Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সরকারি দাম ১৪৭০, বিক্রি হচ্ছে দু’হাজারে, সারের কালোবাজারিতে মাথায় হাত কৃষকদের

সরকারি দাম ১৪৭০, বিক্রি হচ্ছে দু’হাজারে, সারের কালোবাজারিতে মাথায় হাত কৃষকদের
  • ১৪ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, গঙ্গারামপুর: চাষিদের এখন মাথায় হাত! রবি মরশুম শুরু হতেই দক্ষিণ দিনাজপুর জেলাজুড়ে রাসায়নিক সারের ব্যাপক কালোবাজারির জেরে চিন্তায় পড়েছেন তাঁরা।
Advertisement
৫০ কেজি সার কিনতে গেলে সরকারি ভর্তুকির টাকাও কার্যত উসুল করে নিচ্ছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা। প্রত্যেক বছর জেলার প্রশাসনিক আধিকারিকরা রাসায়নিক সারের কালোবাজারি বন্ধ করতে উদ্যোগী হলেও দেখা যাচ্ছে বজ্র আঁটুনিতে ফসকা গেরো হয়ে দাঁড়াচ্ছে। বাস্তবে কৃষকদের স্বার্থে ব্লক ও জেলা কৃষি দপ্তরের কোনও নজরদারি নেই বলে অভিযোগ করছেন একাংশ চাষি।
জেলার গঙ্গারামপুর, হরিরামপুর, বুনিয়াদপুর, বালুরঘাট ব্লক এলাকায় একই চিত্র। ধান কেটে রবি মরশুমের জন্য জমি প্রস্তুত করছেন চাষিরা। এই সময় রাসায়নিক সারের ব্যাপক চাহিদা থাকে। ঠিক সেই সুযোগে গঙ্গারামপুর, হরিরামপুর, কুশমণ্ডি, বংশীহারি ব্লক এলাকার সার ব্যবসায়ীদের একাংশ ৫০ কেজির বস্তার দাম ২০০০ টাকা করে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ করছেন চাষিরা। অথচ বস্তার গায়ে লেখা রয়েছে ২১০৯.৪০ টাকা। এর মধ্যে কেন্দ্র প্রতি বস্তা সারের জন্য ভর্তুকি দিচ্ছে ৬৩৯,৪০ টাকা। চাষিদের কাছে বস্তাপিছু সর্বোচ্চ ১৪৭০ টাকা দাম নিতে পারবেন ব্যবসায়ীরা। বর্তমানে মহকুমা তথা জেলার চাষিরা সার কিনতে গেলে ৫৩০ টাকা অতিরিক্ত দিতে হচ্ছে, নাহলে মিলছেই না। এমনকী সারের পুরো দাম নিলেও কোনও ব্যবসায়ী মেমো দিচ্ছেন না বলে অভিযোগ। মরসুমের শুরুতে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে সার কিনতে গিয়ে এখন ক্ষতির মুখে পড়ছেন চাষিরা। বংশীহারির চাষি সুনিরাম সোরেনের দাবি, এক বিঘা জমিতে সর্ষে লাগাব। এক বস্তা রাসায়নিক সার কিনতে ২০০০ টাকা দিতে হচ্ছে। কিন্তু বস্তার গায়ে সর্বাধিক বিক্রিত মূ্ল্য ১৪৭০ টাকা লেখা। বেশিকিছু বললে ব্যবসায়ীরা বলছেন সার বিক্রি নেই। আমাদের সমস্যা মেটানোর কেউ নেই।
জেলা কৃষি দপ্তরের ডেপুটি ডিরেক্টর প্রণব কুমার মুখোপাধ্যায় বলেন, আমরা জেলাজুড়ে সারের দাম লেখা লিফলেট বিলি করে ব্লকের চাষিদের কাছে পৌঁছে দিয়েছি। কিন্তু এখনও কোনও চাষির কাছ থেকে বেশি দাম নেওয়ার অভিযোগ পাইনি। ব্লক কৃষি আধিকারিকরা নিয়মিত অভিযান করেন। যদি কেউ ক্যাশমেমো নিয়ে আমাদের কাছে অভিযোগ করেন, সার ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেব।
ব্যবসায়ীদের একাংশের জন্য যে জেলার চাষিদের দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাচ্ছে, সেই খবর পেয়েছেন জেলা তৃণমূল সভাপতি  সুভাষ ভাওয়ালও। তাঁর মন্তব্য, নির্ধারিত থাকলেও এক বস্তা সারের দাম বেশি নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। আমরা বেশকিছু চাষির অভিযোগ পেয়েছি। জেলা পরিষদের সভাধিপতির মাধ্যমে কৃষি দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনায় বসে দ্রুত সমাধানের পথ বের করা হবে।
জেলাজুড়ে সারের কালোবাজারি রুখতে চাষিদের পাশে দাঁড়াতে আন্দোলনে নামার কথা বলেছেন জেলা বিজেপির সভাপতি স্বরূপ চৌধুরী। তাঁর কথায়,  ব্লক কৃষি দপ্তর ও কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর যোগসাজশে কালোবাজারির রমরমা। চাষিদের সমস্যা নিয়ে প্রয়োজনে আমরা আন্দোলনে নামব। এদিকে পশ্চিমবঙ্গ কৃষি উপকরণ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির রাজ্য সহ সভাপতি স্বপন চক্রবর্তী বলেন, দাম বেশি নেওয়ার যে অভিযোগ উঠছে বিষয়টি নিয়ে ডিলারদের সঙ্গে কথা বলব।
সম্পর্কিত সংবাদ