Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সরকারিভাবে চালু হল পাথর খাদান, কাজ পাবেন বহু মানুষ

সরকারিভাবে চালু হল পাথর খাদান, কাজ পাবেন বহু মানুষ
  • ১৯ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, শালতোড়া: লোকসভা ভোটের প্রচারে এসে শালতোড়ায় বন্ধ থাকা পাথর শিল্প ফের চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-নেত্রীরা। তা বাস্তবায়িত হল। শনিবার থেকে শালতোড়ায় সরকারিভাবে পাথর খাদান চালু হল। এদিন বিকেলে শালতোড়ার ধতলা মৌজায় এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাঁকুড়ার সাংসদ অরূপ চক্রবর্তী ও পাণ্ডবেশ্বরের বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী পাথর শিল্পের সূচনা করেন। বন্ধ খাদান ও পাথরকল পুরোদমে চালু হলে ২০হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে দুই জনপ্রতিনিধি দাবি করেন। পাশাপাশি ভিন রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে যাওয়া শালতোড়া, মেজিয়া ও গঙ্গাজলঘাটির বাসিন্দারাও জেলায় ফিরবেন বলে তাঁরা আশা করছেন। মাস চারেক আগে শালতোড়ায় বেআইনি খাদানে পাথরের চাঁই ভাঙার জন্য বাইকে ডিটোনেটর বহনের সময় তা ফেটে যায়। বিস্ফোরণে এক ব্যক্তি মারা যান। ওই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়াতে সাংসদ এদিন সকলকে  সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন। কোনও বেআইনি কাজ কেউ করলে পাশে দাঁড়ানো হবে না বলেও এদিন অরূপবাবু জানিয়ে দিয়েছেন।
Advertisement
সাংসদ বলেন, ষড়যন্ত্র করে শালতোড়ার পাথর শিল্পে ব্যাঘাত ঘটানো হয়েছিল। এতদিন খাদান বন্ধ ছিল। আমাকে এলাকার শ্রমিকরা বারবার তা চালুর জন্য আবেদন করছিলেন। আমি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে বিষয়টি নিয়ে তদ্বির করেছিলাম। তারপর আইন এনে বৈধভাবে পাথর খাদান চালু করা হল। শালতোড়া ব্লকে আরও চারটি নতুন খাদান চালুর ব্যাপারে সবুজ সঙ্কেত পাওয়া গিয়েছে। সেগুলিও দ্রুত চালু হবে। তিনি আরও বলেন, খাদানে সরকারি নিয়ম মেনেই পাথর ভাঙতে হবে। বাইরে থেকে বেআইনিভাবে ডিটোনেটর বহন ও ব্যবহারের জন্য অনেকে প্ররোচনা দেবে। সেই ফাঁদে পা দেওয়া যাবে না। কেউ বেআইনি কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকলে আমরা পাশে দাঁড়াব না। 
নরেন্দ্রনাথবাবু বলেন, আমি শালতোড়ার ভূমিপুত্র। ফলে স্থানীয়দের সমস্যার কথা জানি। পাথর শিল্প চালু হলে শালতোড়ার পাশাপাশি আশপাশের ব্লকগুলির বাসিন্দাদেরও কর্মসংস্থান হবে। 
জেলা ভূমিদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল মিনারেল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ট্রেডিং কর্পোরেশন লিমিটেডের’ (ডব্লুবিএমডিটিসিএল) কাছ থেকে অনুমতি নিতে হয়। পাশাপাশি পরিবেশ সংক্রান্ত ছাড়পত্রও সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে নিতে হয়। তারপর পাঁচ বছরের জন্য পাথর খননের অনুমতি পাওয়া যায়। ধতলা মৌজায় সবকিছু ঠিক থাকায় ‘ডব্লুবিএমডিটিসিএল’ কর্তৃপক্ষ একটি জমি থেকে পাথর খননের অনুমতি দিয়েছে। পাথর ভাঙার জন্য খাদানে বিস্ফোরণ ঘটাতে গেলে আগাম অনুমতি নিতে হবে। বর্তমানে ধতলা ছাড়া শালতোড়া ব্লকে কোনও পাথর খাদান নেই।
প্রসঙ্গত, ৩০ আগস্ট রাতে শালতোড়ায় বাইকে ডিটোনেটর জাতীয় বিস্ফোরক বহনের সময় তা ফেটে গিয়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। ঝনকা গ্রামের বাসিন্দা ওই ব্যক্তি বেআইনি পাথর খাদানে ব্যবহারের জন্য বিস্ফোরক সামগ্রী সরবরাহ করছিল বলে অভিযোগ। এব্যাপারে পুলিস স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে তদন্তে নামে। বিস্ফোরক পাচারে যুক্ত থাকার অভিযোগে পুলিস দু’জনকে গ্রেপ্তারও করেছিল।
সম্পর্কিত সংবাদ