Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সরকারি আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনেই নেশাদ্রব্য বিক্রি  

সরকারি আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনেই নেশাদ্রব্য বিক্রি
 
  • ২৫ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, সিউড়ি: সিউড়িতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গেটের বাইরেই বিক্রি হচ্ছে তামাক বা তামাকজাত নেশার সামগ্রী। সহজলভ্য হওয়ায় পড়ুয়াদেরও আসক্তিও বাড়ছে নেশার প্রতি। সরকারি নির্দেশানুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে নির্দিষ্ট দূরত্বে নেশার সামগ্রী বিক্রি করতে হয়। কিন্তু সরকারি আইন কার্যকর করতে কোনও উদ্যোগ দেখা যায় না জেলা পুলিস ও প্রশাসনের। এদিকে সিউড়ি বড় বাগানে সাহেবপোতা নামে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের একটি কবরস্থান রয়েছে। সেই কবরস্থান সংলগ্ন একটি বাড়িতে দেদার নেশার সামগ্রী বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ। এ ব্যাপারেও পুলিসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।  
Advertisement
জানা গিয়েছে সরকারি নিয়মানুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১০০ গজ ব্যাসার্ধের মধ্যে কোনও তামাক বা তামাকজাত নেশার সামগ্রী বিক্রি করা যায় না। কিন্তু সিউড়ি শহরের মানুষের অভিযোগ, সিউড়ি বেণীমাধব স্কুল, বীরভূম জেলা স্কুল, সিউড়ি আরটি গার্লস স্কুল, চন্দ্রগতি উচ্চবিদ্যালয়, বাণীমন্দির উচ্চবিদ্যালয়, সিউড়ি বিদ্যাসাগর কলেজ এবং দুবরাজপুর, সাঁইথিয়া শহরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ গ্রামাঞ্চলেরও একাধিক স্কুলের গেটের বাইরেই একাধিক গুমটি ও দোকানে দেদার বিক্রি হচ্ছে নেশার সামগ্রী। ফলে সহজেই এসব হাতে পাচ্ছে স্কুল পড়ুয়ারা। অভিভাবকদের অভিযোগ, অতীতে স্কুলের বাইরে নেশার সামগ্রী বিক্রি বন্ধের জন্য কড়া ব্যবস্থা নিত প্রশাসন। কিন্তু এখন প্রশাসনের টিকিটি দেখা যায় না। বিড়ি ও সিগারেটের পাশাপাশি রাজ্য সরকারের নিষিদ্ধ গুটখাও দেদার বিক্রি হচ্ছে। উল্লেখ্য, গত বছর কয়েক আগেই রাজ্য সরকার গুটখা বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। কিন্তু সেই নির্দেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এখনও বেশির ভাগ দোকানেই বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ গুটখা। পড়ুয়াদের মধ্যেও নেশা করার প্রবণতাও দিনের পর দিন বেড়েই চলছে। যদিও বেশকিছু স্কুল নিজেদের উদ্যোগেই স্কুলের সামনে থেকে নেশার সামগ্রী বিক্রি বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সিউড়ি বেণীমাধব স্কুলের প্রধান শিক্ষক সুজয়কুমার চট্টোপাধ্যায় বলেন, স্কুলের সামনে যে দোকানগুলিতে বিড়ি, সিগারেট বা গুটখা বিক্রি হয় আমরা তাদের বলেছি অনেকবার যাতে তাঁরা স্কুলের সময়ে এবং স্কুল পড়ুয়াদের এইসব নেশার সামগ্রি বিক্রি না করেন। তারপরও যদি কেউ বিক্রি করে তাহলে আমরা কী করতে পারি। বিষয়টি কীভাবে আরও একবার প্রশাসনিক স্তরে জানানো যায় সেই দিকটি আমরা দেখছি। তবে যাঁরা বিক্রি করছেন তাদেরও বিবেক বুদ্ধি দিয়ে বিষয়টি বিবেচনা করা দরকার।   
জেলা পুলিসের এক আধিকারিক বলেন, পড়ুয়াদের মধ্যে এই নেশার সামগ্রী বিক্রি বন্ধ করা দরকার। দ্রুত এই বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকাদেরও পড়ুয়াদের সতর্ক ও সচেতন করার উদ্যোগ নিতে হবে। তবেই এই নেশামুক্তি কিছুটা হলেও সম্ভব হবে। 
সম্পর্কিত সংবাদ