Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার টোপ, চা-শ্রমিকদের নামে অ্যাকাউন্ট খোলে প্রতারকরা  

সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার টোপ, চা-শ্রমিকদের নামে অ্যাকাউন্ট খোলে প্রতারকরা
 
  • ২৩ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: বিহারের কিষানগঞ্জের সাইবার গ্যাংয়ের জালিয়াতির শিকার উত্তরবঙ্গের চা-শ্রমিকরা। সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার টোপ দিয়ে তারা কয়েক হাজার শ্রমিকের ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়েছে। সরল বিশ্বাসে শ্রমিকরা তাঁদের আধার, ভোটার কার্ড এবং নিজেদের ছবি দিয়ে দেন। তা নিয়ে প্রতারকরা কয়েকটি সিএসপিতে অ্যাকাউন্ট খুলেছিল। পুলিস কিষানগঞ্জের পোথিয়া এলাকার বাসিন্দা রবীন্দ্রপ্রসাদ সিংহকে গ্রেপ্তার করেছে। সে এজেন্ট নিয়োগ করে চা-শ্রমিকদের ভোটার, আধার কার্ড সংগ্রহ করেছিল। রবীন্দ্র নিজে সিএসপি চালাত। বাংলার শিক্ষা পোর্টালের অ্যাকসেসও নিয়েছিল। সে পড়ুয়াদের টাকা অন্য অ্যাকাউন্টে হস্তান্তরিত করেছে। রবীন্দ্রই এই চক্রের অন্যতম মূল চাঁই। পূর্ব বর্ধমানের পুলিস সুপার সায়ক দাস বলেন, ধৃতকে জেরা করে আরও তথ্য জানার চেষ্টা হচ্ছে।
Advertisement
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, রবীন্দ্রই এই সাইবার গ্যাংটি তৈরি করে। তার অধীনে আরও কয়েকজন কাজ করত। তাদের খোঁজে পুলিস তল্লাশি শুরু করেছে। প্রতারকরা নিজেদের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি গ্রুপ তৈরি করেছিল। সেই গ্রুপের মাধ্যমে তথ্য আদান প্রদান করত। এক পুলিস আধিকারিক বলেন, রবীন্দ্র প্রসাদের গ্যাংয়ের হাতে বহু শ্রমিকের নথি জমা রয়েছে। সেগুলি তারা কীভাবে ব্যবহার করেছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। শ্রমিকদের নথি নিয়ে তারা ভুয়ো সিমকার্ডও তুলেছে। তারা যেসব অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠিয়েছিল সেগুলি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। টাকা জমা পড়ার পরও শ্রমিকরা কিছুই জানতে পারেনি। প্রতারকরা টাকা তোলার আগেই অনেক অ্যাকাউন্টের টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। 
পুলিস সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, রবীন্দ্রর গ্যাং শুধু পূর্ব বর্ধমান নয়, অন্যান্য জেলার পড়ুয়াদের অ্যাকাউন্ট থেকেও তারা টাকা হাতিয়েছে। তাকে অন্যান্য জেলার পুলিসও জেরা করবে। ধৃত জেরায় জানিয়েছে, পরিচিত একজন বাংলার শিক্ষা পোর্টালের পাসওয়ার্ড তাকে দিয়েছিল। তা দেওয়ার জন্য সে প্রতরণার মোটা অঙ্কের টাকা ভাগ পেত। পুলিস তাকেও গ্রেপ্তারের জন্য জাল বিছিয়েছে। 
এই গ্যাংটি আরও কয়েকটি সরকারি পোর্টাল টার্গেট করেছিল। তরুণের স্বপ্ন প্রকল্পের টাকা হাতানোর পরই তারা অন্য‌ অপারেশনে নামত। তার আগেই পুলিস গ্যাংয়ের অন্যতম মাথাকে গ্রেপ্তার করেছে। 
যাঁদের অ্যাকাউন্টে প্রতারকরা টাকা পাঠিয়েছিল তাঁদের সঙ্গেও তদন্তকারী অফিসাররা কথা বলেছেন। অ্যাকাউন্ট হোল্ডাররা বিষয়টি সম্পর্কে কিছুই জানতেন না বলে দাবি করেছেন। তবে, শ্রমিকরা পুলিসকে জানিয়েছেন, সরকারি প্রকল্পে টাকা দেওয়া হবে এই অশ্বাসে পুজোর আগে তাঁদের কাছ থেকে নথি নেওয়া হয়েছিল। সরকারি প্রকল্পে সুবিধা পাওয়ার আশায় তাঁরা নথি দিয়েছিলেন। ধৃত জানিয়েছে, শ্রমিকদের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তোলার পর তাদের দেড় হাজার করে টাকা দেওয়া হতো। সবার অ্যাকাউন্টে ১০হাজার টাকা করে পাঠানো হয়েছিল। 
সম্পর্কিত সংবাদ