Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সরকারি অনুমতির পরেও কংসাবতী থেকে বালি তোলার কাজে বাধা, পাঁশকুড়ায় চাঞ্চল্য

সরকারি অনুমতির পরেও কংসাবতী থেকে বালি তোলার কাজে বাধা, পাঁশকুড়ায় চাঞ্চল্য
  • ৭ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: নদী থেকে বালি তুলতে হলে দিতে হবে টাকা। বিজেপির নেতার ভাইরাল অডিও নিয়ে তোলপাড় পাঁশকুড়া। দাবিমতো টাকা না দেওয়ায় সরকারি অনুমতির পরও শুক্রবার কংসাবতী নদী থেকে বালি তোলার কাজে বাধা পায় ঠিকাদার সংস্থা। এনিয়ে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। খবর পেয়ে জয়েন্ট বিডিও, ব্লক ভূমি অফিসার, থানার আইসি এবং সেচদপ্তরের এসডিও ঘটনাস্থলে যান। কমিশন না পাওয়া বিজেপি নেতারা কিছু গ্রামবাসীকে সামনে রেখে বালি তোলার কাজে বাধা দেয়। শুক্রবার এনিয়ে পাঁশকুড়া ব্লকের মাইসোরা গ্রাম পঞ্চায়েতের ফকিরবাজার এলাকায় দফায় দফায় উত্তেজনা তৈরি হয়।
Advertisement
নদী থেকে বালি তোলার ব্যান পিরিয়ড কেটে যাওয়ার পর পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় বিভিন্ন জায়গায় সরকারি খাজনার বিনিময়ে বালি তোলার ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। পাঁশকুড়ায় কংসাবতী নদী থেকে বালি তোলার ছাড়পত্র নিয়েছে একটি কোম্পানি। তারা ওই বালি তুলে হলদিয়ায় একটি সরকারি প্রজেক্টে সাপ্লাই করছে। কংসাবতী থেকে বালি তোলার জন্য ওই ঠিকাদার সংস্থার কাছ থেকে টাকা দাবি করে বিজেপি। এমনই একটি অডিও ভাইরাল হয়েছে। যদিও ‘বর্তমান’ তার সত্য‌তা যাচাই করেনি। বিজেপির পাঁশকুড়া-৪ মণ্ডল কমিটির এক সহ সভাপতি ওই ঠিকাদার সংস্থার সুপারভাইজার মজিদ আলিকে ফোন করে টাকা দাবি করেন। সুর চড়িয়ে নির্দিষ্ট দিনের মধ্যে টাকা দেওয়ার হুমকি দেন। দাবিমতো টাকা না দেওয়ায় শুক্রবার কয়েকজন কর্মী-সমর্থককে সামনে রেখে বালি তোলা ও পরিবহণের কাজে বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
পাঁশকুড়া মাইসোরা গ্রাম পঞ্চায়েত বিজেপির দখলে। সেখানে সরকারি নিয়মে বালি তোলার জন্যও বিজেপি নেতাদের একাংশকে খুশি করতে হয়। তা না হলে গ্রামবাসীদের সামনে রেখে হুজ্জুতি বাধিয়ে দেওয়া হয়। এবছর বন্যায় পাঁশকুড়ার নদীতে প্রচুর বালি জমেছে। ওই বালি তোলা হলে নদীর জলধারণ ক্ষমতা বাড়বে বলে প্রশাসনের বক্তব্য। কিন্তু, সেলামি ছাড়া বালি তুলতে দিতে রাজি নয় স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব।
ওই ঠিকাদার সংস্থার সুপারভাইজার মজিদ আলি বলেন, সংস্থার তরফে রাজস্ব মিটিয়ে বালি তোলার অনুমতি পাওয়া গিয়েছে। সেই কাজে বাধা দিচ্ছে বিজেপির কয়েকজন। ওদের এক নেতা ফোন করে আমার থেকে টাকা চেয়েছিলেন। আমরা দিতেও রাজি ছিলাম। কিন্তু, বড় অঙ্কের টাকা দাবি করছে। আমরা বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এনেছি। শুক্রবার বালি তোলার সময় কয়েকজন গ্রামবাসীকে জড়ো করে ওই কাজে বাধা দেওয়া হয়। আমরা বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনার পর ব্লক প্রশাসন, পুলিস ও সেচদপ্তর ঘটনাস্থলে পৌঁছয়।
বিজেপির পাঁশকুড়া-৪মণ্ডল কমিটির সভাপতি গোপাল সাহু বলেন, ফোনে ঠিকাদার সংস্থার তরফে টাকা চাওয়ার বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। এসংক্রান্ত কোনও অডিও আমার নজরে আসেনি। এবছর বন্যায় পাঁশকুড়া ভয়াবহ বন্যার মুখোমুখি হয়েছে। চার জায়গায় নদীবাঁধ ভেঙে পড়েছিল। সেসব ভুলে নদীবাঁধের ধার থেকে বালি তোলা হচ্ছে। নদীপাড়ের বাসিন্দারা এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদে শামিল হয়েছেন। এরসঙ্গে আমাদের দলের কোনও সম্পর্ক নেই। টাকা চাওয়ার ঘটনার সঙ্গেও আমাদের পার্টি যুক্ত নয়।
পাঁশকুড়া থানার আইসি সমর দে বলেন, ওই সংস্থা সরকারি খাজনা মিটিয়ে বালি তুলছে। কিন্তু, কিছু লোকজন নানা কারণে ওই কাজে বাধা দিতে পিছন থেকে উস্কানি দিচ্ছে। শুক্রবার কাজে বাধা আসে। স্থানীয়দের বুঝিয়ে সেই বাধা সরানো হয়েছে।
সম্পর্কিত সংবাদ