Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সরকারি উদ্যোগ সত্ত্বেও বিলুপ্তির পথে খন পালাগান

সরকারি উদ্যোগ সত্ত্বেও বিলুপ্তির পথে খন পালাগান
  • ৫ মার্চ, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: বিলুপ্তির পথে বাংলার অন্যতম লোকনাট্য ‘খন পালাগান’। এক সময়ে খন দেখতে উপচে পড়ত মানুষ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের সেই আগ্রহ হারিয়েছে। বিবর্তনের ছোঁয়া না লাগায় হারিয়েছে খনের গ্রহণ যোগ্যতা। শিল্পীরা সরকারি প্রকল্পের প্রচারে মেতে ওঠায় কৌলিন্য হারিয়েছে এই লোকজ নাট্য আঙ্গিক। নতুন প্রজন্ম ও মুখ ঘুরিয়েছে। রাজ্য সরকার বাংলার এই শিল্পকে তুলে ধরতে সচেষ্ট হলেও উপার্জনের দিকটি অনিশ্চিত হওয়ায় নতুন প্রজন্ম বিমুখ। তবে একসময়কার জনপ্রিয় এই লোকনাট্যকে স্বমহিমায় ফেরাতে সচেষ্ট শিল্পীরা।
Advertisement
অনেকেই নতুন করে খনের পালা লেখার কাজ শুরু করেছেন। পাশাপাশি এই লোকনাট্য নেটে ছড়িয়ে দিচ্ছেন তাঁরা। তাতে কিছুটা আশার আলো নজরে আসছে। শিল্পীরা বুঝতে পেরেছেন, হাইটেক যুগে লড়াই এখানেই থামিয়ে রাখা যাবে না। এবার তাঁদের লক্ষ্য ওটিটি প্লাটফর্ম।
এই লোক নাট্যের মধ্যে দিয়ে স্থানীয় জীবন শৈলীর বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। সেইসঙ্গে পাল্লা দিয়ে সমাজ সচেতনতার কাজও চলে। বর্তমান সময়ে শিল্পীরা সরকারি প্রকল্পের প্রচারমূলক কাজে জড়িত হয়ে পড়ায় লোকনাট্য তার মেজাজ হারিয়েছে। তবে পুরনো ঐতিহ্যকে বজায় রাখার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের দর্শকদের নজর কাড়তে শিল্পীরা পথচলা শুরু করেছেন। তাঁদের একাংশের কথায়, মোবাইল থেকে শুরু করে হাইটেক প্রযুক্তির সিনেমা হলের দৌরাত্ম্যে লোকনাট্য অনেকটাই পিছনে পড়ে গিয়েছে। আলোর ঝলকানি থেকে শুরু করে গ্রাফিক্সের কারুকার্য না থাকায় দর্শকরা বহু আগেই মুখ ফিরিয়েছেন। বিষয়টি শিল্পীদের ভাবিয়ে তুলছে। তাঁদের গলায় আক্ষেপের সুর। তাঁরা জানিয়েছেন, লোকশিল্পীদের পরিবারের নতুন প্রজন্মই এই শিল্প নিয়ে উদাসীন। শুধুমাত্র সরকারি ভাতার ওপর ভর করে তারা খনের উত্তরসূরী হতে নারাজ।
মূলত দক্ষিণ দিনাজপুরের লোকনাট্য হলেও আশপাশের অন্যান্য জেলাতেও খনের প্রচলন আছে। শিল্পীদের একাংশের দাবি, দলে নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের যোগ করা সম্ভব না হলে আগামীতে খন লোকনাট্য ইতিহাসের পাতায় স্থান পাবে। সেক্ষেত্রে রাজ্য সরকার অনেকটাই অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছে। শিল্পীদের নিয়ে কর্মশালারও আয়োজন করা হচ্ছে। সম্প্রতি বীরভূমের সিউড়িতে তেমনই এক কর্মশালার আয়োজন হয়েছিল। খন পালাগানের গবেষক তথা শিল্পী সৌরভ রায় বলেন, নতুন করে সুর সৃষ্টি হচ্ছে না। সেই সঙ্গে অর্থনৈতিক দুরবস্থা কাটিয়ে শিল্পীরা খন পালাগানে মনোনিবেশ করতে পারছেন না। সরকারের উচিত আরও ভালো করে শিল্পীদের লালন করা। অন্যথায় এই লোকনাট্য অবলুপ্ত হতে সময় লাগবে না। নতুন প্রজন্মও খন পালাগানের প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছে না। আমরাও চাই না আমাদের সন্তানরা এই লোক নাট্যের সঙ্গে যুক্ত হোক।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ