সংবাদদাতা, বোলপুর: কাটল জট। নতুন বোর্ড গঠনের পর প্রথম বৈঠকেই বড়ো সিদ্ধান্ত নিল শ্রীনিকেতন-শান্তিনিকেতন উন্নয়ন পর্ষদ। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ কার্যকর হওয়ায় এবার থেকে পর্ষদের অধীন ১১টি মৌজায় নির্মাণের ছাড়পত্র সরাসরি দিতে পারবে এসএসডিএ। এতদিন আদালতের নির্দেশের জেরে বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদন সহ একাধিক কাজ আটকে ছিল। বুধবারের বোর্ড বৈঠকে সেই সিদ্ধান্তে আনুষ্ঠানিক সিলমোহর পড়েছে। পাশাপাশি থমকে থাকা একাধিক উন্নয়ন প্রকল্প দ্রুত শুরুর সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর সম্প্রতি এসএসডিএর নতুন বোর্ড গঠিত হয়েছে। রাজনৈতিক ব্যক্তির বদলে বীরভূমের অতিরিক্ত জেলাশাসক (এলআর) শুভম আগরওয়ালকে চেয়ারম্যান করা হয়েছে। এদিন নতুন বোর্ডের প্রথম বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন চেয়ারম্যান, বোলপুরের দায়িত্বপ্রাপ্ত মহকুমা শাসক নির্মিতা সাহা, বিশ্বভারতীর আঞ্চলিক পরিষদের প্রতিনিধি, বিশ্বভারতীর দুই আধিকারিক এবং পর্ষদের অন্যান্য সদস্য। বৈঠকের এক পর্যায়ে দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্তাদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সও হয়।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৩ সালে কলকাতা হাইকোর্টের একটি অন্তর্বর্তী নির্দেশের জেরে এসএসডিএর অধীন ১১টি মৌজায় জমির চরিত্র পরিবর্তন ও কংক্রিটের নির্মাণের অনুমতি কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। সেই মামলায় কয়েক মাস আগে সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্টের নির্দেশের উপর স্থগিতাদেশ দেয়। এরপর প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদনও সম্পূর্ণ হয়েছে। এদিনের বোর্ড বৈঠকে সেই বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত হওয়ায় বোলপুর, সুরুল, বিনুরিয়া, কবিমোহনপুর সহ সংশ্লিষ্ট ১১ মৌজায় এবার থেকে নিয়ম মেনে নির্মাণের ছাড়পত্র দিতে পারবে এসএসডিএ।
এই বৈঠকে দীর্ঘদিন ধরে থমকে থাকা বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। রাস্তা, নিকাশি, নাগরিক পরিকাঠামো সহ বিভিন্ন কাজ দ্রুত শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বহুদিন ধরে আটকে থাকা প্রকল্পগুলির কাজ এবার শুরু হবে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। এদিন বোলপুরের শান্তিনিকেতন শহরে পাঁচটি নতুন মার্কেট কমপ্লেক্স নির্মাণের প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হয়। কাজ দ্রুত শেষের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। আগে যাঁরা ওই এলাকায় ব্যবসা করতেন, তাঁদের নথি যাচাই করে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সেখানে নতুন দোকানঘর বরাদ্দ হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। পূর্ত দপ্তরের নো অবজেকশন সার্টিফিকেট নিয়ে যে জটিলতা ছিল, সেটিও দ্রুত মিটবে বলে বৈঠকে জানানো হয়েছে।
শহর শান্তিনিকেতনের বাফার জোন নিয়েও এদিন আলোচনা হয়। বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ তাঁদের সংরক্ষিত এলাকা নির্দিষ্ট করে জানিয়ে দেবে। সেই অংশ বাদ দিয়েই বাকি এলাকায় উন্নয়ন ও নির্মাণের কাজ করবে এসএসডিএ। এক প্রশাসনিক আধিকারিক বলেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর ১১ মৌজায় নির্মাণের ছাড়পত্র দেওয়ার রাস্তা খুলেছে। বোর্ডের বৈঠকে সেই সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়েছে।