Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সিরাপ পাচারের রুটের দখল নিতেই কি বাঁধা হচ্ছিল বোমা?

সিরাপ পাচারের রুটের দখল নিতেই কি বাঁধা হচ্ছিল বোমা?
  • ১০ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, ডোমকল: জিরো পয়েন্টে কড়া নিরাপত্তা শুরু হয়েছে বিএসএফের। ফলে পুরনো রুটে বন্ধ হয়েছে ওপার বাংলায় নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ পাচার। পরিবর্তে অন্য রুটে পাঠাতে হচ্ছে অবৈধ কাশির সিরাপ। সেই রুটের দখল নেওয়ার জন্যই কি বাঁধা হচ্ছিল বোমা? নাকি পিছনে রয়েছে অন্য কারণ? সাগরপাড়ার বিস্ফোরণ কাণ্ডের নেপথ্যের আসল কারণ খুঁজতে মরিয়া পুলিস।
Advertisement
প্রসঙ্গত, রবিবার রাতে সাগরপাড়ার খয়েরতলার একটি বাড়িতে বিস্ফোরণ হয়। বিস্ফোরণে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে পাকা বাড়ি। বাড়ি থেকে আলগা হয়ে কয়েক ফুট দূরে গিয়ে পড়ে জানালার স্প্যান। ছাদ ভেঙে দুরমুশ হয়ে যায়। এই ঘটনায় মৃত্যু হয় বাড়ির মালিক মামন মোল্লা এবং সাকিরুল সরকার ও মুস্তাকিন শেখের। মামন পরিযায়ী শ্রমিক, সাকিরুলের কাপড়ের ব্যবসা এবং মুস্তাকিন কৃষিকাজ করে বলে পরিবারের লোকজন জানান। তবে পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তারা সীমান্তের ওপারে কাশির সিরাপ পাচারের সঙ্গে যুক্ত ছিল। গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে মুস্তাকিন ও সাকিরুল মাদকের মামলায় রানিনগর থানার হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিল। মাস কয়েক আগে তারা জামিন পায়। জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর ফের তারা মাদক পাচারে যুক্ত হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, খয়েরতলা হয়ে টিকটিকিপাড়া দিয়ে ওপার বাংলায় নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ পাচারের একটি রুট ছিল। মূলত ওই রুটেই তারা সিরাপ পাচার করত। কিন্তু, সপ্তাহখানেক আগেই অন্যান্য এলাকার পাশপাশি জিরো পয়েন্টে কড়া পাহারা দিতে শুরু করে বিএসএফ। আর তাতেই ওই রুট দিয়ে নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ পাচারে সমস্যা দেখা দেয়। ওই রুট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পাশের একটি রুটের দিকে নজর পড়েছিল তাদের। পাশের বিচাপাড়ার পশ্চিমদিক দিয়ে রাজানগর ও বামনাবাদের মাঝে সরু নালা রয়েছে। বিএসএফের চোখে ধুলো দিতে ওই রুট দিয়ে পাচারের ছক ছিল তাদের। কিন্তু, ওই রুট ছিল পাশের এলাকার একটি গোষ্ঠীর দখলে। রুটের দখল নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে বিবাদ হয়েছিল। তাই ওই রুটে দখল নেওয়ার জন্য তারা বোমা  বাঁধছিল কি না, পুলিস খতিয়ে দেখছে। 
যদিও মৃতের পরিবারের লোকজন ওই দাবি মানতে নারাজ। তাঁদের পাল্টা দাবি, বোমা মজুত নয়, কেউ বাইরে থেকেই ওই ঘটনা ঘটিয়েছে।
মৃত সাকিরুলের মা মেহেনুর বিবি বলেন, আমার ছেলের কাপড়ের দোকান আছে। আমার ছেলে বোমা বাঁধার সঙ্গে জড়িত নয়। কিছুদিন আগে মামনের সঙ্গে পারিবারিক কারণে পাশের এলাকার কয়েকজনের বিবাদ হয়েছিল। ওই সময় ওরা আমাদের ছেলেকেই মারধর করে থানায় তুলে দিয়েছিল। আমার ছেলের নামে মাদকের মামলা ছিল। জেলে খেটে জামিন পেয়েছে। কেউ সাইড থেকে বোমা মেরে পরিকল্পিতভাবে আমার ছেলেকে মেরেছে। মৃত মোস্তাকিনের স্ত্রী শিখা খাতুনের মুখেও ওই একই সুর। 
এবিষয়ে প্রশ্ন করা হলে জলঙ্গির বিধায়ক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমার মনে হয় বর্ডারের দু’নম্বরি ব্যবসা নিয়ে কোনও ঝামেলার কারণে ওই ঘটনা ঘটেছে। যদিও সেটা আমার ধারণা। পুলিস আসল কারণ খুঁজে বের করুক। পুলিস জানিয়েছে, তদন্ত চলছে। সবকিছু পরিষ্কার হবে।
সম্পর্কিত সংবাদ