Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সরকারি নির্দেশিকা মেনেই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে ডিম দিতে হবে, নির্দেশ প্রশাসনের

সরকারি নির্দেশিকা মেনেই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে ডিম দিতে হবে, নির্দেশ প্রশাসনের
  • ২৮ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: দাম যাই হোক না কেন, সরকারি নির্দেশিকা মেনেই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে ডিম দিতে হবে। শিশু ও মায়েদের পুষ্টির সঙ্গে কোনও আপস করা যাবে না বলে বাঁকুড়া জেলা প্রশাসনের তরফে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে শিশু বিকাশ প্রকল্প আধিকারিকদের(সিডিপিও) সঙ্গে প্রশাসনের কর্তারা একপ্রস্থ আলোচনা সেরেছেন। প্রশাসনের নির্দেশ অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী-সহায়িকাদের জানিয়ে দেওয়ার জন্য সিডিপিওদের বলা হয়েছে। 
Advertisement
বাঁকুড়ার অতিরিক্ত জেলাশাসক(উন্নয়ন) তথা আইসিডিএসের ভারপ্রাপ্ত প্রশাসনিক আধিকারিক অরিন্দম বিশ্বাস বলেন, বাজারে ডিমের দাম বৃদ্ধির বিষয়টি আমরাও জানি। তবে সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী আইসিডিএস সেন্টারে পাতে ডিম দিতে হবে। পুষ্টি নিয়ে কোনও আপস করা যাবে না। বিষয়টি সিডিপিওদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁরা অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। কর্মীরাও সরকারি নির্দেশ মেনে ডিম দেবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন। অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে পুষ্টিকর খাবারে বরাদ্দ বৃদ্ধির বিষয়টি আমাদের এক্তিয়ারের মধ্যে পড়ে না। ওই সংক্রান্ত দাবিদাওয়া জমা পড়লে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে থাকি। তিনি বলেন, প্রতি বছরই শীতকালে ডিমের দাম বেশি হয়। পরে তা ফের কমে যায়। এই কয়েকটা দিন চালিয়ে নেওয়ার জন্য কর্মীদের বলা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী বলেন, সরকার আমাদের প্রতি পিস ডিমের জন্য সাড়ে ৬ টাকা দেয়। অথচ বাজারে ডিমের দাম সাড়ে ৭ থেকে ৮টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। সব্জি ও জ্বালানি বাবদও আমরা সামন্য টাকা পেয়ে থাকি। বারবার দাবি জানানো সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ওই খাতে সরকার বরাদ্দ বৃদ্ধি করেনি। আধিকারিকরা ঠান্ডাঘরে বসে নির্দেশ দিয়েই দায় সারেন। নিচুস্তরে আমাদেরই যাবতীয় ঝক্কি সামলাতে হয়। এমনিতে সামান্য ভাতার বিনিময়ে আমাদের কাজ করতে হয়। তারউপর মূল্যবৃদ্ধির জাঁতাকলে পড়ে কেন্দ্রে খাবার জোগাতে নাভিশ্বাস উঠছে। 
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বাঁকুড়ায় মোট ৫৭৩৯টি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র রয়েছে। অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের পুষ্টিকর খাবারে শিশুদের সোম, বুধ ও শুক্রবার গোটা ডিমের ঝোল ও ভাত দেওয়া হয়। মঙ্গল, বৃহস্পতি ও শনিবার অর্ধেক ডিম সিদ্ধ ও খিচুড়ি খাওয়ানো হয়। এছাড়া প্রসূতি ও অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের প্রতিদিনই গোটা ডিম দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে। সরকার আইসিডিএস কেন্দ্রের জন্য চাল, ডাল, নুন ও তেল সরাসরি সরবরাহ করে। গোটা ও অর্ধেক ডিমের জন্য মাথাপিছু যথাক্রমে সাড়ে ৬ টাকা ও ৩ টাকা ২৫ পয়সা বরাদ্দ করে। আলু ও সব্জির জন্য দৈনিক মাথাপিছু ৯৮ পয়সা ও ১১ পয়সা বরাদ্দ করা হয়। ওই টাকায় অগ্নিমূল্যের বাজারে কুলিয়ে ওঠা সম্ভব নয় বলে কর্মী-সহায়িকারা জানিয়েছেন।
সম্পর্কিত সংবাদ