Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সরকারি নিয়ম মেনেই কৃষ্ণনগর-নবদ্বীপ ঘাট রুটে চালু অটো চলাচল

সরকারি নিয়ম মেনেই কৃষ্ণনগর-নবদ্বীপ ঘাট রুটে চালু অটো চলাচল
  • ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: অবশেষে চালু হল কৃষ্ণনগর-নবদ্বীপ ঘাট রুটে অটো পরিষেবা। সোমবার নদীয়া জেলা পরিষদের সভাধিপতির সঙ্গে এই নিয়ে দীর্ঘ বৈঠক হয়। প্রশাসনের আধিকারিকদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন কৃষ্ণনগর ও নবদ্বীপের শ্রমিক সংগঠনের নেতারা। যাত্রী সুবিধাকে প্রাধান্য দিয়েই পুনরায় অটো পরিষেবা চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেইমতো, সোমবার দুপুরে থেকেই অটো চলাচল শুরু হয়ে যায়। ‘সরকারি নিয়ম মেনে নির্দিষ্ট রুটেই অটো চালাতে হবে’, এমনই নির্দেশ দিয়েছেন সভাধিপতি তারান্নুম সুলতানা মির। আগামী ৬ জানুয়ারির জন্য এই রুটের সমস্ত অটো চালককে বৈধ নথিপত্র জমা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নথি পর্যালোচনা করে, আগামী দিনে কৃষ্ণনগর-নবদ্বীপের অটো চালকদের রুট নিয়ে জট কাটানো হবে বলে জানা গিয়েছে।‌ নদীয়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি বলেন, ‘কৃষ্ণনগর-নবদ্বীপ রুটে অটো পরিষেবা খুব গুরুত্বপূর্ণ। বহু মানুষ বাইরে থেকে আসেন। কিছু সমস্যার কারণে এই রুটে বেশ কিছুদিন ধরে অটো চলাচল বন্ধ ছিল। তাই উভয়পক্ষকেই ডাকা হয়। পুনরায় অটো পরিষেবা চালু করতে বলা হয়েছে। সরকারের নিয়মমতো যার যা রুট আছে সেইমতো অটো চালাতে হবে। সেইসঙ্গে সবাইকে বৈধি নথিপত্র জমা দিতে বলে হয়েছে। রুট নিয়ে সমস্যার দ্রুত সমাধান করা হবে।’ নদীয়া জেলার অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র হল মায়াপুর-নবদ্বীপ।‌ দূর দূরান্ত থেকে পর্যটকরা সেখানে আসেন। কৃষ্ণনগর স্টেশনে নেমে অটো করে নবদ্বীপ ঘাটে যাওয়া হয়। আবার ফেরার পথে সেই রুটেই কৃষ্ণনগর স্টেশনে ফেরেন। এই রুটে অটো অন্যতম পরিবহণ। কিন্তু বর্ষশেষের উৎসবের মরশুমে সেই অটো বন্ধ ছিল। প্রায় দীর্ঘ তিন সপ্তাহ এই রুটে অটো চলাচল করেনি। সৌজন্যে, শাসকদলের দুই শ্রমিক সংগঠনের মধ্যে রুট নিয়ে বিবাদ। যার ফলে বাইরের পর্যটকদের ঘুরতে এসে চরম সমস্যার মুখে পড়েছিলেন। 
Advertisement
জানা গিয়েছে, নদীয়া জোন ও সদর সাব ডিভিশনে প্রায় ১৬০টি অটো রয়েছে। এর সিংহভাগটাই কৃষ্ণনগর থেকে নবদ্বীপ ঘাট রুটে চলে। এবার কৃষ্ণনগর তাঁদের কৃষ্ণনগর স্টেশন থেকে যাত্রী তুলে নবদ্বীপ ঘাটে নামানো এবং ঘাট থেকে যাত্রী নিয়ে কৃষ্ণনগর স্টেশনে পৌঁছে দেওয়ার অনুমতি রয়েছে তাঁদের। এই সমস্ত অটো চালক কৃষ্ণনগর শহর অটো ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত। যদিও সেটা বকলমে নদীয়া উত্তর তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনই চালায়। 
অপরদিকে, নদীয়া দক্ষিণ তৃণমূলের সাংগঠনিক জেলার অধীনে থাকা নবদ্বীপের অটো ইউনিয়নের সঙ্গেও চালকরা যুক্ত রয়েছেন। নবদ্বীপ ঘাট থেকে কৃষ্ণনগর শহরের ক্ষৌণীশ পার্ক পর্যন্ত তাঁদের রুট রয়েছে।‌ সেখান থেকে কৃষ্ণনগর স্টেশনের দূরত্ব ঢিল ছোঁড়া। তাই তাঁদের অনেকেই সরাসরি যাত্রীদের স্টেশনে নামিয়ে দেন। নদীয়া উত্তর তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকা অটো চালকদের অভিযোগ, নবদ্বীপের অটো চালকদের এই রুট ভাঙার কারণে তাঁদের প্যাসেঞ্জার পেতে সমস্যা হচ্ছে। এই নিয়েই বিবাদের সূত্রপাত। যার জন্য ৯ ডিসেম্বর থেকে অটো চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এদিনের বৈঠকে চূড়ান্ত হয়, আপাতত নবদ্বীপের অটো চালকরাও কৃষ্ণনগর স্টেশন পর্যন্ত আসতে পারবেন। কিন্তু প্যাসেঞ্জার তুলতে পারবেন না‌। তাঁদের ক্ষৌণীশ পার্ক থেকে প্যাসেঞ্জার তুলতে হবে।‌  এনিয়ে কৃষ্ণনগর শহর তৃণমূল কংগ্রেসের শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি সৌগত কৃষ্ণদেব বলেন, ‘আমরা সভাধিপতির নির্দেশ মতো সোমবার থেকেই অটো চালানো শুরু করেছি। আপাতত যাঁর যা রুট আছে, সেইমতোই অটো চালানো হবে। আমরা দ্রুত আমাদের কাগজপত্র প্রশাসনের কাছে জমা করছি।  
সম্পর্কিত সংবাদ