগ্রি ডিলার অ্যাসোসিয়েশন কৃষ্ণগঞ্জ ব্লক সম্পাদক সমীর বিশ্বাস বলেন, ‹দশ ছাব্বিশ ছাব্বিশ’ সাপ্লাই কম। অথচ চাহিদা বেশি হয়ে যাওয়ায় কোনও ব্যবসায়ী দু’-একশো টাকা বেশি দামে বিক্রি করেছে। আমরা কথা বলেছি। আর কেউ বেশি দাম দিয়ে বিক্রি করবে না বলে কথা দিয়েছে।› এ প্রসঙ্গে বিডিও সৌগতকুমার সাহা বলেন, ‘আমরা সারের কালোবাজারি নিয়ে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেব। সেজন্য এদিন সবাইকে নিয়ে মিটিং করা হয়েছে।’ এ নিয়ে উপ কৃষি অধিকর্তা জয়দীপ মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘সার নিয়ে কালোবাজারির একটা অভিযোগ আসছিল। সেই মতো ব্লকে পঞ্চায়েত সমিতি, ব্লকের প্রশাসনিক কর্তা, চাষি, সার ব্যবসায়ীদের নিয়ে একটা আলোচনা হয়েছে। সকলের সঙ্গে কথা বলেছি। এবার সার নিয়ে কালোবাজারির অভিযোগ এলে বরদাস্ত করা হবে না। জয়দীপ মুখোপাধ্যায় আরও বলেন, আমরা বলছি শুধু দশ ছাব্বিশ ছাব্বিশ সার ব্যবহার করলে হবে না। এর পরিবর্তে অন্য সার আছে। যা যথেষ্ট ভালো।



