নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: মঙ্গলকোটে চাষিদের সহায়ক মূল্য থেকে ধানের দাম কম দেওয়ার অভিযোগে তদন্তে নামল প্রশাসন। অভিযোগ, কৈচরে চাষিদের নায্য দাম দেওয়া হচ্ছে না। নির্দিষ্ট দামের থেকে কুইন্টাল প্রতি ১০২ টাকা কেটে নেওয়া হচ্ছে। এমনই দাবি করেছেন চাষিদের একাংশ। সোশ্যাল মিডিয়াতে একটি রসিদ পোস্ট করা হয়েছে। সেখানে শেখ বসিরউদ্দিন নামে এক ব্যক্তি লিখেছেন, কৈচরে সরকার নির্ধারিত দাম না দিয়ে অন্যায়ভাবে চাষিদের থেকে ১০২ টাকা কেটে নেওয়া হচ্ছে। কার নির্দেশে এমনটা করা হচ্ছে? পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক আয়েশা রানি এ বলেন, আমাদের কাছেও এমন অভিযোগ এসেছে। তা যাচাই করা হচ্ছে। এমনটা কেউ করে থাকলে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সরকার চাষিদের জন্য যে দাম নির্ধারিত করে দিয়েছে সেটাই চাষিদের দিতে হবে। পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সভাধিপতি শ্যামাপ্রসন্ন লোহার বলেন, ধানের দাম কম দেওয়ার অভিযোগ আমার কাছেও অনেকেই করেছেন। এমনটা চলতে দেওয়া যাবে না। কোনও সিন্ডিকেট এই কাজ করলে তাদের ছাড়া হবে না।
Advertisement
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলকোট, ভাতার এলাকায় ধান কেনার অভিযোগ পেয়ে খোদ জেলাশাসক বিভিন্ন ক্যাম্পে যান। তিনি চাষিদের সঙ্গে কথা বলেন। কেউ কেউ তাঁর কাছে দাবি করেন, ভিজে অজুহাত দেখিয়ে ধান বেশি নেওয়া হচ্ছে। জেলাশাসক স্পষ্ট জানিয়ে দেয় আকারণে চাষিদের থেকে ধান বেশি নেওয়া যাবে না। ধানে কতটা আর্দ্রতা রাখা যাবে তা সরকারি গাইডলাইনে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। খাদ্য ও সরবরাহ দপ্তর জানিয়েছে, ধানের নির্ধারিত মূল্য জানাতে বিভিন্ন গ্রামে পোস্টার দেওয়া হয়েছে। আধিকারিকরা নিয়ম করে ক্যাম্প পরিদর্শন করছেন। চাষিরা অভিযোগ করলে সঙ্গে সঙ্গে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। মঙ্গলকোটের এক বাসিন্দা বলেন, প্রতি বছর ধান কেনার মরশুমে একটি চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। তারা নানাভাবে চাষিদের ঠকানোর কৌশল নেয়। বিগত কয়েক বছরেও এই এলাকায় ধান কেনার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। কিছু জায়গায় ফড়েরা একশ্রেণির চাষিদের মাধ্যমে ধান বিক্রি করেছিল। ওই সমস্ত চাষিদের অল্প পরিমাণ জমি রয়েছে। তাঁদের ক্যাম্প খুব বেশি ধান বিক্রি করার দরকার হয় না। তাদের কার্ড ব্যবহার করে ফড়েরা আগে ধান বিক্রি করেছে বলে অভিযোগ। চাষিদের অ্যাকাউন্টেই ধান বিক্রির টাকা জমা হতো। অল্প টাকা তারা চাষিদের কমিশন দিত। এবার জেলা প্রশাসন প্রথম থেকেই সক্রিয় রয়েছে। মঙ্গলকোট থেকে অভিযোগ আসার পরই আধিকারিকরা তদন্তে নেমেছেন। চাষিদের সঙ্গেও তাঁরা কথা বলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যেসব চাষি ধানের দাম কম দেওয়া হচ্ছে বলে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন তাঁদের কাছে থেকেও বিষয়টি সরাসারি জানা হবে।



