সংসারে থেকে শ্রীরামকৃষ্ণদেব, শ্রীশ্রীমা সারদাদেবীকে আদর্শস্বরূপ মেনে চলাতেই আমাদের সকলের মঙ্গল। নিজের ইষ্টদেবতারই মন্ত্র নিরন্তর মন দিয়ে সর্বক্ষণ জপ করতে থাকো, এবং তাঁর উপর নির্ভর করে থাকো। এমনিও তিনি তোমার প্রত্যেকটি মনোবাঞ্ছা অবশ্যই পূর্ণ করবেন কিন্তু যদি তুমি অত্যাধিক ব্যাকুল হও তবে তুমি ওনার কাছে প্রার্থনা করতে পারো। মন্দিরে কালীমাতার পূজা করছো বেশ, কিন্তু ওনাকেও নিজের ইষ্টদেবতাই মনে করো, তিনি অভিন্ন। আমাদের জন্য তন্ত্র মন্ত্র সব আমাদের প্রভুই আছেন।
‘উপাসনা পদ্ধতি’ অনুযায়ী জপ-ধ্যানাদি যতদূর পার করতে থাকো। জপ-ধ্যান খুব উৎসাহের সঙ্গে নিঃসন্দেহে করো যখন তোমার মন ক্রমশঃ জপ করতে সহজে একাগ্র হবে তখন ক্রমে মন পবিত্র ও নির্মল হয়ে উঠবে। রামকৃষ্ণ-বিবেকানন্দ সাহিত্য যতদূর পার পড়তে থাকো। আমি তোমার জন্য প্রভুর কাছে প্রার্থনা করি। নিজের মন্ত্রে ‘নমঃ’ নিজের মনে জুড়ে দিও না।
চূড়ান্ত পরীক্ষার জন্য এখন থেকে তৈরী হয়। ছাত্রের জন্য অধ্যয়নই সর্বোত্তম সাধনা।
সংসারের স্বরূপ ভাল করে বুঝে নাও। এর অর্থ হল যে তোমার নিজের মনের স্বরূপ এবং তোমার সংস্কারের সঙ্গে ভালোভাবে পরিচিত হওয়া। শান্ত থাকো এবং নিজের মনের বৃত্তিগুলোকে অবলোকন করতে থাকো। যখন রাতের অন্ধকার গভীর বলে মনে হয় তখন ভোরের আলো ফোটার প্রস্তুতিও শুরু হয়ে যায়, এটাই মনে করো। আমি তোমার ভালোর জন্য শ্রীশ্রীঠাকুরের কাছে প্রার্থনা করি।
মন্ত্রের জপ যান্ত্রিক করো না। এই রকম করলে মনে একটা অভিমান উৎপন্ন হয়। জপ এইভাবে করতে হয় যেমন কোন মা তার হারিয়ে যাওয়া সন্তানের চিন্তায় দিনরাত কান্নাকাটি করে। জপ করার উদ্দেশ্য তাই। আর ওটা তখনই সম্ভব যখন তোমার মন এই জগতে জঞ্জাল থেকে সরে শুদ্ধ পবিত্র হয়ে উঠবে। বর্তমানে আঙ্গুল (কর) দিয়ে জপ করো। জপের উদ্দেশ্য হচ্ছে মনকে নির্মল, পবিত্র করা, সুতরাং জপে প্রত্যেকটি বর্ণের উচ্চারণে শরীর, মন, বুদ্ধি ইত্যাদি তোমার সত্তার প্রত্যেকটি অঙ্গকে যতদূর সম্ভব উপভোগ করতে হবে। যেমন কাপড়ে রং করার সময় দেখতে হয় কাপড়ের প্রত্যেক ভাগে রং হয়েছে কিনা, সেইরূপ জপ করার সময় তোমার পুরো সত্তাকে লাগিয়ে দাও যেন সে ওটাতেই রঙিন হয়ে যায়।
যেমন চিত্র দেখতে চাইছ দেখে নাও। যতক্ষণ না মন ভরে যায়। তারপর আর চিত্র দেখতে ইচ্ছা হবে না।
‘মধু সঞ্চয়ন’ (স্বামী গহনানন্দ উক্তি সংগ্রহ) থেকে