Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সরকারকে জমি দিয়ে বিপাকে লালগোলার বৃদ্ধা

সরকারকে জমি দিয়ে বিপাকে লালগোলার বৃদ্ধা
  • ১৫ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, লালবাগ: সীমান্তের সুরক্ষার জন্য সরকারকে জমি দিয়ে এখন বিপাকে লালগোলার বৃদ্ধা। অধিগ্রহণ করা সব জমি প্রয়োজন নেই সরকারের। তাই অতিরিক্ত জমি ফিরিয়ে টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য ওই বৃদ্ধাকে চাপ দেওয়ার অভিযোগ উঠল জেলা ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তরের বিরুদ্ধে। এমনকী বৃদ্ধাকে চিঠি দিয়ে অভিযোগ করা হয়েছে, তিনি নাকি জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের বোকা বানিয়ে অতিরিক্ত জমি বিক্রি করেছেন। জেলা প্রশাসনের চিঠি পেয়ে ঘুম উড়েছে বৃদ্ধার। অবশেষে কোনও কূলকিনারা না পেয়ে আইনজীবীর সাহায্য নিয়েছেন ওই বৃদ্ধা। চিঠি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে জেলা প্রশাসনকে পাল্টা নোটিস পাঠিয়েছেন তাঁর আইনজীবী। লালগোলা বিএলএলআরও মহম্মদ ফারুকউদ্দিন আলি মুন্সি বলেন, বিষয়টি জমি অধিগ্রহণ বিষয়ের সঙ্গে যুক্ত। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নির্দেশ অনুযায়ী কমলা বিবিকে জমি ফেরত নেওয়া সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়েছে। 
Advertisement
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, লালগোলার রামনগরের বাসিন্দা কমলা বিবির দক্ষিণ দুর্লভপুর মৌজায় ১০০ শতক জমি ছিল। বর্ডার রোড ও কাঁটাতারের বেড়া দিতে গত বছর ওই বৃদ্ধার থেকে ৫৬ শতক জমি কেনে জেলা প্রশাসন। অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর রাজ্য সরকার ওই জমি কেন্দ্রের হাতে তুলে দেয়। সম্প্রতি জেলা ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তর থেকে অতিরিক্ত জমি ফিরিয়ে টাকা ফেরানোর জন্য বৃদ্ধাকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। কমলা বিবি বলেন, জমির মূল্য বাবদ সরকার থেকে ২০ লক্ষ টাকা পেয়েছিলাম। ওই টাকার বেশিরভাগ অংশ তখনই পাঁচ ছেলেমেয়ের মধ্যে ভাগ করে দিয়েছি। বাকিটা আমার চিকিৎসার জন্য খরচ হয়ে গিয়েছে। এখন সরকার বলছে সব জমি প্রয়োজন নেই। অতিরিক্ত জমি ফিরিয়ে নিয়ে ১০ লক্ষ টাকা ফেরত চেয়ে চিঠি দিয়েছে। এখন আমি টাকা কোথায় পাব? আমি বেশ কয়েক বছর ধরে অসুস্থ। টাকা ফেরত দেওয়ার চিঠি পাওয়ার পর আরও অসুস্থ হয়ে পড়েছি। বৃদ্ধার ছেলে আসাদুল ইসলাম বলেন, টাকা ফেরতের জন্য জেলা ও ব্লক প্রশাসন থেকে চাপ দেওয়া হচ্ছে। এখন দেখছি সরকারের কাজে জমি দেওয়াটাই আমাদের অপরাধ হয়ে গিয়েছে। বৃদ্ধার আইনজীবী অরিন্দম দাস বলেন, রাজ্য সরকার জমি অধিগ্রহণ আইন মানেনি। যে আইনে জমি কেনা হয়েছে, তাতে জমি ফিরিয়ে নেওয়ার সুযোগ নেই। তাছাড়া জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের বোকা বানিয়ে প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকার নিরক্ষর বৃদ্ধা অতিরিক্ত জমি বিক্রি করেছেন এটা হতে পারে? একটা জমি বিক্রির পর তার নতুন দলিল হয়েছে। সেই দলিল বাতিলের অধিকার কি ওই আধিকারিকের আছে? প্রশাসনের চিঠি প্রত্যাহারের জন্য পাল্টা নোটিস পাঠিয়েছি। তবে এখনও প্রশাসনের তরফ থেকে কোনও জবাব পাইনি। 
সম্পর্কিত সংবাদ