Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সারের কালোবাজারি রোধে কড়া প্রশাসন, এমআরপির অধিক দাম নিলেই শাস্তি

সারের কালোবাজারি রোধে কড়া প্রশাসন, এমআরপির অধিক দাম নিলেই শাস্তি
  • ২১ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, ঘাটাল: আলু চাষ তথা রবি মরশুম শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘাটাল মহকুমাজুড়ে রাসায়নিক সারের ব্যাপক কালোবাজারির শুরু হয়েছে। সর্বাধিক বিক্রয়মূল্য বা এমআরপির থেকে বস্তা পিছু  পাঁচ-ছ’শ টাকা বেশি দিয়ে চাষিরা সার কিনতে বাধ্য হতে হচ্ছেন। মরশুমের শুরুতে চাষিদের মাথায় হাত পড়েছে। সারের এই কালোবাজারি কৃষিদপ্তরেরও নজরে এসেছে। ঘাটাল মহকুমার কৃষিদপ্তরের এক এডিএ ইন্দ্রনীল সামুই বলেন, ‘প্রিন্ট রেটের বাইরে যাতে কোনও বিক্রেতা একটি টাকাও বেশি নিতে না পারে তার জন্য আমাদের নিয়মিত মনিটরিং চলছে। চলতি সপ্তাহে সার বিক্রেতাদের সঙ্গে একটি মিটিংও করা হয়েছে। সেখানে তাঁদের সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। আমাদের কাছে এনিয়ে লিখিত অভিযোগ এলে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
Advertisement
৫০ কেজি সার কিনতে গেলে সরকারি ভর্তুকির টাকাও কার্যত উসুল করে নিচ্ছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা। প্রত্যেক বছর জেলার প্রশাসনিক আধিকারিকরা রাসায়নিক সারের কালোবাজারি বন্ধ করতে উদ্যোগী হলেও দেখা যাচ্ছে ‘বজ্র আঁটুনি ফসকা গেরো’ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ঘাটাল মহকুমার সর্বত্রই  সারের কালোবাজারি হচ্ছে। বিশেষ করে এন-পি-কে ১০-২৬-২৬ সারে। ওই সারের বস্তার গায়ে দাম লেখা রয়েছে ২১০৯ টাকা ৪০ পয়সা। এর মধ্যে কেন্দ্র সরকার প্রতি বস্তা সারের জন্য ভর্তুকি দিচ্ছে ৬৩৯ টাকা ৪০ পয়সা। ফলে বিক্রয় মূল্য দাঁড়াচ্ছে ১৪৭০ টাকা। সেই  সার কোথাও ১৮০০ টাকা, কোথাও বা ২১০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে চাষিদের।
চাষিরা জানান, কোনও দোকানদার বস্তা পিছু সরাসরি ৫০০-৬০০ টাকা অতিরিক্ত চাইছেন। আবার কোনও বিক্রেতা ওই সারের সঙ্গে অন্য কোনও সার কিনতে বাধ্য করছেন। এনিয়ে ঘাটাল শহরের সারের ডিলার মানসকুমার দে জানিয়েছেন, তাঁরা এন-পি-কে ১০-২৬-২৬ সার বিক্রি করেন না। অন্যান্য সার প্রিন্ট রেটেই বিক্রি করছেন। ঘাটালে বহু সমবায় সমিতি সার বিক্রি করে থাকে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে সারের দাম বেশি নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ আসছে বলে স্বীকার করেছেন ঘাটাল ব্লকের মনশুকা-খড়কপুর সমবায় সমতির সদস্য তথা তৃণমূল নেতা কিঙ্কর পণ্ডিত। তবে বিষয়টি সবিস্তারে খোঁজ নিয়ে মন্তব্য করবেন বলে জানান। অন্যদিকে ওই ব্লকের মনশুকা সমবায় সমিতির সম্পাদক অসিত গোস্বামী বলেন, ‘আমাদের এলাকা পর্যন্ত লরি যাতায়াত করে না। নৌকো এবং সাইকেলে করে সারের বস্তা আনতে হয়। তার জন্য একটা খরচ রয়েছে। তার উপর এন-পি-কে ১০-২৬-২৬ সার বিক্রি করে লাভ কম থাকে। তাই অনেক সময়ে চাষিদের ওই সারের সঙ্গে অন্য কোনও সার নিতে অনুরোধ করা হয়। সেই আনুষঙ্গিক সারের দাম যোগ করেই চাষিরা এন-পি-কে ১০-২৬-২৬ দাম বাড়িয়ে বলছেন। কিন্তু আমরা প্রিন্ট রেটের বাইরে কোনও সার বিক্রি করি না।’
মরশুমের শুরুতে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে সার কিনতে গিয়ে ক্ষতির মুখে পড়ছেন চাষিরা। তবে কৃষিদপ্তরের পাল্টা দাবি, চাষিদের কিছু বদ্ধ ধারণার জন্যই তাঁদের বেশি টাকা দিয়ে সার কিনতে হচ্ছে। কৃষিদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, ‘শুধুমাত্র এন-পি-কে ১০-২৬-২৬ সারের দাম বেশি নেওয়ার অভিযোগ আসছে। অন্য সার কেনার ক্ষেত্রে সে অর্থে কোনও অভিযোগ নেই। চাষিরা ইচ্ছে করলেই এন-পি-কে ১৪-৩৫-১৪ সার সহ অন্য সার দিয়ে আলু সহ অন্যান্য চাষ করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে ফলন কম হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই। চাষিরা সেই বদ্ধ ধারণা থেকে বেরিয়ে আসছেন না। কৃষিদপ্তর এনিয়ে বার বার সচেতনতা শিবির করেও চাষিদের বোঝাতে পারছেন না।’ যদিও  চাষিরা জানান, শুধু এন-পি-কে ১০-২৬-২৬ নয়। প্রত্যেক সারেরই  কালোবাজারি  হচ্ছে ঘাটাল মহকুমায়।
সম্পর্কিত সংবাদ