Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সরকারি জায়গা দখল করে শাসকদলের অফিস, বিতর্ক

সরকারি জায়গা দখল করে শাসকদলের অফিস, বিতর্ক
  • ৬ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, কাশীপুর: সরকারি জায়গা দখলের বিরুদ্ধে দিন কয়েক আগেই নবান্ন থেকে কড়া বার্তা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অথচ তাঁর দলেরই নেতাদের বিরুদ্ধে সরকারি জায়গা দখল করে পার্টি অফিস তৈরির অভিযোগ উঠল। তাও আবার খোদ পুরুলিয়ার জেলা তৃণমূল সভাপতি সৌমেন বেলথরিয়ার ‘গড়’ কাশীপুরেই। গত ১ জানুয়ারি তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা দিবসের দিনেই ওই পার্টি অফিসের উদ্বোধন হয়। ইতিমধ্যেই এনিয়ে প্রশাসনের কাছে বিজেপি অভিযোগ জানিয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
Advertisement
স্থানীয় সূত্রের খবর, কাশীপুর ব্লকের সোনাথলি অঞ্চলের লাড়া এলাকায় সরকারি জমি দখল করে সম্প্রতি তৃণমূলের কার্যালয়টি তৈরি হয়েছে। পার্টি অফিসের পাশেই রয়েছে একটি পুকুর। তার পাড়েই বসে গ্রামীণ হাট। হাটটি অবশ্য সরকার থেকেই তৈরি করে দেওয়া হয়েছিল। তবে, তৃণমূলের থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে আশেপাশের সমস্ত জায়গাই দখল হতে বসেছে। তৈরি হচ্ছে একের পর এক মন্দিরও। এনিয়ে সম্প্রতি জেলা ও ব্লক প্রশাসনের কাছে অভিযোগও জমা দিয়েছে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। বিজেপির জেলা কমিটির সদস্য শ্যামাপদ মণ্ডল বলেন, যেখানে মুখ্যমন্ত্রী সরকারি জমি দখলমুক্ত করতে বলছেন, সেখানে তাঁর দলের নেতারাই সরকারি জমি দখল করছেন। পার্টি অফিস থেকে শুরু করে বড় বড় বিল্ডিং তৈরি করেছেন। এটাই তৃণমূলের সংস্কৃতি। চোরকে চুরি করতে প্রশ্রয় দিয়ে গৃহস্থকে সাবধান করতে বলে। সম্প্রতি নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন, সরকারি জমি জবরদখল হলে তিনি কাউকে রেয়াত করবেন না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, নতুন করে যেন আর জবরদখল না হয়। তা করলে সেই এলাকার এসপি, আইসির বিরুদ্ধে সঙ্গে সঙ্গে অ্যাকশন হবে। বিডিওরাও বাদ যাবে না। ডিএমরাও না। মন্ত্রক থেকে কাউন্সিলার, পঞ্চায়েত, কেউ যদি মনে করে নিজের স্বার্থে জায়গা দিয়ে দেব, সেটাও টলারেট করব না। তারপরেও এধরনের ঘটনা! এনিয়ে কাশীপুরের বিডিও সুপ্রিম দাস বলেন, ‘অভিযোগপত্র আমার এখনও দেখা হয়নি। তবে বিষয়টি আমার কানে এসেছে। খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ 
তবে, এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এরকম বহু পার্টি অফিসই খাস জায়গায় রয়েছে। তৃণমূল নেতাদের অনেকে আবার এই বিষয়টি সমর্থন করছেন! তাঁদের দাবি, জায়গা কিনে পার্টি অফিস তৈরি সম্ভব নয়। সেই কারণেই খাস জায়গায় তৈরি করতে হচ্ছে। এনিয়ে তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি দীপক মণ্ডল কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তবে জেলা তৃণমূল সভাপতি বলেন, পুরো বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব। তৃণমূল কংগ্রেস এধরনের ঘটনা সমর্থন করে না। 
তবে প্রশ্ন উঠছে, যেখানে সরকারি জমি দখলমুক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে সরকার, সেখানে সরকারি জমি থেকে শাসক দলের জেলা কার্যালয় উচ্ছেদ হবে তো?
সম্পর্কিত সংবাদ