Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সারাদিনে মাত্র ২টি ট্রেন, বঞ্চনার শিকার আহমদপুর-কাটোয়া শাখা, ক্ষুব্ধ যাত্রীরা

সারাদিনে মাত্র ২টি ট্রেন, বঞ্চনার শিকার আহমদপুর-কাটোয়া শাখা, ক্ষুব্ধ যাত্রীরা
  • ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, সিউড়ি: আহমদপুর-কাটোয়া রেল পথে সারাদিনে চলে মাত্র দুই জোড়া লোকাল ট্রেন। তাও আবার বেলা ১২টা ৫০ মিনিটের পর আহমদপুর কাটোয়া যাতায়াতের কোনও ট্রেন নেই। ফলে চরম সমস্যায় পড়তে হয় রুটের নিত্যযাত্রীদের। এই রুটে ট্রেন কম থাকায় ব্যবসায়িক ভাবেই কোনও সুবিধা পাচ্ছেন না এই রুটের বিভিন্ন গ্রামের সব্জি, ফুল, মাছ সহ অন্যান্য ব্যবসায়ীরা। অথচ এই রুটে ট্রেন বৃদ্ধি পেলে আহমদপুর থেকে কাটোয়ার মধ্যে ব্যবসা সংক্রান্ত যোগাযোগ আরও উন্নত হবে। দীর্ঘদিন ধরেই এই রুটে ট্রেন চলাচল নিয়ে কোনও গুরুত্ব না থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের।  
Advertisement
আহমদপুর-কাটোয়া নতুন ব্রডগেজ লাইনকে গুরুত্ব দিয়ে সিউড়ি বা সাঁইথিয়ার সঙ্গে কাটোয়া, কৃষ্ণনগর হয়ে কলকাতার সঙ্গে রেল যোগাযোগ তৈরির দাবি যাত্রীদের। স্থানীয় নিত্যযাত্রীদের একাংশের অভিযোগ, আহমদপুর থেকে কাটোয়া নতুন ব্রডগেজ লাইনটি গুরুত্বহীন হয়ে পড়ে রয়েছে। কয়েকশো কোটি টাকা খরচ করে নির্মিত এই ৫১ কিলোমিটার যাত্রা পথে সারাদিনে মাত্র দু’টি লোকাল ট্রেন যাতায়াত করে। অথচ এই লাইনটিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হলে সিউড়ি, সাঁইথিয়া, রামপুরহাট, দেওঘর, কলকাতা, উত্তরবঙ্গ সহ বীরভূমের আশপাশের এলাকার মানুষের কাছে কৃষ্ণনগর এবং কলকাতা যাওয়ার ক্ষেত্রে আরও একটি রেলপথ খুলে যাবে। এর ফলে একদিকে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে বীরভূম হয়ে নদীয়া জেলার ব্যবসায়িক পথ আরও সুগম হবে। পাশাপাশি পর্যটনের ক্ষেত্রেও চাহিদা বাড়বে বীরভূমের তারাপীঠ সহ পঞ্চপীঠ এবং বোলপুরের পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে। একই সঙ্গে এই জেলার মানুষের কাছে কৃষ্ণনগরের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রগুলির গুরুত্বও বাড়বে বলে সাধারণ মানুষের দাবি। 
আহমদপুরের স্থানীয় ব্যবসায়ীদের একাংশের অভিযোগ, আহমদপুর জংশন স্টেশন দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। সেখানে একদিকে উত্তরের সঙ্গে রেল যোগাযোগ রয়েছে, অন্যদিকে কাটোয়ার সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে। এই রুটে দিনে দু’টি লোকাল ট্রেন কাটোয়া থেকে সকাল ৮টা ২০ মিনিটে এবং ১০টা ৩২ মিনিটে আহমদপুরের উদ্দেশ্যে ছাড়ে ও আহমদপুর থেকে সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে এবং ১২টা ৫০ মিনিটে দু’টি ট্রেন কাটোয়া যায়। এরপর আর কোনও ট্রেন চলে না। এই রুটে চৌহাট্টা, গোপালপুরগ্রাম, লাভপুর, কীর্ণাহার, দাশকলগ্রাম সহ একাধিক জায়গা থেকে আহমদপুরে বিক্রি করতে আসেন সব্জি, ফুল, মাছ বিক্রেতারা। সকালে তাঁরা ট্রেনে আসার সুযোগ পেলেও বিকেলে আর ট্রেনে বাড়ি ফেরার সুযোগ পান না। বেশি ভাড়া দিয়ে বাসে যাতায়াত করতে হয় তাঁদের। তাই এই রুটে ট্রেন বাড়লে এলাকার বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের সুরাহা হবে। এই রুটে ট্রেন বৃদ্ধি হলে কাটোয়া থেকে কলকাতা ও এদিকে উত্তরের সঙ্গে দক্ষিণের এবং সিউড়ি অণ্ডাল, রামপুরহাট, দেওঘর, বোলপুর সব দিকেই যোগাযোগ আরও বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু রেল এই লাইনকে বিশেষ গুরুত্ব না দেওয়ায় হতাশ সকলেই। আহমদপুরের সব্জি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ইউনিয়নের সদস্য গৌরাঙ্গ দে বলেন, এই রুটে দিনে মাত্র দু’টি ট্রেন চলে। তাতে আমাদের কোনও লাভ হয় না। দুপুর একটার পর কটোয়া ফেরার ট্রেন নেই। এই রুটে ট্রেন বাড়ালে ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে গোটা জেলা তথা রাজ্যের মানুষ উপকৃত হবেন। বিকেলের দিকে ট্রেন না থাকায় আহমদপুরের প্ল্যাটফর্মটি সন্ধ্যার পর সমাজবিরোধী ও নেশাড়ুদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ