সংবাদদাতা, বোলপুর: রবীন্দ্রনাথ যে ভাবনা নিয়ে শ্রীনিকেতন গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেছিলেন, তারমধ্যে যেগুলি অসম্পূর্ণ রয়েছে সেগুলি আমরা করে দেখাব। শনিবার শ্রীনিকেতনে হলকর্ষণ উৎসবে একথা জানিয়ে বেশকিছু ঘোষণা করেন বিশ্বভারতীর উপাচার্য প্রবীরকুমার ঘোষ। এদিন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অসম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য অমরনাথ মুখোপাধ্যায়। ফিরে চল মাটির টানে সমবেত নৃত্য প্রদর্শন করে শিক্ষাসত্রের কচিকাঁচারা।
এদিন প্রধান অতিথি বলেন, একসময় দেশে মাত্র ৫০টন খাদ্য উৎপাদন হতো। সেটা যথেষ্ট ছিল না বলে দুর্ভিক্ষ হতো, অনাহারে মানুষ মারা যেত। তখনই কবিগুরু ভেবেছিলেন কৃষিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। গ্রামের মাধ্যমেই হতে পারে কৃষির উন্নতি। কৃষকরা এগিয়ে আসতেই শুরু হয় সবুজ বিপ্লব। বর্তমানে ভারতবর্ষে ৩৭৫মিলিয়ন টন খাদ্য উৎপাদন হয়। ১৪৫কোটি মানুষ খাচ্ছে। সারা পৃথিবীতে দুধ উৎপাদনে ভারত প্রথম স্থানে রয়েছে। তবে পাশ্চাত্যের প্রভাবে এদেশে হলকর্ষণের মতো অনুষ্ঠান মানুষ ভুলে যাচ্ছে। উপাচার্য বলেন, কৃষিকাজ ছাড়া দেশের উন্নতি সম্ভব নয়, একথা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বহু আগেই বুঝেছিলেন। তিনি কৃষির সঙ্গে বিজ্ঞানকে জুড়েছিলেন। পল্লিনির্ভর কৃষি ও সমবায়ের চিন্তাধারা ছিল তাঁর মধ্যে। পল্লি ও কৃষিকে কীভাবে একসঙ্গে জোড়ার যে চিন্তা, তারই ফসল আজকের শ্রীনিকেতন। শ্রীনিকেতনে একটি অডিটোরিয়াম করা হবে। পার্শ্ববর্তী মানুষজনের জন্য হাসপাতাল গড়ে তোলা হয়েছিল। সেটি বন্ধ রয়েছে। খুব শীঘ্রই হাসপাতালটি চালু করা হবে। শ্রীনিকেতনে খুব তাড়াতাড়ি সমন্বিত কৃষি ব্যবস্থা তৈরি করা হবে। যেখানে পশুপালন, উদ্যানপালন, কৃষি, মাশরুম চাষ, মৌমাছি পালন প্রভৃতি একসঙ্গে করা হবে।