Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সরকারি জমি দখলের অভিযোগ, প্রশাসনের দ্বারস্থ স্থানীয় বাসিন্দারা

সরকারি জমি দখলের অভিযোগ, প্রশাসনের দ্বারস্থ স্থানীয় বাসিন্দারা
  • ৬ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, মানকর: কাঁকসার রঘুনাথপুরে সরকারি জমি দখলের অভিযোগে প্রশাসনের দ্বারস্থ স্থানীয় বাসিন্দা থেকে বিভিন্ন আদিবাসী সংগঠন। অভিযোগ পেয়ে মঙ্গলবার এলাকায় আসেন কাঁকসা ব্লক ভূমিদপ্তরের আধিকারিকরা। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রঘুনাথপুর মৌজার এই মাঠ রাজ্যপালের ডাঙা নামে পরিচিত। প্রায় ৪২ বিঘা আয়তনের এই মাঠের ৩৮ বিঘা সরকারি খাস জমি। জমিতে হরিয়ালি প্রকল্পে পঞ্চায়েতের তরফে গাছ লাগানো হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, তাঁরা হঠাৎ লক্ষ্য করেন কিছু লোক তাঁবু খাটিয়ে গাছগুলি কাটছে। বসুধা বিট অফিসে যোগাযোগ করলে প্রশাসন গাছ কাটার কোনও অনুমতি দেয়নি বলে জানতে পারেন তাঁরা। এরপরেই জেলাশাসক, ভূমি সংস্কার আধিকারিক সহ একাধিক দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। কাঁকসা ব্লক ভূমি আধিকারিক মঞ্জু কাঞ্জিলাল বলেন, একটি অভিযোগ পেয়েছি। সরজমিনে তদন্ত করে দেখছি। স্থানীয়রা জানান, রঘুনাথপুর মৌজার এই মাঠটি ১৯৭১ সাল থেকে আদিবাসীদের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। নকশাল আন্দোলনের সঙ্গে সেই সময় বহু আদিবাসী মানুষ জড়িয়ে পড়েছিলেন। তাঁদের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনার জন্যই রাজ্য সরকার ও জেলা পুলিস রঘুনাথপুরের এই মাঠে ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। ১৯৭৮ সালে রাজ্যপাল ত্রিভুবন নারায়ণ সিংহ এই মাঠে এসে একটি ভবন তৈরি করেন। সেই থেকেই এলাকায় মাঠটি রাজ্যপালের ডাঙা নামে পরিচিত। ভারত জাকাত মাঝি পরগনা মহলের জয়দেব মুর্মু বলেন, মাঠে সারা বছর আদিবাসীদের নানা কর্মকাণ্ড হয়। দ্রুত এই মাঠ দখলমুক্ত না হলে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে নামব। ইতিমধ্যেই প্রশাসনের বিভিন্ন মহলে অভিযোগ জানিয়েছি। মাঠ বাঁচাতে পশ্চিমবঙ্গ আদিবাসী অধিকার মঞ্চও আন্দোলনে নেমেছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে এলাকায় লিফলেট বিলি শুরু হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, তাঁরা শুনেছেন সরকারি জমি কোনও ব্যক্তির নামে হয়ে গিয়েছে। খাস জমি কীভাবে ব্যক্তিগত মালিকানায় পরিণত হল তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন তাঁরা। 
Advertisement
বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, মাঠের ধারে যে গাছগুলি কাটা হচ্ছিল তা অবৈধ। দপ্তরের পক্ষ থেকে এই গাছগুলি কাটার জন্য কোনও অনুমতি দেওয়া হয়নি। নজরে আসতে দপ্তর গাছ কাটা বন্ধ করেছে। তবে এই ঘটনায় রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সিপিএমের জেলার সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য অলোক ভট্টাচার্য বলেন, শাসক দলের মদতে এই কাজ হচ্ছে। তৃণমূলের কোনও নেতা এই জমি কিনেছে বলে শুনেছি। বিজেপি নেতা রমন শর্মা বলেন, জমি লুট করা তৃণমূলের সংস্কৃতি। তৃণমূলের নেতারা জড়িয়ে রয়েছে। তবে বিরোধীদের অভিযোগ অস্বীকার করে তৃণমূলের কাঁকসা ব্লক সভাপতি নবকুমার সামন্ত বলেন, জমিটি সরকারি না ব্যক্তিগত তা আমার জানা নেই। শাসকদলের কেউ থাকলে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সম্পর্কিত সংবাদ