Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সার্কিট বেঞ্চের সার্ভিস রোডে বাধা জবরদখল, সরতে সাতদিন সময়

সার্কিট বেঞ্চের সার্ভিস রোডে বাধা জবরদখল, সরতে সাতদিন সময়
  • ৫ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: হাইকোর্টের সার্কিট বেঞ্চের ভবন নির্মাণের কাজ প্রায় শেষের পথে। কিন্তু সরকারি জমি থেকে জবরদখল না সরায় এখনও সার্কিট বেঞ্চে যাওয়ার সার্ভিস রোডের কাজ শুরু করা যায়নি। অভিযোগ, জলপাইগুড়ির গোশালা মোড় থেকে পাহাড়পুরে যাওয়ার রাস্তায় ৩৩টি পরিবার ৩১-ডি জাতীয় সড়কের পাশে সরকারি জমিতে বাড়িঘর বানিয়ে রয়েছে। গত জুলাইয়ে তাদের নোটিস ধরানো হলেও, কেউই এখনও সেখান থেকে ওঠেনি। এনিয়ে বুধবার পুলিসকে সঙ্গে নিয়ে এলাকায় যান জলপাইগুড়ি সদরের বিডিও মিহির কর্মকার। সঙ্গে ছিলেন জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের আধিকারিকরাও। সাতদিনের মধ্যে সবাইকে সরকারি জমি থেকে উঠে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। নতুবা প্রশাসন সেখানে ভেঙে দেবে বলে হুঁশিয়ারি দেন আধিকারিকরা। এনিয়ে মাইকিংও হয় এলাকায়। যা ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়।  
Advertisement
প্রশাসন সূত্রে খবর, জাতীয় সড়কের যে পাশে সার্কিট বেঞ্চের ভবন তৈরি হচ্ছে, সেদিকে সাত মিটার করে দু’টি সার্ভিস রোড তৈরি হবে। এছাড়াও হবে নিকাশি নালা। সবমিলিয়ে মূল রাস্তার পাশ থেকে ২৫ মিটারের মতো জায়গা দরকার। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, জাতীয় সড়কের পাশে সার্ভিস রোড ও নিকাশি নালা তৈরির জন্য সরকারি জমি থাকলেও সেখানে বাড়ি বানিয়ে বাস করছেন অনেকে। ফলে তাঁরা না সরলে সেখানে রাস্তা বা নিকাশি কিছুই তৈরি সম্ভব নয়।
এদিন ঘটনাস্থলে গিয়ে বিডিও প্রথমে বলেন, একদিন সময় দেওয়া হবে, তার মধ্যে যাঁরা সরকারি জমিতে রয়েছেন, তাঁদের উঠে যেতে হবে। বাসিন্দারা এর প্রতিবাদ করেন। বলেন, একদিনের মধ্যে এভাবে উঠে যাওয়া কোনওমতেই সম্ভব নয়। তাহলে প্রশাসন বিকল্প জায়গার ব্যবস্থা করুক। এনিয়ে প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে জবরদখলকারীদের বাদানুবাদ চলতে থাকে। আমির হোসেন, রুনা খাতুন, রুকসানা খাতুন, শেফালি রায়, ববিতা রায়ের মতো বাসিন্দারা বলেন, আমরা এখানে বছরের পর বছর ধরে ঘর বানিয়ে রয়েছি। এখন ঘর ছেড়ে কোথায় যাব? একান্তই যদি এই জায়গা ছাড়তে হয়, তাহলে প্রশাসনকে বিকল্প জায়গা দিতে হবে। সঙ্গে ঘর ছাড়ার জন্য সময় দিতে হবে অন্তত তিনমাস। 
প্রায় ঘণ্টাখানেক বাদানুবাদ চলার পর বিডিও সাতদিনের সময় দেন। বলেন, এই সময়ের মধ্যে সরকারি জমি থেকে সরে না গেলে আইন মোতাবেক ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের রেসিডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার এ কে সিং বলেন, জুলাই মাসের ২৪ তারিখ প্রথম নোটিস দেওয়া হয়েছিল। তখন এখানে যাঁরা রয়েছেন, তাঁরা বলেছিলেন, পুজোর পরই উঠে যাবেন। এখন আবার সময় চাইছেন। এভাবে তো চলতে পারে না। তাঁর দাবি, ওই বাসিন্দারা যেখানে ঘর বানিয়ে রয়েছেন, সেটি জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের অধিগ্রহণ করা জমি। ফলে সেখানে কেউ ঘর বানিয়ে বসবাস করতে পারেন না।
সম্পর্কিত সংবাদ