নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা: যেমন কথা, তেমন কাজ! বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারি বাস পরিষেবা নিয়ে যাত্রীদের মতামত জানার নির্দেশ দিয়েছিলেন দপ্তরের মন্ত্রীকে। পরের দিনই পরিবহণমন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী জানিয়েছিলেন, সপ্তাহের প্রথম কাজের দিনে সেই কাজ শুরু করবেন তিনি। সেই মতো সোমবার রাস্তায় নেমে সরকারি বাসের হালহকিকৎ পর্যালোচনা করেন তিনি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন দপ্তরের সচিব সৌমিত্র মোহন সহ পদস্থ পরিবহণ কর্তারা। ধর্মতলা, সেক্টর ফাইভ সহ শহরের বিভিন্ন ব্যস্ত এলাকা এদিন বিকেলে চষে বেড়ান তাঁরা। যাত্রীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে দেখা যায় মন্ত্রী-আমলাদের। দু’টি বাসের সময়ের ব্যবধান কমানোর পাশাপাশি কয়েকটি নতুন রুট চালুর আবেদন করেন যাত্রীরা। পরিবহণমন্ত্রী বলেন, ‘যাত্রীদের থেকে পাওয়া ফিডব্যাক অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে পর্যালোচনা করা হবে। যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্য সুনিশ্চিত করতে যেখানে বাসের সংখ্যা বৃদ্ধি করার দরকার, সেখানে সেটাই করা হবে।’ স্নেহাশিসবাবু আরও জানান, ইতিমধ্যে সরকারি হাসপাতাল, হাওড়া-শিয়ালদহ স্টেশনগামী বিভিন্ন রুটে বাসের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। রাস্তায় নেমে যাত্রীদের সমস্যা বোঝার জ্যন এই অভিযান আগামীতেও চালু থাকবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।
Advertisement
পরিবহণমন্ত্রীর পাশাপাশি এদিন দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী দিলীপ মণ্ডলও মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ পালনে রাজপথে নামেন। তিনিও একইভাবে যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের সুবিধা-অসুবিধার কথা জেনেছেন। আমতলা, জোকা বাস ডিপো, শীলপাড়া ওয়ার্কশপ এবং থ্রি এ বাসস্ট্যান্ড পরিদর্শন করেন তিনি। কোথায় কত বাস খারাপ হয়ে পড়ে রয়েছে, সেই খোঁজখবরও করেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিভিন্ন ডিপোতে বেশ কিছু বাস খারাপ হয়ে রয়েছে। সেগুলি সারাই করানো হচ্ছে। তবে আগের থেকে পরিস্থিতি পাল্টেছে। দু’টি বাসের মধ্যে সময় কমাতে গেলে আরও বাস নামাতে হবে। প্রতিনিয়ত রক্ষণাবেক্ষণও যে জরুরি।’ দ্রুত রাস্তায় বাসের সংখ্যা বাড়ানো হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন দিলীপবাবু। সরকারি বাস পরিষেবার উপর এখনও বহু মানুষ নির্ভরশীল। কিন্তু সম্প্রতি যেভাবে বাস পেতে রাস্তায় দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে, তাতে যাত্রীদের দুর্ভোগ এবং বিরক্তি—দুই-ই বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে গত বৃহস্পতিবার নবান্নে প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী সরকারি বাস পরিষেবা নিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলার নির্দেশ দিয়েছিলেন মন্ত্রী-আমলাদের।



