নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: সম্প্রতি একটি ভাইরাল হওয়া অডিও ঘিরে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। সেই অডিওতে এক চিকিৎসক দাবি করছেন, ফেব্রুয়ারি মাসে তাঁর ইউনিটে ছ’জন প্রসূতি মারা গিয়েছেন। তাতেও ওই চিকিৎসকের আফসোস নেই। উল্টে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে তাঁকে কৈফিয়ত চাওয়ায় তিনি ক্ষুব্ধ হন। তিনি পাল্টা দাবি করেন, কর্তৃপক্ষের পাঠানোর ওষুধ দেওয়াতেই প্রসূতিদের মৃত্যু হয়েছে। তবে তিনি জেনে বুঝেই কেন প্রসূতিদের ওই ওষুধ দিয়েছিলেন, তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ওই অডিও নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া দিতে চায়নি। এমএসভিপি তাপস ঘোষ বলেন, ‘এবিষয়ে আমি কিছু জানি না।’
Advertisement
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই অডিও কাণ্ডের মধ্যেই স্বাস্থ্য দপ্তরের গাইড লাইন না মানার অভিযোগ উঠেছে তিনজন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। তাঁরা রেডারে রয়েছেন। তাঁদের অনৈতিক কাজকর্ম নিয়ে তথ্য সংগ্রহ চলছে। একটি সূত্রের খবর, হাসপাতালের থেকে তাঁরা বেশি সময় বাইরে প্র্যাকটিস করছেন। এক আধিকারিক বলেন, সম্প্রতি বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগে কয়েকটি জটিল অপারেশন হয়েছে। তারজন্য স্বাস্থ্যদপ্তর ওই চিকিৎসকদের বাহবা দিয়েছেন। কিন্তু এক প্রসূতিকে তাঁরা কয়েক মাস ভর্তি রেখে অপারেশন করেন। এই হাসপাতালে এধরনের অপারেশন প্রথম। ওই চিকিৎসকরা নজির গড়লেও কয়েকজন বেপরোয়া মনোভাব নিয়ে চলছেন বলে অভিযোগ। চিকিৎসকদের কতক্ষণ ডিউটি করতে হবে, সেই গাইডলাইন স্বাস্থ্যদপ্তর পাঠিয়েছে। তারপরও নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কয়েকজন চিকিৎসক ডিউটি করছেন না। অপারেশনের সময় সিনিয়র ডাক্তারদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যে কোনও ধরণের অপারেশনের ক্ষেত্রেই এই নিয়ম বাধ্যতামূলক। সেগুলি সবাই মানছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ মৌসুমী বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘স্বাস্থ্যদপ্তরের গাইড লাইন মেনে নিয়মিত রোস্টার পাঠানো হয়।’ আর এক আধিকারিক বলেন, এক বছর আগে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কয়েকজন প্রসূতি মারা যান। স্বাস্থ্যদপ্তরের একটি টিম হাসপাতাল পরিদর্শনে আসেন। তাঁরা বেশ কিছু গাইড লাইন বেঁধে দিয়েছিলেন। সেগুলি মেনে চলার পরই প্রসূতি মৃত্যুর সংখ্যা কমে যায়। তবে শুধু বর্ধমান নয়, আরও কয়েকটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে একই ধরণের ঘটনা ঘটে। তবে কি কারণে প্রসূতির মৃত্যু হয়েছিল, তা স্পষ্ট নয়। তবে, সম্প্রতি বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আধিকারিকের সঙ্গে এক চিকিৎসকের অডিও ভাইরাল হওয়ার ঘটনায় তা নতুন করে চর্চায় এসেছে।
অডিওতে চিকিৎসককে বলতে শোনা যায়, ওষুধ বদলানোর পরই প্রসূতির মৃত্যু বন্ধ হয়। তবে ওই ওষুধ আগে কেন বন্ধ করা হয়নি, কারা সেই ওষুধ সরবরাহ করেছিল, সেটাও পরিস্কার নয়। কর্তৃপক্ষের দাবি, হাসপাতালে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে গেলে চিকিৎসকদের কাছে রিপোর্ট চাওয়া হয়। কি কারণে রোগীর মৃত্যু হচ্ছে, তা জানতে চাওয়া অপরাধ নয় বলে আধিকারিকদের দাবি।
অডিওতে চিকিৎসককে বলতে শোনা যায়, ওষুধ বদলানোর পরই প্রসূতির মৃত্যু বন্ধ হয়। তবে ওই ওষুধ আগে কেন বন্ধ করা হয়নি, কারা সেই ওষুধ সরবরাহ করেছিল, সেটাও পরিস্কার নয়। কর্তৃপক্ষের দাবি, হাসপাতালে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে গেলে চিকিৎসকদের কাছে রিপোর্ট চাওয়া হয়। কি কারণে রোগীর মৃত্যু হচ্ছে, তা জানতে চাওয়া অপরাধ নয় বলে আধিকারিকদের দাবি।



